ওবায়দুল কাদেরের পরিবারকে ‘রাজাকার’ বলায় ক্ষমা চাইলেন সাংসদ একরাম

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী (বাঁয়ে) এবং বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা (ডানে)
ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পরিবারকে ‘রাজাকার’ বলায় নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী ওবায়দুল কাদেরের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং নোয়াখালীবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোর কাছে এ কথা বলেন সাংসদ একরামুল।

গতকাল সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাংসদ একরামুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মাকে নিয়ে গালাগাল করায়, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করায় আমি অভিমান করে কাদের ভাইকে (ওবায়দুল কাদের) উদ্দেশ করে বলেছিলাম, উনি ভাইকে সামলাতে পারেন না…। আমি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি আর ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না।’

তবে ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাঁর চিকিৎসা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে আবদুল কাদের মির্জা প্রথম আলোকে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘উনি (একরাম চৌধুরী) আমাকে চিকিৎসা নিতে বলেছেন। দেশবাসী ওনার লাইভটা তো দেখেছে, এখন ওনার চিকিৎসা নেওয়া দরকার না আমার চিকিৎসা নেওয়া দরকার? উনি প্রথমে লাইভে এসে বললেন, ওবায়দুল কাদের রাজাকার পরিবারের সন্তান। আবার ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে বললেন, ওবায়দুল কাদের মুক্তিযোদ্ধা, আবদুল কাদের মির্জার পরিবার রাজাকার পরিবার। আমাদের পরিবার দুইটা নাকি? এখন আপনার বিবেচনা করেন, কার চিকিৎসা করা দরকার।’

বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা তাঁকে বয়কট করার বিষয়ে একরাম চৌধুরীর বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওনাকে (একরামুল করিম চৌধুরী) আমরা বয়কট করেছি, উনি করবেন না। ওনার আমার কথা বলা অস্বাভাবিক নয়, যেহেতু ওনার অপরাজনীতির কথাগুলো আমি বলছি, আমাকে উনি বয়কটের কথা বলবেনই। এটাই ঠিক। সবাই যার যার অবস্থানে টিকে থাকতে চান।’

সোমবার তো আপনি আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সমাবেশে ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে বলেছেন চুপ থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এ কথার জবাবে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘উনি যদি আমার কথাগুলোয় সত্য না পান, তাহলে আমার বিচার করবেন। আমি আসলে ওনার সঙ্গে রাজনীতির বিষয়ে কোনো কথা বলি না। সেদিন তিনি হরতাল প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছেন, আমি তাঁর কথা শুনেছি। কিন্তু আগামী রোববারের হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না। হরতালে প্রশাসন প্রভাব খাটিয়ে কিছু করতে চাইলে আমি রাস্তায় একা হলেও থাকব। না হয় বহিষ্কার করবে, আমি রাজপথ ছেড়ে যাব না।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিক এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মির্জা একটু বেশি কথা বলছেন। একরাম (সাংসদ একরাম) তো কাল ক্ষমা চেয়েছেন। ক্ষমা চাইলেও আবার বলতেও বেশিক্ষণ লাগবে না। আপাতত তো থেমেছেন। তবে আমরা চাই ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে যাতে কোনো বিতর্ক না হয়। কারণ তিনি আমাদের ঠিকানা।

SHARE THIS ARTICLE