বাইডেনকে ঠেকানোর জন্য চলছে ষড়যন্ত্র

আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাইন ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার সুইং স্টেটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গতবারের ভুল শুধরে এবার ডেমোক্রেটরা সুইং স্টেটগুলোতেও প্রচারে এগিয়ে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের গতকালের জরিপ বলছে, আগাম ভোটের হিসাবে অধিকাংশ রাজ্যেই রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন রিপাবলিকান প্রার্থী জো বাইডেন। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, নির্বাচনের কয়েক দিন আগে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রথম শ্রেণির চিঠি বিলির গতি স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেছে। এমনটা হলে বাইডেনকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে মিশিগানের কয়েকটি শহর থেকে প্রথম শ্রেণির চিঠি বিলির গতি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ধীর হয়ে পড়েছে। নতুন করে নেওয়া ব্যয় সংকোচন নীতির কারণেই এই ধীরগতি। বিশেষত ডেট্রয়েট শহরে চিঠি বিলির এ বিলম্ব ডেমোক্রেটিক প্রার্থী এবং জো বাইডেনের প্রচার দলের জন্য সমস্যা বলে দেখা যেতে পারে। যদিও ডাক বিভাগ এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে পোস্টাল শ্রমিক ইউনিয়ন বলছে, সময়মতো ব্যালট পৌঁছে দিতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য মিশিগানে ডেমোক্রেটদের শক্ত অবস্থান বলে বিবেচিত ডেট্রয়েট, অ্যান আরবর এবং হ্যামট্রামাক শহর থেকে প্রায় ১৫০টি প্রথম শ্রেণির চিঠি পাঠায় ব্রিটিশ গার্ডিয়ান। ডাকযোগে পাঠানো ভোটগুলো যে পথ ধরে বিলি হবে সেই একই পথ ধরে ওই চিঠিগুলো পাঠানো হয়। এতে তারা দেখেছেন, প্রায় ৮৩ শতাংশ চিঠি সময়মতো পৌঁছেছে। কিন্তু ডেট্রয়েট শহরে এ সেবা সবচেয়ে জঘন্য। প্রায় ৩৬ শতাংশ চিঠি পৌঁছেছে তিন দিন দেরিতে আর একটি চিঠির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের আগে শহরটির ১ লাখ ৭০ হাজার বাসিন্দা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন। এদের বড় অংশই ডেমোক্রেট সমর্থক।

গত নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতলেও ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ১০ হাজার। সম্প্রতি মিশিগানের এক বিচারক রায় দিয়েছেন, ডাকযোগে পাঠানো ভোট বিলম্বে পৌঁছলে তা গণনা করা হবে না। অথচ নির্বাচনের চূড়ান্ত সপ্তাহেও প্রায় ৭০ হাজার ডাক ভোট পৌঁছাতে পারেনি ডেট্রয়েট শহরের পোস্টাল কর্র্তৃপক্ষ। মহামারীর আগে ট্রাম্প নিযুক্ত পোস্ট মাস্টার জেনারেল লুইস ডেজয় এই গ্রীষ্মে যে পরিবর্তন আনেন তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক ব্যবস্থায় সময়মতো চিঠি পৌঁছানোর হার প্রায় ৯৫ শতাংশ। তবে ব্যয় কমানোর নতুন কৌশলের কারণে চিঠি বিতরণের গতি ধীর হয়ে পড়েছে।

মিশিগানের আমেরিকান পোস্টাল শ্রমিক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট রসকোয়ে উডস বলেন, ‘মহামারী এবং অন্যান্য পরিবর্তনের কারণে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন করে তুলেছে। আমরা এখনো চেষ্টা করছি। কোনো অতিরিক্ত সুবিধা না পাওয়া এবং কভিডের কারণে আমাদের শ্রমশক্তি ব্যাহত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডাক সেবার ক্ষেত্রে তারা ব্যালট পৌঁছানো এবং নির্বাচনের চিঠির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতি শিফটের কর্মীরা চিঠির স্তূপ থেকে ব্যালটের চিঠিগুলো আলাদা করে ফেলছে আর সেগুলো বিতরণের প্রক্রিয়া জোরালো করছে ফলে উডস আত্মবিশ্বাসী যে প্রথম শ্রেণির চিঠির চেয়ে ব্যালটের চিঠিগুলো আরও দ্রুত বিলি করা সম্ভব হচ্ছে। কর্মীরা অতিরিক্ত সময়ও কাজ করছে বলেও জানান তিনি। গত গ্রীষ্মে কর্মীদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে দেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় পোস্ট মাস্টার জেনারেল।

SHARE THIS ARTICLE