
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে চলমান করোনা মহামারিতে ভূমিকা রাখা ১২ হাজারেরও বেশি বিদেশি ফ্রন্ট লাইন কর্মীদের নাগরিকত্ব দিয়েছে ফরাসি সরকার। ইউরোপের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বিদেশি কর্মীদের এ স্বীকৃতি দিল।
স্বাস্থ্য পেশাজীবী, নিরাপত্তা বা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা, শিশু সেবা, দোকানের হিসাবরক্ষক ও বিক্রয় কর্মকর্তা, গৃহস্থালি কাজের সাহায্য কর্মী, আবর্জনা সংগ্রহকারীসহ বিভিন্ন পেশার ফ্রন্টলাইন কর্মীদের ফরাসি নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ফরাসী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘নাগরিকত্ব’ বিষয়ক প্রতিনিধি মারলেন শিপা এ কথা জানিয়েছেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘যারা রাষ্ট্রকে সেবা করার জন্য এতটা দৃঢ়তা এবং নিষ্ঠা দেখিয়েছেন, প্রজাতন্ত্র সেসব নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া ফরাসিদের স্বাগত জানিয়ে সম্মানিত বোধ করছে। নাগরিকত্ব প্রাপ্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে সেপ্টেম্বরের শুরুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সম্মেলন কক্ষ ‘প্লাস বুভউ’ তে একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
বিদেশি কর্মীদের নাগরিকত্ব প্রদান উপলক্ষে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। প্যারিসের ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘পন্থেওঁ’ কেন্দ্রে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নাগরিকত্বের দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মার্লেন শিপা ১২ হাজারেও বেশি বিদেশি নাগরিকদের ফরাসি জাতীয়তা অর্জনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
মারলেন শিপা বলেন, এই ফ্রন্টলাইন কর্মীরা জাতির দুর্দিনে সাড়া দিয়েছে। রাষ্ট্রের থেকে তাদের জন্য একটি পদক্ষেপ নেয়াটাই স্বাভাবিক। আমি আমাদের নতুন নাগরিকত্ব প্রাপ্তদের ফরাসি জাতীয়তায় স্বাগত জানাতে চাই এবং প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।
তিনি জানান, করোনা মহামারিতে ভূমিকা রাখা ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য ব্যতিক্রমী ব্যবস্থায় দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদানের এই প্রক্রিয়াটি ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করা হয়েছিল।
ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্সে এই বিশেষ সুবিধা চালু হওয়ার এক বছর পর, ফ্রান্স জুড়ে সর্বমোট ১৬ হাজার ৩৮১টি আবেদন জমা হয় এবং সেখান থেকে যাচাই বাছাই করে ১২ হাজার ১২ জন বিদেশি নাগরিককে ইতোমধ্যে ফরাসি জাতীয়তা প্রদান করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাধারণত ফ্রান্সে নাগরিকত্বের আবেদন করতে একজন অভিবাসীকে কমপক্ষে পাঁচ বছর বৈধভাবে ফরাসি ভূখন্ডে বসবাস করতে হয়। সাথে চাকরি, ভাষা সহ অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য বিশেষ আইনে পাঁচ বছর থাকার সময়কাল কমিয়ে মাত্র ২ বছর করা হয়। যার ফলে বিপুল সংখ্যক বিদেশি কর্মী অত্যন্ত দ্রুত আবেদন করে নাগরিকত্ব আবেদন পেতে সক্ষম হয়েছেন।