
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ মেয়র গাড়িতে বসে জানালা দিয়ে একটি বেত উঁচিয়ে রেখেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আর এক ভ্যানচালক যুবক দুই হাত পেতে দিয়েছেন- এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল বিকেল থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। নগরের চৌহাট্টা জিন্দাবাজারের মধ্যবর্তী শ্যামলী মার্কেটের সামনের রাস্তার এই ছবি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
সমালোচনাকারীরা বলছেন, ‘মেয়র কোনোভাবেই একজন নাগরিকের ওপর হাত তুলতে পারেন না। এটা স্বেচ্ছাচারী আচরণ।
বিজ্ঞাপন’ অন্যদিকে মেয়র আরিফুল হকের দাবি, তিনি কাউকে বেত্রাঘাত করেননি। নিষেধ দেওয়ার পরও রাস্তার পাশে ভ্যান রাখায় তিনি শুধু ভয় দেখাতে লাঠি হাতে নিয়েছেন। আঘাত করেননি।
জানা গেছে, শনিবার বেলা দেড়টার দিকে নগরের জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ বাণিজ্যিক ভবনের ঠিক বিপরীতে এ ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বেলা দেড়টার দিকে মেয়র জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টার দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি শ্যামলী মার্কেটের পাশে একজন ভ্যানচালককে ভ্যান দাঁড় করিয়ে মালামাল ওঠাতে দেখেন। ভ্যানটি একটি সিগারেট কম্পানির ছিল। এসময় তিনি রাস্তার মধ্যেই গাড়ি দাঁড় করে চালককে ডেকে আনেন। এসময় তার হাতে দুটি বেতের বাড়ি দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি পোস্ট করে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অনেকে। তারা বলছেন, ‘ভ্যানচালক দোষ করলে মেয়র তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে পারতেন। কিংবা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারতেন। কিন্তু একজন নাগরিককে বেতের বাড়ি দিয়ে শাসন করার কোনো অধিকার বা এখতিয়ার তার নেই। ’
তবে বেত দিয়ে আঘাতের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি সিসি ফুটেজ ভালো করে দেখেন, আমি তাকে ধমক দিয়েছি এটা ঠিক আছে। বলেছি-এই এখানে কেন দাঁড়িয়েছ। কিন্তু আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি। আমি যখন ধমক দিয়েছি তখন সে ভয়ে হাত সামনে নিয়ে এসেছে। অথচ সেটাকে বলা হলো আমি বেত্রাঘাত করেছি। আমি এখনো এতো বিবেকহীন হইনি। ’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি ধমক দিয়েছি, দিচ্ছি, যাতে চলে যায়। এগুলো তো আমার জন্য করছি না। জনগণের সুবিধার জন্যই করছি। এটা না করলে আপনারাই তো লিখবেন, শহরে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে কেনাকাটা করতে যেতে পারছে না মানুষ। ’ নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘বেত্রাঘাত করলে তো হাতে দাগ পড়বে। সেটার ছবি কই? সেটা দেখান। ’
এ ঘটনার আগমুহূর্তে খানিকটা পেছনে একটি প্রাইভেট কার পার্কিং করা থাকলেও সেটিকে কিছু বলেননি এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রাইভেট গাড়ি একজন পাবলিক প্রকিসিউটরের (পিপি) ছিল। আমি যখন উনার গাড়ির কাছে গেছি তখন তিনি গাড়িতে ছিলেন না। চাবি উনার সঙ্গে ছিল। কিন্তু তিনি দূর থেকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বলছিলেন, আমি আসছি। গাড়ি সরিয়ে নিচ্ছি। এটা কী তারা দেখেননি? আমি সে গাড়িও সরিয়ে দিয়েছি। ’
ছবি ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা এক ধরনের সস্তা অপপ্রচার। শুধুমাত্র বিরোধীতা করার জন্য এই অপপ্রচার। কিন্তু কেউ যদি দায়িত্ব না নেয় তাহলে এগুলোর সমাধান কিভাবে হবে। আমি তো এসব আমার জন্য করছি না। সবাই যদি বলেন, ঠিক আছে আমি করব না। ’ তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘কিন্তু আপনি ইচ্ছেমতো ফুটপাত দখল করবেন, রাস্তা দখল করবেন, পার্কিং করবেন, কোনো আইন মানবেন না, অনুরোধ করে বললেও শুনবেন না আমরা তাহলে কোথায় যাবো?’
ঈদ পর্যন্ত রাস্তার পাশে কোনো ধরনের ভ্যানগাড়ি বা যানবাহন পার্কিং করা যাবে না জানিয়ে মেয়র আরিফুল হক বলেন, ‘আমরা তিন দিন আগে সকল পরিবহন নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সবাই সম্মিলিতভাবে অন্তত ঈদুল ফিতর পর্যন্ত এই কয়েকটা দিন আমাদের মা-বোন-বাচ্চারা কেনাকাটা করতে আসবে তাই এ জায়গাগুলো নিজেরা খালি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এজন্য পয়েন্টে পয়েন্টে শ্রমিকরা অনেক সহযোগিতা করছে-তারা নিজেরা স্বেচ্ছাবেবীদের নিয়ে দৌড়াচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আমি অনুরোধ করেছি দোকানের মালামাল আপনারা সকাল ১০টার আগে ভ্যান হোক, পিকআপ দিয়ে হোক নিয়ে আসেন। এই কয়টা দিন সকাল ১০টার পর রাত ১২ পর্যন্ত আপনারা আর ভ্যানগাড়ি বা গাড়ি ঢুকাবেন না। কারণ ভ্যানগাড়ি, গাড়ি জিন্দাবাজারে রাস্তার দুই পাশে দাঁড় করিয়ে রাখলে তো মানুষের হাঁটার জায়গা থাকবে না। যানজট থাকবে। মানুষ ভুগবে। ’