হাড় জোড়া লাগাতে গিয়ে বানান পঙ্গু

আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাইন ডেস্কঃ ফেনীতে একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও বন্ধ করা যাচ্ছে না হাড় ভাঙার চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা। প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেকে সর্বশান্ত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। 

জানা গেছে, ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের জাব্বার মার্কেটের নিচতলায় গোলবক্স নামে একটি হাড় ভাঙার চিকিৎসালয়ে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসা দেন মঞ্জু ও স্বপন নামে দুই ব্যক্তি। 

সাহারা মার্কেটে এলাহিবক্স হাড় ভাঙার চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা দেন আল আজিজ, ইউনুছ সেন্টারের নিচতলায় গোলবক্সে চিকিৎসা দেন নুরুল আবছার, ন্যাশনাল প্লাজায় নিচতলায় গোলবক্সে মঞ্জু, পাঁচগাছিয়ার মাথিয়ারায় আলাবক্স এ জুলফিকার, আরেকটি আলাবক্সে রিয়াদ, তেমুহনী গোলবক্স হাসপাতালে দিদার, পাশে আরেকটি গোলবক্সে শাহাদাত নামে এক ব্যক্তি হাড় ভাঙার চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। 

জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সরকারি অনুমতি না নিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়ার অপরাধে জেল, জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা করলেও কিছুতেই থামছে না চিকিৎসার নামে এ অপচিকিৎসা। 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর পেয়ে হাড় ভাঙার চিকিৎসালয় বন্ধ করে পালিয়ে যায় প্রতিষ্ঠানের ভুয়া চিকিৎসকরা। জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাইনবোর্ডে নাম পরিবর্তন করে হাড় ভাঙার চিকিৎসালয়কে বিভিন্ন মেডিকেল হল ও ফিজিওথেরাপি নাম ব্যবহার করে হাড় ভাঙার চিকিৎসা নামে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে হরদম। 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের গঠিত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. শরফুদ্দিন মাহমুদ ও  সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র ল্যাবরেটরি টেকনোলজিষ্ট মো. এমরান ভূইয়ার নেতৃত্বে পরির্দশন টিম শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে গিয়ে দেখতে পায় সবগুলো হাড় ভাঙার চিকিৎসালয় চালু আছে। পরির্দশনের সময় সায়েরা মার্কেটে এলাহি বক্স হাড় ভাঙার চিকিৎসালয়ে ৭০ বছর ধরে আহত ব্যক্তিকে ভাঙার চিকিৎসা দিচ্ছে আল আজিজ। এ সময় প্রতিষ্ঠানের মালিক আল আজিজকে সর্তক করা হয় এবং হাড় ভাঙার চিকিৎসার নামে এ অপচিকিৎসা বন্ধ রেখে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে নির্দেশ দেয়া হয়।  

সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. শরফুদ্দিন মাহমুদ জানান, হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার পরির্দশনে গিয়ে জাব্বার মাকেটে সন্ধানী এক্সরে নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে সরকারের অনুমতি না নিয়ে কাযক্রম পরিচালনা করায় সর্তক করা হয়।

এছাড়া জনতা ক্লিনিক ও ট্রাংক রোড়ে মমতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকা এবং উপস্থিত কোনো ল্যাব টেকনোলজিস্ট না পাওয়ায় তাদেরকে কারণ দর্শাতে চিঠি দেয়া হয়।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে এ সব ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

SHARE THIS ARTICLE