আজ মহান মে দিবস

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ মে দিবস শ্রমিক শ্রেণির ওপর নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। মে দিবস তাদের প্রতিরোধ করতে শেখায়, যারা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনটি সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

মহান মে দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পৃথক বাণী দিয়েছেন। মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি’

মহান মে দিবস উপলক্ষে শনিবার (৩০ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের।

তিনি বলেন, মহান মে দিবস আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে শেখায়।

জিএম কাদের আরও বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আজীবন একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করেছেন। যেখানে মানুষে মানুষে বৈষম্য, বঞ্চনা, নির্যাতন ও নিষ্পেষণ থাকবে না। আমরা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি।

মে দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও শ্রমবান্ধব বর্তমান সরকার শ্রমিকের সার্বিক কল্যাণসাধন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক, শ্রমিকের পেশাগত নিরাপত্তা ও সুস্থতাসহ সার্বিক অধিকার নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেছেন, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। আমরা রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সার্বিক কল্যাণে আর্থিক সহায়তা প্রদানে একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করেছি এবং সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। সব সেক্টরে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে।’

নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষসহ সবার প্রতি আহবান জানান জাপা চেয়ারম্যান।

শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মহান মে দিবস উপলক্ষে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে তিনি এই আহ্বান জানান। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।
মির্জা ফখরুল বলেন, মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মেহনতি মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। সকল শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় আমরা সর্বদা সচেতন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকাল ৯টায় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান র‌্যালির উদ্বোধন করবেন। র‌্যালিটি রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হবে। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকেরা তাদের উপযুক্ত মূল্য এবং দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। কিন্তু সে সময়ের সরকার আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। এতে অনেক শ্রমিক হতাহত হন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টা করার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে দিনটি ‘মে দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

SHARE THIS ARTICLE