
মনিকা ইসলামঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে, সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ইউরোপের সর্ববৃহৎ সংগঠন অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা) অনলাইন প্লাটফর্ম জুমে এক ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করে।জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। সভার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ত্রিশ লক্ষ বীরশহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আয়েবা’ র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডাঃ জিন্নুরাইন জায়গীরদার এর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্বে করেন প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ডক্টর জয়নুল আবেদিন। ভাইস-প্রেসিডেন্ট বলেন আয়েবা’র ছোট- ছোট উদ্যোগগুলো দেশের উন্নয়নে অপরিসীম ভূমিকা রাখছে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে।
আয়েবা’র প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ডক্টর জয়নুল আবেদীন বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী সময়ে বিভিন্ন গঠন মূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছি যা বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে।
ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফখরুল আকম সেলিম বাঙালি জাতি হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করে বলেন, আমাদের বাঙালির জীবনে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে ,তিনি বলেন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এবং মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের সকলের মৌলিক অধিকারগুলো আমরা যেন দেশে-বিদেশে সমুন্নত রাখতে পারি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের দেশ যেভাবে আনন্দ করছে সেই আনন্দ আমাদের মাঝেও আছে,আমরা যেমনিভাবে আমাদের দেশের কল্যাণে এগিয়ে যাই, তেমনি আমরাও আমাদের অধিকারটুকু চাই —-মন্তব্য করেছেন আয়েবা’র মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ।তিনি আয়েবার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফখরুল আকম সেলিমের উদ্যোগে ফ্রান্সের তুলুজে স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনে বাংলাদেশী কমিউনিটির স্বপ্নের বাস্তবায়নের ভূয়সি প্রশংসা করে বলেন, এ প্রাপ্তি শুধু ফ্রান্স বাসীদের নয়, বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আজীবন। এছাড়াও আয়েবা মহাসচিব দেশপ্রেমিক কাজী এনায়েত উল্লাহ’র অনেক দিনের স্বপ্ন ফ্রান্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের। ২০১১ সাল থেকে ২০২১ অবধি বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে স্বপ্নদ্রষ্টা এনায়েতুল্লাহ কাজীর জাতির জনকের ভাস্কর্য স্থাপনের।
তুখোড় ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভিয়েনা থেকে জনাব আহমেদ ফিরোজ আয়েবার কার্য্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বারদের মধ্যে তারুন্যের গতি রয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়নে যেকোনো অসাধ্য সাধনে তারা সর্বদা প্রস্তুত। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস, বাংলার ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। বর্বর পাক হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যায় যাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সে সকল বীর শহীদদের।তিনি আরো বলেন– আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, স্বাধীনতা দেখেছি,দেখেছি জাতির জনকের বীরত্ব,নেতৃত্ব।
পর্তুগাল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব রানা তসলিম উদ্দিন স্বাধীনতার এই সুবর্ন জয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং শহিদি আত্নার আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করে জাতীয় ঐক্য এবং রাজনৈতিক স্থিতির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ত্রিশলক্ষ বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং দু’লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি জাতীয় দিনে আজ তাদের বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং যে সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে ছিল তাদের জন্য আন্তরিক অভিবাদন প্রকাশ করছি।জাতির জনকের হাতে গড়া শান্তিপূর্ণ দেশে বর্তমানে যে সাম্প্রদায়িকতা তৈরি হয়েছে প্রবাসের মাটিতে সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশীদের আত্মমর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে—ভাইস-প্রেসিডেন্ট রানা তাসলিম উদ্দিন।
এছাড়াও ভার্চুয়াল সভায় এক্সিকিউটিভ সদস্যদের মধ্যে আরও যারা বক্তব্য রাখেন-_শাহিনুল ইসলাম তালুকদার, আজহার কবির বাবু, এমদাদুল হক স্বপন, মনোয়ার পারভেজ, মিলি আলম, আঞ্জুমান আরা বিউটি, সোনিয়া, টি এম রেজা, তারেক আহমেদ।
বিশিষ্ট কবি ও লেখক ফৌজিয়া তালুকদার স্বরচিত একটি কবিতা পাঠ করেন এবং প্রত্যয়ীয়ই বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আরও বক্তব্য রাখেন আয়েবা’র কার্য্যনির্বাহি সদস্য সাংবাদিক নুরুল ওয়াহিদ, সাংবাদিক মনিকা ইসলাম এবং যুগ্ম মহাসচিব এম এ রব মিন্টু। তিনি বলেন স্বাধীনতার ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তীতে অশেষ ভালোবাসায় স্মরণ করছি জাতির পিতাকে, যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ পেত না একটি স্বাধীন দেশ, একটি লাল-সবুজের পতাকা।
পরিশেষে ইতালির রোমের স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী তাহেরুল ইসলাম এর সঙ্গীত পরিবেশন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা: জিন্নুরাইন জায়গীরদারের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় ভার্চুয়াল সভার।