
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের মারাত্মক হামলার এক সপ্তাহের মধ্যে জাতিসংঘের প্রতিরক্ষা পরিষদের তৃতীয় দফা জরুরি বৈঠক পুনরায় কোন ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। গত সপ্তাহে দু’বার ইসরায়েলের সামরিক প্রতিক্রিয়ার নিন্দা ও যুদ্ধবিরতির আহবানের প্রস্তাবে ভেটো প্রদানের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত রবিবার তৃতীয়বার এই ভেটো প্রদান করেছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দ্বারা ঘেরাও করা ছিটমহলটি বিশ লক্ষ মানুষের উপর তীব্র বোমা হামলায় ইতিমধ্যে ৫৮ জন শিশুসহ প্রায় ২০০ জন মারা গেছে।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন সোমবার আবারো বলেছেন, ফিলিস্তিনের হামলা থেকে বাঁচতে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। একইসঙ্গে ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপ বন্ধে গাজার ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
একইসাথে তিনি বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের সুরক্ষায় উভয়পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান। মার্কিন এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার নিন্দা না জানিয়ে তিনি আগ্রাসী শক্তির প্রতিই সমর্থন জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ ত করছেনই না বরং বারবার নিজের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সুরক্ষার অধিকারের উপর জোর দিয়ে যাচ্ছেন। বাইডেনের দলের সদস্য সহ সমালোচকরা মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আক্রমণকে উস্কে দেবার অভিযোগ করেছেন, যা গাজায় কমপক্ষে ২০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং এক হাজারেরও বেশি আহত করেছে। সোমবার থেকে গাজা থেকে চালানো রকেটে দুটি শিশু সহ কমপক্ষে ১০ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড জরুরি বৈঠকে বলেছেন যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র “কূটনৈতিক চ্যানেলগুলির মাধ্যমে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে”। “আমেরিকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে দলগুলি যুদ্ধবিরতি চাইলে আমরা আমাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।” নরওয়ে, চীন এবং তিউনিসিয়ার নেতৃত্বাধীন আলোচনার পরেও কাউন্সিলের কাছ থেকে কোনও যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।

হামাসের যোদ্ধাদের রকেট হামলার প্রতিশোধ হিসাবে ইসরায়েল তার বোমা হামলার অভিযানকে ন্যায়সঙ্গত করেছে। তবে গাজা ভিত্তিক হামাস আন্দোলন বলেছে যে এর পদক্ষেপগুলি দখলকৃত পূর্ব জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি নীতি এবং ইস্রায়েলি বাহিনী কর্তৃক গত সপ্তাহে আল-আকসা মসজিদের অভ্যন্তরে বিক্ষোভকারিদের হতাহত করার প্রতিক্রিয়া ছিল। মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ইসরায়েলই বাহিনী প্রত্যাহার করতে হামাস একটি সময়সীমা বেধে দিয়েছিলো কিন্তু ইসরায়েল তাতে কর্নপাত করেনি বিধায় হামাসের রকেট আক্রমণ বলে তারা দাবী করেছে।
ফিলিস্তিনের নারী-শিশুসহ সব শ্রেণীর মানুষের ওপর ইসরাইলি বোমাবর্ষণ আজও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবনও গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কেবল গাজাতেই এখন পর্যন্ত ৫৮ শিশুসহ অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। জবাবে তেল আবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনের হামাসসহ প্রতিরোধ সংগঠনগুলো। এটাকে আত্মরক্ষা না বলে ইসরাইলের হামলাকে আত্মরক্ষামূলক হিসেবে দাবি করে যাচ্ছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সমর্থক বলে দাবিদার আমেরিকার সরকার।
তথ্যসূত্রঃ হার্টেজ, আল জাজিরা, পলিটিকো