আজ জেলহত্যা দিবস

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ আজ ৩ নভেম্বর। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কারাগারের মতো কঠোর নিরাপত্তা প্রকোষ্ঠে এ ধরনের নারকীয় হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।

তাঁদের গুলি করে ও বেয়নেট বিদ্ধ করে হত্যা করেছিল একদল সেনা সদস্য। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার ৮০ দিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটানো হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনকের ধানমণ্ডির বাড়িতে তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মোশতাক জাতীয় চার নেতাকে তার সরকারে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়। স্বাধীনতাযুদ্ধে একসঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়া এসব নেতা এ প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। ব্যর্থ মোশতাক ২৩ আগস্ট তাদের গ্রেফতার করেন। এ ঘটনার পর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা দেশ ছেড়ে নির্বাসিত হওয়ার পরিকল্পনা করে। তবে দেশত্যাগের আগে তারা জাতীয় এই চার নেতাকে হত্যা করে যান।

জেলহত্যার প্রায় ২৯ বছর পর এর বিচার কাজ শুরু হয়। ২০০৪ সালের ২০শে অক্টোবর তিনজন পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ১২ জন সেনা কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ মামলায় খালাস পান বিএনপির চারজন সিনিয়র নেতাসহ পাঁচজন।

২০০৮ সালের ২৮শে আগস্ট বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ জেলহত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছয়জন সামরিক কর্মকর্তাকে খালাস দেয়। খালাস পাওয়াদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা এবং এ কে এম মহিউদ্দীন আহমেদকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১০ সালে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বাকী দুই খালাসপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রতি বছর জেল হত্যা দিসবটি পালন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সংগঠন। দিবসটির ৪৭তম বছরে এসে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করবে আওয়ামী লীগ।

সকাল ৭টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনসহ মহানগরের প্রতিটি শাখার নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ই আগস্টের কালরাতে নিহত সকল শহীদ ও কারাগারে নির্মমভাবে নিহত জাতীয় নেতৃবৃন্দের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

একই সময়ে রাজশাহীতে জাতীয় নেতা শহীদ কামারুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও মোনাজাত করা হবে।

বিকাল তিনটায় জেলহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল সাংগঠনিক জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন শাখা এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সর্বস্তরের জনগণকে আগামীকাল ৩ নভেম্বর যথাযথ মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলহত্যা দিবস পালনের জন্য বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

SHARE THIS ARTICLE