অবসর সময় কাজে লাগানোর সুন্দর উপায়

কাসেম শরীফ– সুস্থতা মানুষের অমূল্য সম্পদ। অসুস্থ হওয়ার পর সুস্থতার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। তাই সময় ও সুস্বাস্থ্যের প্রতি সর্বাবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

যদিও বেশির ভাগ মানুষ এ ব্যাপারে খুবই উদাসীন। অসংখ্য হাদিসে সময়ের সঠিক ব্যবহারের তাগিদ রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে বেশির ভাগ মানুষ ধোঁকাগ্রস্ত হয়। একটি হলো সুস্থতা। অন্যটি হলো অবসর।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৬৪১২)। কাজেই হোম কোয়ারেন্টিনের এই দিনগুলো জীবন্ত ও প্রাণবন্ত করে তুলুন। নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করান। জীবনের হালখাতা তৈরি করুন। করোনাভাইরাস একদিন অবশ্যই শেষ হবে। সেদিন থেকে একটি নতুন পৃথিবী মানুষ দেখতে পাবে। সেই পৃথিবীর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন। জীবনের গতিপথ বদলে দিন। নিজেকে শুধরে নিন। হাতের কাছে বই থাকলে পড়ুন। ইন্টারনেট থেকে সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করুন। ধর্মীয় বিষয়ে আপনার জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করুন। স্ত্রীকে নিয়ে জামাতে নামাজ পড়ুন। সন্তানদের প্রয়োজনীয় আদব-কায়দা শিক্ষা দিন। ধর্মীয় বিধান পালন ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করে তুলুন।

মানুষের দেনা-পাওনার হিসাব করুন। অন্যের অধিকার হরণ করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করুন। ২৪ ঘণ্টার রুটিন তৈরি করুন। পারিবারিক কাজে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করুন। রমজানের প্রস্তুতি নিন এখন থেকেই। এবারের রমজান হোক পরিবর্তনমুখী রমজান, যে রমজান জীবনের বাঁক বদলে দিতে সক্ষম। শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখুন। মহানবী (সা.) শাবানের বেশির ভাগ দিন রোজা রেখেছেন। বেশি বেশি কোরআন পড়ুন। কোরআনের অর্থ শিখুন। কোরআন পড়তে না পারলে ইন্টারনেট থেকে কোরআন তিলাওয়াত শুনুন। অল্প অল্প থেকে শুরু থেকে শিখুন। সহিহ-শুদ্ধভাবে কোরআন পড়া ফরজ। সেদিকে মনোযোগ দিন। কোরআনের অংশবিশেষ মুখস্থ করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে তিনটি আয়াত মুখস্থ করুন।

অর্থসহ কমপক্ষে পাঁচটি আয়াত শিখুন। নোট করে রাখুন। প্রতিদিন এক লাইন কোরআন শিখলেও মাসে দুই পৃষ্ঠা শেখা হয়। সে হিসাবে সারা বছর পুরো এক পারা কোরআন মুখস্থ করা সম্ভব! এভাবে শিখতে থাকলে আপনারও হাফেজ হওয়ার সুযোগ আছে। শুধু আপনার প্রতিজ্ঞা ও প্রত্যয় দরকার। মোবাইলে সামান্য টাকা খরচ হলেও আত্মীয়-স্বজনের খবর নিন। সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, বুঝুন, জানুন।

গুজবে কান দেবেন না। মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রাখুন। সচেতন হোন, সচেতন করুন। মানুষকে অহেতুক সন্দেহ করবেন না। কেউ আক্রান্ত কিংবা মারা গেলে সে খারাপ, এমন ভাবনা পরিহার করুন। আপনার চেয়ে তার আমল অনেক বেশি হতে পারে। প্রতিদিন ১০০ বার ইস্তিগফার ও ১০০ বার দরুদ পড়ুন। অন্যরকম মানসিক প্রশান্তি পাবেন। সারাক্ষণ অজুর সঙ্গে থাকতে চেষ্টা করুন। এতে হাত ধোয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পবিত্র থাকা যাবে।

প্রতিবার অজুতে তিনবার করে হাত কবজি পর্যন্ত এবং তিনবার করে কনুই পর্যন্ত ধৌত করতে হয়। এতে প্রতি অজুতে ছয়বার হাত ধৌত করতে হয়। আর দিনে পাঁচবার অজু করা হলে মোট ৩০ বার হাত ধৌত করতে হয়। ফরজ ও নফল নামাজের বাইরে সব সময় অজুর সঙ্গে থাকা মুস্তাহাব। আর একজন মানুষ প্রতিদিন কমপক্ষে চার-পাঁচবার প্রস্রাব করে এবং একবার বাথরুম করে। এ ছাড়া নানা কারণে অজু ভেঙে যেতে পারে। সব মিলিয়ে যদি আরো পাঁচবার অজু করা হয়, তাহলে কমপক্ষে ১২ বার অজু করা হয়। তাহলে একজন মুসলমান যথাযথভাবে ইসলামের বিধান মেনে চললে তাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭২ বার হাত ধৌত করতে হয়। মহামারি ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে বাঁচতে হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলো পড়ুন। ঘরে থাকাটাই এখন ইবাদত। তাই বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাবেন না। ঘরে বউ-বাচ্চাদের নিয়ে তালিম করুন।

সকাল-বিকেল ১০০ বার করে ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করুন। এতে মহান আল্লাহ আপনাকে পরকালে সৃষ্টিকুলের সব মানুষ থেকে বেশি মর্যাদা দান করবেন। (আবু দাউদ তাহকিককৃত, হাদিস : ৫০৯১) সকালে ১০০ বার ও সন্ধ্যায় ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করুন। এতে কিয়ামতের দিন আপনার চেয়ে বেশি সওয়াব নিয়ে আর কেউ উপস্থিত হতে পারবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৫৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন) এক মিনিটে আপনি ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লিহিল আজিম’ ৫০ বার পড়তে পারেন। এ দুটি বাক্য পড়তে সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী, আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। (বুখারি ও মুসলিম) করোনাভাইরাস আমাদের সাদাসিধা জীবনের কথা বলছে।

কর্মব্যস্ততার দরুন নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় হয়নি। এখন নিজেকে নিয়ে ভাবুন। নিজের চিন্তা পুনর্গঠন করুন। আমি-আপনি এখনো সুস্থ আছি, আলহামদুলিল্লাহ। এর কৃতজ্ঞতা হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। পারলে এখনই জাকাত আদায় করুন। রমজানে জাকাত দিলে এক-এ ৭০, তাই রমজানে দেব—এমন চিন্তা পরিহার করুন। এই দুঃসময়ে জাকাত দিয়ে এক-এ ৭০০ নেকি হাসিল করা সম্ভব। কেননা এক-এ ৭০-এর কথা হাদিসে আছে। কিন্তু এক-এ ৭০০-এর কথা কোরআনে আছে। এ কথাটি কোরআনের সুরা বাকারার ২৬১ নম্বর আয়াতে আছে। খুলে দেখুন।

মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তওফিক দান করুন।

SHARE THIS ARTICLE