
এস,এ,রবঃ আয়ারল্যান্ডে আবাসন সংকট অনেক পুরনো বিষয়। প্রতিবছর নতুন নতুন বাড়ি তৈরী হচ্ছে, তারপরও এই সংকটের সমাধান হচ্ছে না। কিন্তুু সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকটের মাত্রা পূর্বের যে কোনো সময় থেকে বেড়ে গেছে বহুগুণ। বড় বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সর্বত্র বাড়ির হাহাকার। চড়া ভাড়া দিয়ে মিলছে না বাাড়ি।এই মুহূর্তে বাড়ি ভাড়া পাওয়া অনেকের কাছে যেন সোনার হরিণের মত অবস্থা।
আবাসন সেক্টরে কেন এই সংকট ?
সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকটের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইউক্রেনীয় শরণর্থিী ইস্যু। ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের আবাসনের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে আবাসন সেক্টরে যে সংকট তৈরী হচ্ছে,ভবিষ্যতে সেটি আরো প্রকট হবার সম্ভবনা রয়েছে।
আইরিশ রেড ক্রস সোসাইটির সর্বশেষ তথ্যমতে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদেরকে থাকার জন্য এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার সাতশত বাড়ি প্রদান করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে,সাম্প্রতিক সময়ের সংকটের উৎপত্তি কোথা থেকে শুরু হয়েছে।

পক্ষান্তরে অনেক গৃহহীন আইরিশরা ডাবলিন কিংবা কর্কের মত বড় শহরে এখনো রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন। অল্প কিছু দিনের ভিতর ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য সরকার কর্তৃক কয়েক হাজার বাড়ির ব্যবস্হা করা নিয়ে অনেক আইরিশদের মনে সৃষ্টি হয়েছে প্রচন্ড ক্ষোভ । তারা মনে করেন অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসার পূর্বে দেশের সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের ব্যবস্হা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

৫ মিলিয়ন মানুষের জনপদ হচ্ছে ছোট্র এই দ্বীপ রাষ্ট্র আয়ারল্যান্ড। নীতিগতভাবে প্রায় ৪০ হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থী গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে আইরিশ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে ৫ হাজার শরণার্থী আয়ারল্যান্ডে এসে পৌঁছেছেন। এবং প্রতিদিন শরণার্থীরা এই দেশে আসছেন। সংঘত কারণে সরকারের অন্যতম কাজ হচ্ছেএখন ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের বাসস্হান নিশ্চিত করা।
তবে যে কোনো সরকারের প্রথম নীতি হওয়া উচিত সর্বাপেক্ষা সেই দেশটির জনগণের মৌলিক সমস্যা গুলো চিহিৃত করা এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা। কিন্তুু বর্তমান অবস্হা দেখে মনে হচ্ছে সরকার খুব বেশি ঝুঁকে পড়েছে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের দিকে।
ভূগোলবেদে রাষ্ট্র ব্যবস্হার কাঠামো ভিন্ন হলেও জনগণকে ধোঁকা দেওয়াই সব শাসকদের চরিত্র। সরকারের পরিবর্তন হয় কিন্তুু জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়না।
সরকারের আবাসন প্রকল্পের অধীনে যারা বাড়ির জন্য আবেদন করে কয়েক বছর যাবৎ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন, বর্তমান পরিস্হিতি জানান দিচ্ছে তাদের প্রতিক্ষার প্রহর আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে। তাছাড়া এই সংকটের কারণে ইতিমধ্যে আবাসিক ও অনাবাসিক বাড়ির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে পূর্বের তুলনায়।
সম্প্রতি প্রপার্টি ওয়েবসাইট Daft.ie-এর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে বছর শুরু হওয়ার পর থেকে দেশব্যাপী বাড়ির দাম গড়ে ২.৪ ভাগ বেড়েছে এবং মার্চ মাসে এসে এর দাম উর্ধ্বমুখী হতে চলেছে। কোনো সূত্রমতে গড় আরো বেশি। তাই এই মুহূর্তে যারা বাড়ির কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য আপাতত অপেক্ষা করাই শ্রেয় হবে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ইতিমথ্যে আয়ারল্যান্ডে পড়তে শুরু করেছে।আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাম্প এবং বাড়ির জ্বালানি বিলের দাম বাড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট আয়ারল্যান্ডের জন্য এক অনিশ্চয়তার পটভূমি সৃষ্টি করতে পারে, যদি আইরিশ সরকার সাবধানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না পারে।
কোভিড-১৯ এর ক্ষয়-ক্ষতি নিয়ে সবার মধ্যে ঐক্যমত থাকলেও বিশাল ইউক্রেনীয় শরণার্থী গ্রহণের পর উদ্বুদ্ধ পরিস্হিতি মোকাবেলায় সরকার ব্যর্থ হলে সেই ঐক্যমত ভেঙে যাবে।
রাষ্ট্র চালানোর জন্য বৈদিশিক ঋণের প্রয়োজন পড়ে কিন্তুু রাষ্ট্রীয় ঋণের খরচ বাড়তে শুরু করলে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে । যারফলে শুধু জনগণের অর্থনৈতিক ভোগান্তি ও কষ্ট বাড়ে। মুনাফালোভী উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কোনো ক্ষতি হয়না এই ক্ষেত্রে।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্হিতির সবচেয়ে মান্দা সময় যে, আয়ারল্যান্ড পার করতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে, সেটা বলার অবকাশ রাখেনা। তবে দেখার বিষয় সরকার সেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।