যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন কমলা হ্যারিস

আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাই ডেস্কঃ ইতিহাস গড়ে যুক্তরাস্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন কমলা হ্যারিস। ৫৫ বছর বয়সী এ রাজনীতিকই দেশটির প্রধান দুই দলের মধ্যে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও প্রথম এশীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করছেন। বুধবার ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনের তৃতীয় রাতে দলীয় মনোনয়ন গ্রহণ করেন ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমলা।

মনোনয়ন পাওয়ার পর ৩ নভেম্বরে জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে মার্কিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কমলা। একই সঙ্গে তিনি ব্যর্থ নেতৃত্বের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে করোনা মহামারীর সময়ে মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মানুষের জীবনজীবিকা।

কমলা আরও বলেন, ট্রাম্পের বিভক্তি সৃষ্টিকারী নেতৃত্ব দেশকে একটি ‘ইনফ্লেকশন পয়েন্টে’ বা আনত বিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তাই নির্বাচনে ট্রাম্পকে পরাজিত করতে বিভিন্ন গোত্রের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা যখন ভোট দেব সবকিছু পাল্টে যাবে। চলুন ভোট দেই।

কমলা আরও বলেন, আমাদের এমন একজন মানুষকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে, যিনি কৃষ্ণাঙ্গ, শ্বেতাঙ্গ, ল্যাতিনো, এশিয়ান বা যাযাবর- এর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন। সবাইকে এক চোখে দেখবেন। কারণ বর্ণবাদের কোনো ভ্যাকসিন নেই। এ জন্য আমাদের নির্বাচন করতে হবে জো বাইডেনকে। তিনি বলেন, দেশে অব্যাহত বিশৃঙ্খল অবস্থা আমাদের সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় নিয়ে গেছে। অযোগ্যতা আমাদের ভীত করে তুলেছে। কাণ্ডজ্ঞানহীনতা আমাদের নিঃসঙ্গ করে দিয়েছে।

সাবেক প্রসিকিউটর কমলা প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেট দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। শুরুতে তিনি ছিলেন ফ্রন্টরানার। একপর্যায়ে এসে তহবিল সংকটের কথা বলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। সেই থেকে আলোচনা থেকেও হারিয়ে যান কমলা। আবার তার পুনরুত্থান ঘটান ডেমোক্রেট দল থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী জো বাইডেন। তিনি তাকে রানিংমেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী ঘোষণা করেন। ফলে নতুন এক হাসি খেলে যায় কমলা হ্যারিসের মুখে। তাকে নিয়ে নতুন করে শুরু হয়ে যায় হিসাব-নিকাশ।

বুধবার রাতে ডেমোক্র্যাট সম্মেলনে বক্তা, মডারেটর ও বিভিন্ন পর্বে নারীদের অংশগ্রহণই বেশি ছিল; এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টিরও প্রদর্শনী হয়েছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে বাইডেনকে ট্রাম্প থেকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও নারী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর অবস্থান বেশ শক্তিশালী বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

৭৭ বছর বয়সী বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে, তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়া সবচেয়ে বয়সী রাজনীতিক। যে কারণে এক মেয়াদের বেশি তার হোয়াইট হাউসে থাকার সম্ভাবনা কম বলেও অনেকে মনে করছেন। সে ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কমলার সম্ভাবনাই সবচেয়ে উজ্জ্বল, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় কমলা আরও বলেন, তিনি প্রার্থী হয়ে ইতিহাস গড়তে পেরেছেন তার আগে কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া সেই নারীদের জন্য, যারা ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়েছিলেন। তারা সংগঠিত হয়েছিলেন, মিছিল করেছিলেন, লড়েছিলেন- কেবল ভোটের জন্যই নয়, টেবিলে আসন পাওয়ার জন্যও।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়া হিলারি ক্লিনটনও।

SHARE THIS ARTICLE