খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়লো

আইরিশ বাংলা পোস্ট ডেস্কঃ বাংলাদেশ সরকার চতুর্থ বারের মতো বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে। আগের সকল শর্ত বহাল রেখেই তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হলো। ১৯শে সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে ঢাকায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

জনাব আসাদুজ্জামান বলেন,  ‘বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পরিবারের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আগের সকল শর্ত বহাল রেখে চতুর্থ বারের মতো সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’

৭৬ বছর বয়সী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রধান, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় বিদেশী অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালের মার্চ মাসে কারাগার থেকে সাময়িক মুক্তি দিয়ে বাসায় থাকার সুযোগ করে দিয়েছিলো সরকার। খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের স্থগিতাদেশ এর আগে দুইবার ছয় মাস করে বাড়ানো হয়েছিল। গত ১৫ই সেপ্টেম্বর সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিলো।

রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, “খালেদা জিয়ার পরিবার, বিশেষ করে তার ছোট ভাই শর্ত সাপেক্ষে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। আমরা তার আবেদন যাচাই -বাছাই করেছি এবং তারপর তা অনুমোদন করেছি। তবে এই সময় তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না। তিনি যেভাবেই চান বাড়িতেই তার চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না। তার মুক্তির জন্য আগে যে শর্তগুলো ছিল তা বজায় থাকবে।” এপ্রিলের প্রথম দিকে জিয়া কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

সরকার অবশ্য কিছুদিন আগে চিকিৎসার জন্য তার বিদেশে যাওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, “এমন কোন বিচারিক বিধান নেই যা কারাগারে থাকা একজন আসামিকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়”। জুলাই মাসে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে বলেছিলেন যে জিয়া অবশ্যই তার ভুল স্বীকার করবেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। বিএনপি অবশ্য বলেছিল যে তার ক্ষমা চাওয়ার কোন কারণ নেই কেননা তিনি নির্দোষ।

খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দুটি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০০১ এবং ২০০৬ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় তার নিহত স্বামী এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি এতিমখানার জন্য বিদেশী অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। একই বছরের শেষের দিকে তাকে অন্য একটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যদিও তার দল দাবি করে যে দুটি মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

খালেদা জিয়ার সাজা এবং সাজা স্থগিতের ব্যাপার নিয়ে দেশে বিদেশে বিভিন্ন রকম মতামত আছে। কেউ মনে করেন এই বিচার রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত, তাই তার দণ্ড সঠিক নয়। কেউ মনে করেন খালেদা জিয়ার সাজা সঠিক, তার সাজা আরও বৃদ্ধি করা উচিৎ এবং সরকার সাজা স্থগিত করে বাড়িতে থাকার সুযোগ করে দিয়ে খালেদা জিয়া এবং বিরোধী দলের প্রতি যে অসামান্য দয়া প্রদর্শন করছেন এটা বিশ্বে একটি বিরল ঘটনা। কেউ কেউ ভাবছেন, সত্যি দোষী হয়ে থাকলে তার সাজা স্থগিত করে বাড়িতে থাকার সুযোগ করে দিয়ে সরকার একটি খারাপ নজির সৃষ্টি করেছেন। অন্য একটি মহল ভাবছেন, খালেদা জিয়ার পরিবার সাজা স্থগিতের আবেদন করে খালেদার অতীতের সকল সংগ্রামী এবং প্রত্যয়ী অতীত ইতিহাসকে ম্লান করে দিয়েছেন। কেউ কেউ ভাবছেন, বিচারিক আদালতে প্রাপ্ত দণ্ড স্থগিত করার আদেশ যদি সরকার দিতে পারে তাহলে একই আদেশে কেন তাকে বিদেশে যাবার সুযোগ দেয়া যায়না তা তারা অনুধাবন করতে পারছেন না।

SHARE THIS ARTICLE