
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ আয়ারল্যান্ডের তথ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কর্তৃক একটি তদন্ত পুনরায় করার ফলে ফেসবুকের ট্রান্স আটলান্টিক ডাটা ট্রান্সফারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির উচ্চ আদালত এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে।এর আগে স্টপেজের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে ব্যবসায়ের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছিল বিভিন্ন সংস্থা। খবর রয়টার্স।
ফেসবুকের ডাটা ট্রান্সফারের ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ থেকেই মূলত এ মামলার সূচনা। ইইউর ধারণা মার্কিন সরকারি নজরদারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ব্যাপারে যথেষ্ট সম্মান দেখাবে না। ফলে ফেসবুকের ডাটা ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইইউর নাগরিকদের বিভিন্ন তথ্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমনটাই ধারণা ইইউ সংশ্লিষ্টদের।
গত আগস্টে আইরিশ তথ্য সুরক্ষা কমিশনার (ডিপিসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেসবুকের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক যৌথভাবে একটি তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি একটি অস্থায়ী আদেশ জারি করা হয় যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের যে প্রক্রিয়া ফেসবুক ব্যবহার করছে, তাতে ইইউ নাগরিকদের কোনো তথ্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
তবে ফেসবুকের ডাটা ট্রান্সফারের ব্যাপারে শুরু করা তদন্ত ও প্রাথমিক খসড়া সিদ্ধান্ত দুটোকেই চ্যালেঞ্জ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুক বলছে, ডাটা ট্রান্সফারের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চলমান এ প্রক্রিয়া তাদের ব্যবসার জন্য ধ্বংসাত্মক ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতি ডেকে আনবে। এসব তথ্য মূলত ব্যবহারকারীদের চাহিদা মোতাবেক অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য সংগ্রহ করা হয়। তবে শুক্রবার আইরিশ উচ্চ আদালত ফেসবুকের এ চ্যালেঞ্জকে খারিজ করে দেয়।
প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক ডেভিড বার্নিভিল বলেন, ফেসবুক আয়ারল্যান্ড কর্তৃক পেশকৃত সব যুক্তি খারিজ করা হলো এবং এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ফেসবুকের সব চ্যালেঞ্জ বাতিল করা হলো। বিচারক বলেন, ফেসবুক আয়ারল্যান্ড তথ্য সুরক্ষা কমিশনারের কোনো যুক্তি এবং প্রাথমিক খসড়া সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। একই সঙ্গে তথ্য সুরক্ষা কমিশনার কর্তৃক চলমান তদন্তকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেনি।
যদিও এ সিদ্ধান্ত ফেসবুকের ডাটা ট্রান্সফারের প্রক্রিয়াকে তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ করেনি। তবে আইরিশ তথ্য নিয়ন্ত্রককে আট বছর ধরে এ মামলার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া অস্ট্রেলিয়ান গোপনীয়তা কর্মী ম্যাক্স শ্রিম বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আট বছর পর আইরিশ তথ্য সুরক্ষা কমিশনার ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা ট্রান্সফার বন্ধের ব্যাপারে গ্রীষ্মের আগেই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।
ফেসবুকের এক মুখপাত্র বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য আইনের সঙ্গে সংগতি রেখে আইরিশ অস্থায়ী সিদ্ধান্তের বিপরীতে মোকাবেলা করতে ফেসবুক তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু ফেসবুককেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে তা নয়, বরং তা ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আইরিশ তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ সিদ্ধান্ত যদি বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে ইউরোপীয় ব্যবহারকারীদের তথ্যে অগ্রাধিকারভাবে প্রবেশের সব সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ইইউর বাইরে অন্য রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তারা একই ধরনের সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে।
এদিকে ফেসবুকের এ ডাটা ট্রান্সফার প্রক্রিয়া (স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রাকচুয়াল ক্লজ) নিয়ে আইরিশ নিয়ন্ত্রকদের এমন প্রশ্ন ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস দ্বারাও সম্মতি প্রাপ্ত হয়েছে।