নিরাপত্তা পরিষদের অবস্থানে ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন

আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলান ডেস্কঃইরান ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আবারও ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার সংস্থাটিতে ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রস্তাব তোলে ওয়াশিংটন। তবে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৩টি দেশই যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় এটি খারিজ হয়ে যায়। এর আগে গত শুক্রবারও ওয়াশিংটনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল ওই ১৩ টি দেশ। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, আল-জাজিরা, ডয়চে ভেলে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি ইরান ভঙ্গ করেছে, এই অভিযোগে নতুন করে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন। গত সপ্তাহে জাতিসংঘে এই প্রস্তাব দেয় তারা। যে প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব এনেছিল, তাকে কূটনৈতিক পরিভাষায় বলা হয় ‘স্ন্যাপব্যাক’। তবে এটি উত্থাপনের পরপরই সংস্থাটির অন্য সদস্য দেশগুলো এর বিরোধিতা করে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালুর আবেদন করেছে তা নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’ মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে এক বৈঠক করেন নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি দিয়ান ত্রিয়ানসিয়াহ দিজানি। জাতিসংঘে নিযুক্ত প্রতিনিধির দেশ ইন্দোনেশিয়া এবার পরিষদের সভাপতিত্ব করছে। রাশিয়া ও চীনের করা এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে পরিষদের অবস্থানের কথা জানান দিজানি, তবে তার এই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন স্থায়ী প্রতিনিধি। আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার পর মার্কিন প্রতিনিধি কেলি ক্রাফটের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা দেশগুলো সন্ত্রাসীদের সমর্থন করছে। তিনি বলেন, ‘একটা ব্যাপার পরিষ্কার করতে চাই, পক্ষে কেউ না থাকলেও এই ব্যাপারে অটল থাকতে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও ভয় নেই। আমার একমাত্র অনুশোচনা এই পরিষদের অন্য সদস্যরা তাদের পথ হারিয়েছে এবং এখন সন্ত্রাসের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে।’ ইন্দোনেশিয়ার এই বক্তব্যের পর ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রচেষ্টার অবসান হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া আশা প্রকাশ করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালুর চেষ্টা থেকে এখন সরে যাবে। তার সহকারী দিমিত্রি পোলিয়ানস্কি টুইটারে ইন্দোনেশিয়ার এই বক্তব্যের মূল কথা তুলে ধরেছেন কয়েকটি শব্দে, ‘এর মানে হলো, আর কোনও স্ন্যাপব্যাক নেই।’ গত সপ্তাহে মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেও বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে তারা জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি লিখেছে। দুদিন যেতেই যুক্তরাষ্ট্রের এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে চিঠি লেখে নিরাপত্তা পরিষদের ১৩ দেশ, যা থেকে আমেরিকা ছাড়া বিরত ছিল কেবল ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত ওই পরমাণু চুক্তিতে জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সও যুক্ত ছিল। এই দেশগুলোর প্রত্যেকেই নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। ফলে এই দেশগুলো সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে প্রস্তাবটি এমনিই খারিজ হয়ে যায়। গত কয়েক বছরের কূটনীতিতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বরিস জনসনের সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘে সেই বন্ধুত্বও কাজ করলো না। নিরাপত্তা পরিষদের অন্য দেশগুলোর এমন অবস্থানে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দাবি করছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অর্থ হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন করা। ইরানের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞার দাবিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। নভেম্বরে নির্বাচনের আগে দেশের ভেতরে কিছুটা হলেও পিছিয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। করোনায় প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করছে দেশের একটা বড় অংশ। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পকে খানিকটা পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন। এই পরিস্থিতিতে জাতীয়তাবাদের রাস্তায় হেঁটে মানুষের সমর্থন নিজের দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ সেখান থেকেই।

SHARE THIS ARTICLE