অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতে প্রায় ছয় মাসে দেশটির আনুমানিক ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং তাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংস্থা।

জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো–অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানোর দিন মিয়ানমারের প্রধান একটি সশস্ত্রগোষ্ঠী সামরিক আগ্রাসন, সাধারণ মানুষের মৃত্যু ও সংঘাত বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমার সংকটে। জান্তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ ছাড়াও ছায়া সরকার ও সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোর যৌথ সেনাদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাত চলছে।

জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো–অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্স তাদের ওই প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকলে দেশটিতে সশস্ত্র সংঘাত-সংঘর্ষ, সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাতে নানা বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

ওসিএইচএ জানিয়েছে, থাইল্যান্ড সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমারের কারেন রাজ্য থেকে ১ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে গত মাসে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লক্ষাধিক। এছাড়া চিন রাজ্যে সেনা ও সশস্ত্র যোদ্ধাদের সংঘাতে বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি।

সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষে উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন ও শান রাজ্যে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই এসব সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।

মিয়ানমারের সবচেয়ে পুরনো ও অন্যতম বৃহত্তম সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীদের সশস্ত্র সংগঠন কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) জানিয়েছে, দেশজুড়ে সামরিক বাহিনীর অত্যধিক বলপ্রয়োগ ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির বিষয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) এক বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘সামরিক জান্তাদের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে কেএনইউ তাদের লড়াই চালিয়ে যাবে এবং যতটা সম্ভব সাধারণ জনগনের ও নিরস্ত্র মানুষকে সেনাদের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে।’

এদিকে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা সামরিক জান্তাকে নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

সেই সঙ্গে অং সান সু চি-সহ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধের আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ।অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে ব্যাপক আকারে বিক্ষোভ শুরু হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিষ্ঠুরভাবে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী, অ্যাকটিভিস্ট এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চালিয়েছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনারস- এর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ৮৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে হত্যা করেছে এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে।

SHARE THIS ARTICLE