
আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাইন ডেস্কঃভবিষ্যত মুদ্রার কথা চিন্তা করে ডিজিটাল ডলার আনার পরিকল্পনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ফেডেরাল রিজার্ভের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্বের ভবিষ্যত আর্থিক পরিষেবার বিষয়ে নজর দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্কিন ডলারের একটি ডিজিটাইজড সংস্করণ জারির একটি পরিকল্পনা উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে।
মার্কিন ফেডেরাল রিজার্ভের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যত অর্থের বিনিময় কীভাবে হবে তা পুনর্বিবেচনা করতে এবং অর্থনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে ভবিষ্যত মুদ্রার কথা চিন্তা করে এর ডিজিটাল ভার্সন আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম নয়। ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি’ (সিবিডিসি) এর নেতৃত্বস্থানে রয়েছে চীন। তবে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের এই তাৎপর্যপূর্ণ প্রকল্প বিশেষ অর্থবহ করে তুলবে।
সিবিডিসির সমর্থকরা ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে, ভবিষ্যতে ব্যক্তি বা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অর্থের বৈদ্যুতিন এই আদানপ্রদান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই যেকোনো ব্যক্তি সহজে ও নিরাপদে বৈদ্যুতিনভাবে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে ডলারের এমন ডিজিটাল ভার্সনের গোপনীয়তা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, এই ব্যবস্থা অর্থের ব্যক্তিগতকরণ অগ্রাধিকার দিতে পারে। এছাড়া ডিজিটাল ডলারের অবাধ বিচরণ ছোট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে ভালো বা মন্দ যাই হোক ডলারের ডিজিটাল সংস্করণ বিশ্বব্যাপী আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইতোমধ্যে চীন সীমিত আকারে ইউয়ানের ডিজিটাল সংস্করণ চালু করেছে এবং পরিচালনা করছে।
অ্যাকেনচারের একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এবং ডিজিটাল মুদ্রা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডেভিট ট্রিট বলেন, ডলারের ডিজিটাল সংস্করণ আসলেও এটা অন্যান্য মুদ্রা যেমন বিটকয়েনের মতো নয়। এটির মান এক ডলারে এক ডলারই। এটি মালিকের কাছে থাকা একটি ডিজিটাল টোকেন যা ফেডারেল রিজার্ভের সমর্থন এবং গ্যারান্টিযুক্ত।
তিনি বলেন, এর মান সাধারণ ডলারের মতোই। এটি আপনার ওয়ালেটের ডলার হোক, সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে ডলার হোক বা আপনার ডিজিটাল ওয়ালেটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার সংস্করণ হোক সবটার মানই সমান।