একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বিল গেটস!

আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাইন ডেস্ক: মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সঙ্গে স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের বৈবাহিক জীবনের ইতি হওয়ায় তোলপাড় গোটা বিশ্ব। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই নিত্য-নতুন তথ্য সামনে আসছে। এবার মাইক্রোসফটের সাবেক এক কর্মী বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিলকে নিয়ে। তার দাবি, কাজের সূত্রে এবং নিজের অফিসে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বিল গেটস!

ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। তবে বিলের মুখপাত্র এই প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, বিল গেটসের সম্পর্কে মিথ্যে প্রচার চালাতেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এই ধরনের গুজব অযৌক্তিক বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

ম্যাগাজিনটি আরও জানায়, বিল গেটসের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে অফিসের কর্মী থেকে তার বন্ধু মহলের সকলেই জানতেন। গোপন ছিল না কারও কাছেই। এমনকি মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতার বন্ধুদের মধ্যেই কেউ গোয়েন্দা লাগিয়ে ডিভোর্স পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে যায়। তবে মেলিন্ডা এবং বিল গেটসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা কেউই ডিভোর্সের আগে গোয়েন্দা নিয়োগ করেননি। ই দম্পতি ২০০০ সালে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন, যেটির লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী দারিদ্রমোচন, রোগ প্রতিরোধ এবং অসাম্য দূরীকরণ। এই সংস্থা কোন মুনাফা অর্জন করে না।

২৭ বছর দাম্পত্য জীবনের ইতি

বিল গেটস মাাইক্রোসফট কোম্পানি সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য সফটওয়্যার তৈরির ব্যবসা থেকেই তিনি বিপুল আর্থিক সম্পদের মালিক হন। ২০০৮ সালে তিনি এই প্রযুক্তি কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

মেলিন্ডা যখন ১৯৮০র দশকে মাইক্রোসফট কোম্পানিতে যোগ দেন তখন দুজনের প্রথম পরিচয়।কয়েক বছর প্রেম করে তারা ১৯৯৪ সালের প্রথম দিন বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।

গত ৩ মে টুইটারে যৌথ ঘোষণায় তারা জানিয়েছেন, ২৭ বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি ঘটতে যাচ্ছে।

টুইটারে যৌথ ঘোষণায় তারা বলেন, ‘গত ২৭ বছরে আমরা অসাধারণ তিনটি সন্তান পেয়েছি এবং এমন একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি, যেটি সারাবিশ্বে মানুষকে স্বাস্থ্যকর ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। ফাউন্ডেশনটি নিয়ে আমাদের বিশ্বাস ও লক্ষ্য একই থাকবে এবং আমরা একসাথে কাজ করে যাব, কিন্তু আমরা দম্পতি হিসেবে জীবনের পরবর্তী ধাপে চলতে পারবো তা আর বিশ্বাস করি না’।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকেই গেটস দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে ২৭ বছরের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন ৩ মে। করোনা অতিমারির সময়ে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। তবে এখন প্রশ্ন, তাদের বিপুল সম্পত্তির ভাগাভাগি কীভাবে হবে। সময় হয়তো সেই উত্তর দেবে।

উল্লেখ্য, একাধিক নাবালিকার যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের জেফ্রি এডওয়ার্ড এপস্টিন। তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৪০ জন নারী হেনস্থার অভিযোগ আনেন। শেষ জীবনে জেলে বন্দি ছিলেন জেফ্রি। ২০১৯ সালে ৬৬ বছর বয়সে জেলেই তার মৃত্যু হয়। শোনা যায়, বিল ক্লিন্টন থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বহু মার্কিন রাজনীতিকের নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ঢেলেছিলেন তিনি।

১৯৭৫ সালে স্কুলবন্ধু পল অ্যালেনের সঙ্গে মাইক্রোসফট শুরু করতে গিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন বিল গেটস। ১৯৮৬ সালে কোম্পানিটির শেয়ার ছাড়ার সময়ে তিনি ৪৯ শতাংশ মালিকানা পান। এর মাধ্যমে তিনি রাতারাতি ধনকুবেরে পরিণত হন। এরপর মাইক্রোসফট যত বিশালাকৃতি নিয়েছে তার সম্পদের পরিমাণ তত বেড়েছে।

নির্বাহী হিসেবে মাইক্রোসফটকে দুনিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে সহায়তা দেওয়ার পর ২০০০ সালে তিনি মাইক্রোসফটের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের পদ থেকেও সরে যান। এরপর ২০২০ সালের মার্চে তিনি কোম্পানির বোর্ড থেকেও সরে যান।

অন্যদিকে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস বেড়ে উঠেছেন ডালাসে। মাইক্রোসফটে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সাইন্স এবং অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি পিভোটাল ভেঞ্চার নামে একটি বিনিয়োগ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। নারী এবং পরিবারই এই কোম্পানির মূল লক্ষ্য। ২০১৯ সালে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে ‘দ্য মোমেন্ট অব লিফট’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন।

SHARE THIS ARTICLE