বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে গ্রেপ্তারের পর সন্ধ্যায় প্রিজনভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

এর আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের জুয়েলসহ অন্তত ২০-২৫ জনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, আমানউল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ অন্তত শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আটক বা গ্রেপ্তারের কোনও সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।

এদিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। দলীয় কার্যালয় থেকে কেন্দ্রের শীর্ষপর্যায়ের নেতাসহ অন্তত দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’

এর আগে সন্ধ্যা ৫টা ৬ মিনিটে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) বিপ্লব কুমার সরকারের নেতৃত্বে ডিবির মতিঝিল বিভাগের একটি ইউনিটসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রবেশ করে। তারা কার্যালয়ের ভেতরে অভিযান চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, পল্টন থানা হাজতে আসামি রাখার জায়গা না থাকায় গ্রেপ্তারদের শাহবাগ ও আশাপাশের অন্যান্য থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এর আগে দুপুরের পর থেকে বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে দরজা লাগিয়ে অবস্থান নেন যেসব নেতাকর্মী, তাদের দরজা ভেঙে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে আটকের পর ১৩ থেকে ১৪টি প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুই শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার: মির্জা ফখরুল

এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় গুলিতে মকবুল হোসেন নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।

বুধবার বিকাল তিনটার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল থেকেই নয়াপল্টনে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে জমায়েত বড় হয়ে রাস্তার এক পাশ বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

SHARE THIS ARTICLE