বাজেট জনগণের দুঃখ-কষ্ট আরো বাড়াবে: ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সংকট এখন চতুর্মুখী। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষয়ে যাচ্ছে। আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়েছে। তা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো এলসি দায় পরিশোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা মুডি’স বাংলাদেশের ঋণমান এক ধাপ কমিয়ে বিএ৩ থেকে বি১-এ নামিয়ে দিয়েছে।

এ ধরনের দুর্যোগপূর্ণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ সরকারের কাছে একটি বিশেষ ধরনের বাজেট প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সরকার থেকে বিশাল অংকের যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি একেবারেই সাদামাটা। বাজেটের খুবই অল্প কিছু ভালো দিক আছে। তবে সেটির পরিমাণ একেবারেই ছিটেফোঁটা। দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির যাঁতাকলে দেশের সাধারণ মানুষ পিষ্ট হচ্ছে। ঘোষিত বাজেট জনগণের সুরক্ষা না দিয়ে বরং দুঃখ-কষ্ট আরো বাড়াবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অনেক রূপকল্পের কথা বলা হয়েছে। আছে নানা অর্জন আর প্রত্যাশার কথা আছে। কিন্তু কোনো বিষয়েই সুর্নিদিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। রূপকল্পের স্বপ্ন দেখলে সেটি বাস্তবায়নের রোডম্যাপও থাকতে হয়। অর্থমন্ত্রী অনেকটা শুয়েবসে গোল দিতে চাচ্ছেন। তিনি হয়তো ভুলে গেছেন, গোল করতে হলে মাঠে ছুটতে হয়। এক বছরের বাজেট দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো খাতকে পুরোপুরি বদলে দেয়া যায় না। কিন্তু বাজেটে কোনো খাতকে বদলে দেয়ার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে কোনো খাতকেই বদলে দেয়ার রোডম্যাপ প্রস্তাবিত বাজেটে নেই। 

সরকার গত এক যুগেও টেক্স-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে পারেনি। এখন হঠাৎ করেই বাড়িয়ে ফেলবেন, এটি বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। সরকার বিভিন্ন খাতে ভ্যাট বাড়িয়েছেন। ভ্যাট ধনীদের জীবন মানে কোনো পরিবর্তন না আনলেও গরিবের জীবন ধারণে বড় প্রভাব ফেলে। সরকার ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করে বিপুল অংকের ঘাটতি বাজেট ঘোষণা করছে। ব্যাংক থেকে ঘোষিত পরিমাণ ঋণ নিলে দেশের বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের মতো টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দিলে মূল্যস্ফীতি উসকে উঠবে। দেশের ব্যাংক খাত এখন দুষ্টচক্রে বন্দি। সুশাসনের ঘাটতি, খেলাপি ঋণের উচ্চহার, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈন্য নিয়ে অর্থমন্ত্রী কোনো কথা বলেননি। অথচ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দরকার ছিল। 

SHARE THIS ARTICLE