কানাডায় নির্বাচন: অঙ্গীকার আর প্রতিশ্রুতিতে বিভিন্ন দল

আহসান রাজীব বুলবুল , কানাডা থেকেঃ কানাডার ৪৪তম জাতীয় নির্বাচন আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে বিভিন্ন দল অঙ্গীকার আর প্রতিশ্রুতি দেওয়া শুরু করেছে। জোর নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের সমর্থন নিতে কথা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনসহ নতুন নতুন ইস্যুতে।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে গত জুলাইয়ে জাতিসংঘে নতুন অঙ্গীকার করেছে ট্রুডোর সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমিয়ে আনার কথা বলেছে। তবে কনজার্ভেটিভ নেতা এরিন ওটুল ২০৩০ সাল নাগাদ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমানোর কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এনডিপি নেতা জাগমিত সিং জলবায়ু ইস্যুতে লিবারেলদের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে ফাঁকা প্রতিশ্রুতি বলে চিত্রায়িত করে বলেন, জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে কানাডা। কাজ না করলে জলবায়ু ইস্যুতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কোনো অর্থ নেই।

তেল-গ্যাস উৎপাদকদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে ট্রুডোর অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন। লিবারেল নেতা জাস্টিন ট্রুডো জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে রোববার প্রথমবারের মতো বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ফের নির্বাচিত হলে লিবারেল সরকার তেল ও গ্যাস উৎপাদন থেকে পাঁচ বছরে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে আলবার্টা, সাস্কেচুয়ান, নিউফাউন্ডল্যান্ড ও ল্যাব্রাডরের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল কমিউনিটির মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ২০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের কথাও বলেছেন তিনি।

Elections Canada on Twitter: "Happy #InternationalYouthDay! In the last  federal election, 1.2M students participated in #StudentVoteCanada! This  gave them an excellent backdrop to participate in future elections. For  more info, visit https://t.co ...

এছাড়াও লিবারেল সরকার ইলেক্ট্রিক যানবাহনের বাধ্যবাধকতার বিষয়েও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০৩০ সাল নাগাদ কানাডায় বিক্রিত ব্যক্তিগত গাড়ির অর্ধেক হতে হবে কার্বন নিঃসরণমুক্ত। ২০৩৫ সালে মোট গাড়ির শতভাগই কার্বন নিঃসরণমুক্ত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী আরও ৫০ হাজার চার্জিং স্টেশন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লিবারেল পার্টি। এর মধ্যে ১৭ হাজার স্টেশন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর বলেন, এবারের নির্বাচনে সবকটি রাজনৈতিক দলই পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় কানাডীয়ানদের ওপর যে দুর্ভোগ নেমে আসবে এবং তার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া দরকার- এই ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ঐকমত্য আছে। তবে প্রতিকারের পদক্ষেপ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। বিশেষজ্ঞরা লিবারেল পার্টির কর্মসূচিকে অধিকতর কার্যকর গণমুখী হিসেবে অভিহিত করছেন।

বিশিষ্ট কলামিস্ট উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মাহমুদ হাসান বলেন- জনমুখী কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকারের কোনো বিকল্প নেই। কোয়ালিশন সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে জটিলতার মুখোমুখি হয় তা অবসানে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার একটি শক্তিশালী সরকারের প্রত্যাশায় যে আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাকে আমি স্বাগত জানাই। লিবারেল, আর যে দলই হোক কানাডার জনগণ একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। একদিকে কোভিড পরিস্থিতিতে জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের ঐকান্তিকতা আর লিবারেল ঘোষিত পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখে জনগণের শক্তিশালী সমর্থনের ওপরই নির্ভর করবে আগামী কানাডার ভবিষ্যৎ।

Canada election: Justin Trudeau faces the fight of his life as scandals  tarnish his liberal golden-boy image

কানাডার ৪৪তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। গত মাসে লিবারেল পার্টির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমনকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে এ নির্বাচনের প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলের যুক্তি হচ্ছে, তারা সংসদে সংখ্যালঘু সরকার ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। সংসদে তাদের নীতি-কর্মসূচি বাস্তবায়নে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার।

এর আগে কানাডায় যে কয়বার কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়েছে সেগুলোর গড় সময়সীমা ছিল ১৮ থেকে ২০ মাস

কানাডার ৪৪তম জাতীয় নির্বাচন আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে বিভিন্ন দল অঙ্গীকার আর প্রতিশ্রুতি দেওয়া শুরু করেছে। জোর নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের সমর্থন নিতে কথা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনসহ নতুন নতুন ইস্যুতে।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে গত জুলাইয়ে জাতিসংঘে নতুন অঙ্গীকার করেছে ট্রুডোর সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমিয়ে আনার কথা বলেছে। তবে কনজার্ভেটিভ নেতা এরিন ওটুল ২০৩০ সাল নাগাদ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমানোর কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এনডিপি নেতা জাগমিত সিং জলবায়ু ইস্যুতে লিবারেলদের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে ফাঁকা প্রতিশ্রুতি বলে চিত্রায়িত করে বলেন, জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে কানাডা। কাজ না করলে জলবায়ু ইস্যুতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কোনো অর্থ নেই।

তেল-গ্যাস উৎপাদকদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে ট্রুডোর অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন। লিবারেল নেতা জাস্টিন ট্রুডো জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে রোববার প্রথমবারের মতো বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ফের নির্বাচিত হলে লিবারেল সরকার তেল ও গ্যাস উৎপাদন থেকে পাঁচ বছরে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে আলবার্টা, সাস্কেচুয়ান, নিউফাউন্ডল্যান্ড ও ল্যাব্রাডরের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল কমিউনিটির মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ২০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের কথাও বলেছেন তিনি।

এছাড়াও লিবারেল সরকার ইলেক্ট্রিক যানবাহনের বাধ্যবাধকতার বিষয়েও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০৩০ সাল নাগাদ কানাডায় বিক্রিত ব্যক্তিগত গাড়ির অর্ধেক হতে হবে কার্বন নিঃসরণমুক্ত। ২০৩৫ সালে মোট গাড়ির শতভাগই কার্বন নিঃসরণমুক্ত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী আরও ৫০ হাজার চার্জিং স্টেশন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লিবারেল পার্টি। এর মধ্যে ১৭ হাজার স্টেশন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর বলেন, এবারের নির্বাচনে সবকটি রাজনৈতিক দলই পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় কানাডীয়ানদের ওপর যে দুর্ভোগ নেমে আসবে এবং তার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া দরকার- এই ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ঐকমত্য আছে। তবে প্রতিকারের পদক্ষেপ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। বিশেষজ্ঞরা লিবারেল পার্টির কর্মসূচিকে অধিকতর কার্যকর গণমুখী হিসেবে অভিহিত করছেন।

বিশিষ্ট কলামিস্ট উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মাহমুদ হাসান বলেন- জনমুখী কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকারের কোনো বিকল্প নেই। কোয়ালিশন সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে জটিলতার মুখোমুখি হয় তা অবসানে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার একটি শক্তিশালী সরকারের প্রত্যাশায় যে আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাকে আমি স্বাগত জানাই। লিবারেল, আর যে দলই হোক কানাডার জনগণ একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। একদিকে কোভিড পরিস্থিতিতে জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের ঐকান্তিকতা আর লিবারেল ঘোষিত পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখে জনগণের শক্তিশালী সমর্থনের ওপরই নির্ভর করবে আগামী কানাডার ভবিষ্যৎ।

কানাডার ৪৪তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। গত মাসে লিবারেল পার্টির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমনকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে এ নির্বাচনের প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলের যুক্তি হচ্ছে, তারা সংসদে সংখ্যালঘু সরকার ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। সংসদে তাদের নীতি-কর্মসূচি বাস্তবায়নে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার।

এর আগে কানাডায় যে কয়বার কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়েছে সেগুলোর গড় সময়সীমা ছিল ১৮ থেকে ২০ মাস

কানাডার ৪৪তম জাতীয় নির্বাচন আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে বিভিন্ন দল অঙ্গীকার আর প্রতিশ্রুতি দেওয়া শুরু করেছে। জোর নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের সমর্থন নিতে কথা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনসহ নতুন নতুন ইস্যুতে।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে গত জুলাইয়ে জাতিসংঘে নতুন অঙ্গীকার করেছে ট্রুডোর সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমিয়ে আনার কথা বলেছে। তবে কনজার্ভেটিভ নেতা এরিন ওটুল ২০৩০ সাল নাগাদ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমানোর কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এনডিপি নেতা জাগমিত সিং জলবায়ু ইস্যুতে লিবারেলদের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে ফাঁকা প্রতিশ্রুতি বলে চিত্রায়িত করে বলেন, জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে কানাডা। কাজ না করলে জলবায়ু ইস্যুতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কোনো অর্থ নেই।

তেল-গ্যাস উৎপাদকদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে ট্রুডোর অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন। লিবারেল নেতা জাস্টিন ট্রুডো জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে রোববার প্রথমবারের মতো বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ফের নির্বাচিত হলে লিবারেল সরকার তেল ও গ্যাস উৎপাদন থেকে পাঁচ বছরে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে আলবার্টা, সাস্কেচুয়ান, নিউফাউন্ডল্যান্ড ও ল্যাব্রাডরের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল কমিউনিটির মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ২০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের কথাও বলেছেন তিনি।

এছাড়াও লিবারেল সরকার ইলেক্ট্রিক যানবাহনের বাধ্যবাধকতার বিষয়েও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০৩০ সাল নাগাদ কানাডায় বিক্রিত ব্যক্তিগত গাড়ির অর্ধেক হতে হবে কার্বন নিঃসরণমুক্ত। ২০৩৫ সালে মোট গাড়ির শতভাগই কার্বন নিঃসরণমুক্ত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী আরও ৫০ হাজার চার্জিং স্টেশন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লিবারেল পার্টি। এর মধ্যে ১৭ হাজার স্টেশন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর বলেন, এবারের নির্বাচনে সবকটি রাজনৈতিক দলই পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় কানাডীয়ানদের ওপর যে দুর্ভোগ নেমে আসবে এবং তার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া দরকার- এই ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ঐকমত্য আছে। তবে প্রতিকারের পদক্ষেপ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। বিশেষজ্ঞরা লিবারেল পার্টির কর্মসূচিকে অধিকতর কার্যকর গণমুখী হিসেবে অভিহিত করছেন।

বিশিষ্ট কলামিস্ট উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মাহমুদ হাসান বলেন- জনমুখী কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকারের কোনো বিকল্প নেই। কোয়ালিশন সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে জটিলতার মুখোমুখি হয় তা অবসানে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার একটি শক্তিশালী সরকারের প্রত্যাশায় যে আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাকে আমি স্বাগত জানাই। লিবারেল, আর যে দলই হোক কানাডার জনগণ একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। একদিকে কোভিড পরিস্থিতিতে জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের ঐকান্তিকতা আর লিবারেল ঘোষিত পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখে জনগণের শক্তিশালী সমর্থনের ওপরই নির্ভর করবে আগামী কানাডার ভবিষ্যৎ।

কানাডার ৪৪তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। গত মাসে লিবারেল পার্টির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমনকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে এ নির্বাচনের প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলের যুক্তি হচ্ছে, তারা সংসদে সংখ্যালঘু সরকার ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। সংসদে তাদের নীতি-কর্মসূচি বাস্তবায়নে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার।

এর আগে কানাডায় যে কয়বার কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়েছে সেগুলোর গড় সময়সীমা ছিল ১৮ থেকে ২০ মাস

কানাডার ৪৪তম জাতীয় নির্বাচন আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে বিভিন্ন দল অঙ্গীকার আর প্রতিশ্রুতি দেওয়া শুরু করেছে। জোর নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের সমর্থন নিতে কথা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনসহ নতুন নতুন ইস্যুতে।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে গত জুলাইয়ে জাতিসংঘে নতুন অঙ্গীকার করেছে ট্রুডোর সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমিয়ে আনার কথা বলেছে। তবে কনজার্ভেটিভ নেতা এরিন ওটুল ২০৩০ সাল নাগাদ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমানোর কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এনডিপি নেতা জাগমিত সিং জলবায়ু ইস্যুতে লিবারেলদের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে ফাঁকা প্রতিশ্রুতি বলে চিত্রায়িত করে বলেন, জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে কানাডা। কাজ না করলে জলবায়ু ইস্যুতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কোনো অর্থ নেই।

তেল-গ্যাস উৎপাদকদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে ট্রুডোর অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন। লিবারেল নেতা জাস্টিন ট্রুডো জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে রোববার প্রথমবারের মতো বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ফের নির্বাচিত হলে লিবারেল সরকার তেল ও গ্যাস উৎপাদন থেকে পাঁচ বছরে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে আলবার্টা, সাস্কেচুয়ান, নিউফাউন্ডল্যান্ড ও ল্যাব্রাডরের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল কমিউনিটির মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ২০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের কথাও বলেছেন তিনি।

এছাড়াও লিবারেল সরকার ইলেক্ট্রিক যানবাহনের বাধ্যবাধকতার বিষয়েও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০৩০ সাল নাগাদ কানাডায় বিক্রিত ব্যক্তিগত গাড়ির অর্ধেক হতে হবে কার্বন নিঃসরণমুক্ত। ২০৩৫ সালে মোট গাড়ির শতভাগই কার্বন নিঃসরণমুক্ত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী আরও ৫০ হাজার চার্জিং স্টেশন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লিবারেল পার্টি। এর মধ্যে ১৭ হাজার স্টেশন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর বলেন, এবারের নির্বাচনে সবকটি রাজনৈতিক দলই পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় কানাডীয়ানদের ওপর যে দুর্ভোগ নেমে আসবে এবং তার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া দরকার- এই ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ঐকমত্য আছে। তবে প্রতিকারের পদক্ষেপ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। বিশেষজ্ঞরা লিবারেল পার্টির কর্মসূচিকে অধিকতর কার্যকর গণমুখী হিসেবে অভিহিত করছেন।

বিশিষ্ট কলামিস্ট উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মাহমুদ হাসান বলেন- জনমুখী কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকারের কোনো বিকল্প নেই। কোয়ালিশন সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে জটিলতার মুখোমুখি হয় তা অবসানে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার একটি শক্তিশালী সরকারের প্রত্যাশায় যে আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাকে আমি স্বাগত জানাই। লিবারেল, আর যে দলই হোক কানাডার জনগণ একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। একদিকে কোভিড পরিস্থিতিতে জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের ঐকান্তিকতা আর লিবারেল ঘোষিত পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখে জনগণের শক্তিশালী সমর্থনের ওপরই নির্ভর করবে আগামী কানাডার ভবিষ্যৎ।

কানাডার ৪৪তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। গত মাসে লিবারেল পার্টির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমনকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে এ নির্বাচনের প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলের যুক্তি হচ্ছে, তারা সংসদে সংখ্যালঘু সরকার ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। সংসদে তাদের নীতি-কর্মসূচি বাস্তবায়নে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার।

এর আগে কানাডায় যে কয়বার কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়েছে সেগুলোর গড় সময়সীমা ছিল ১৮ থেকে ২০ মাস

SHARE THIS ARTICLE