
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিশু বয়স থেকেই অত্যান্ত মেধাবী হিসেবে সকল মহলে সুপরিচিতি পান। স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদের বিভিন্ন দাবি ও অধিকার নিয়ে সংগ্রাম মুখর ছিলেন।জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন কালে ছাত্র সমাজের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এসময় তিনি বাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৮০ এর দশকে তিনি ডাকসুর জিএস নির্বাচিত হন।

এসময় তিনি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে জাতীয় পার্টির পতাকা তলে যোগ দেন। তৎকালীন সফল সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তখন জিয়াউদ্দিনআহমেদ বাবলুকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি উপমন্ত্রী ও মন্ত্রীহিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে দুই বছর এবং ২০২০ সালের ২৬ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শনিবার (২ অক্টোবর) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয় জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে।
এমনটা জানিয়েছে জাপা চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টায় রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।
এরপর বেলা ১টায় প্রয়াত নেতার কফিনবাহী গাড়িটি জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছালে দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও রাজনৈতিক অনুসারীরা তার মরদেহ বহনকারী গাড়িতে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় মাইকে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জাপা নেতারা। এরপর বাদ এশা গুলশান আজাদ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় দাফনের জন্য।
জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ছিলেন গণমানুষের নেতা। তিনি ছাত্র জীবন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গণমানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। ছাত্র জীবনেই তাঁর অনুপম নেতৃত্ব প্রকাশ হয়েছিল। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন ডাকসুর জিএস। মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সবসময় ছিলেন আপোষহীন। তিনি অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন আজীবন। জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ছিলেন গণমানুষের কন্ঠস্বর। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা সহসাই পূরণ হবার নয়। জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু তাঁর কল্যাণময় কর্মের মাঝে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন।জাতীয় পার্টির মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক ডাকসু জিএস জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু’র মৃত্যুতে জাতীয় চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাবলুর মরদেহে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ।
জাপা সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে একবার লাইফ সাপোর্টেও নেওয়া হয়েছিল।