
ওবায়দুর রহমান রুহেলঃ বিশাল ভূখণ্ড আর অধিক জনসংখ্যার প্রভাবশালী দেশগুলো যখন নৈতিক স্খলনে বিপর্যস্ত তখন ছোট্ট ভূখণ্ডের প্রায় ৫ মিলিয়ন জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশটি বুঝিয়ে দিল শুধুমাত্র মনের বিশালতা থাকলেই নিঃসংকোচে অকপটে সত্য বলা যায়। সত্য বলতে সৎ সাহস লাগে, নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিবেকের জানালা খোলা রাখতে হয়।ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত বৃটিশ দ্বীপপুঞ্জের ছোট্ট দেশ আয়ারল্যান্ড যখনই বিশ্বের কোথাও মানবিকতা বিপর্যস্ত হয়েছে তখনি দেশটির শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা প্রতিবাদ করেছেন, সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন ।
ইসরাইলের বর্বরোচিত হামলার বিরোধিতা করে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি ইতোমধ্যে আইরিশ পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেত্রী মেরী লু ম্যাকডোনাল্ড যে বক্তব্য রেখেছেন তা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। মিসেস মেরী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেন ” জাতিসংঘের ২৮তম রেজুলেশনের তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলের ক্রমাগতভাবে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করছে, ফিলিস্তিনিদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সপ্তাহব্যাপী অব্যাহতভাবে গাজা উপত্যকায় বোমা হামলা করে যাচ্ছে।নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড দখল করে তাদেরকে নিজ দেশে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।মিসেস মেরী লু ম্যাকডোনাল্ড বলেন ইসরায়েলী মিলিটারি হচ্ছে বিশ্বের নোংরা মানবিকতা বিবর্জিত একদল অস্ত্রধারী এরা নির্দয়ভাবে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের বাসস্থান, প্রার্থনার স্থান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।

একতরফা যুদ্ধ অপরাধ করে যাচ্ছে ইসরায়েল, বাস্তুহারা অসহায় মানুষদের হাহাকার শুনার কেউ নেই। মিসেস মেরী এই সময় বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করে বলেন তথাকথিত বিশ্বের বড় বড় নেতারা যারা ইসরায়েলের আগ্রাসনকে,ইসরায়েল ফিলিস্তিনি দুই পক্ষের যুদ্ধ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন এবং আত্নরক্ষার নামে ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন দিচ্ছেন তাদের লজ্জা হওয়া উচিত, তারা মিথ্যাবাদী। সত্য যচ্ছে ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে আন্তর্জাতিক কমিউনিটি সেই বিষয়ে পুরোপুরি অবগত আছে কিন্তু কোন পদক্ষেপ না নিয়ে ইসরায়েলকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনুমতি দিচ্ছে, আমি বলতে চাই, আমরা নিজ চক্ষে তা অবলোকন করছি, আপনাদের দেশের লোকজন তা অবলোকন করছে, বিশ্বের মহান মহান ব্যক্তিরা আর তথাকথিত বিশ্বনেতৃন্দ যখন এই বিষয়ে নিয়ে তর্ক বির্তকে সামিল হয়েছে তখন ফিলিস্তিনের শিশুরা প্রতিদিন মৃত্যু বরণ করছে।

বারবার ভুল না করে এখনই সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষগুলোকে জেগে উঠতে হবে এভাবে চলতে দেয়া যায়না।” উল্লেখ্য ইসরায়েল বিরোধী প্রতিবাদে সমগ্র আয়ারল্যান্ড জুড়ে জোরালো দাবী উঠেছে দেশটির সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে রাষ্ট্রদূতকে দ্রুত বহিষ্কার করার জন্য