গাজা উপত্যকায় হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ গাজা উপত্যকায় হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। হামাসের রকেট হামলার পর গাজা উপত্যকা লক্ষ্য করে বেশ কয়েক দফায় বিমান হামলা করেছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় অনুযায়ী সোমবার ভোররাতে এ হামলা চালানো হয়। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা। খবর বিবিসি।

ইসরায়েলের দাবি, দেশটির যুদ্ধবিমানগুলো শুধু হামাস-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেই হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হামাসের নেতাদের বাড়ি, মূল সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন, সে সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।

তীব্র বিমান হামলার মধ্যে ভীতসন্ত্রস্ত দিনযাপন করছেন গাজার অধিবাসীরা। ফিলিস্তিনের মানবাধিকার কর্মী নাজলা শাওয়া জানান, তারা মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে বসে ছিলেন। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়েই শান্তিতে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। সপ্তাহজুড়ে চলা বিমান হামলার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের পরিচিত, আমাদের সহকর্মী, সাধারণ মানুষ, পেশাজীবী, তরুণ ও বয়স্ক—সবাই মারা পড়েছেন।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, সোমবার ভোরের আগে ৫০টি যুদ্ধবিমান গাজা উপত্যকাকে লক্ষ্য করে ২০ মিনিট ধরে আক্রমণ চালায়। ৩৫টি ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু’তে হামলা চালায় তারা। এ সময় হামাসের নেতৃত্বাধীন একটি ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্কের ১৫ কিলোমিটার পথও ধ্বংস করা হয়। হামলা চালানো হয় হামাসের উচ্চপদস্থ নয়জন কমান্ডারের বাড়িতে। ইসরায়েলি সেনারা গাজা সীমান্তের নিকটবর্তী স্থান থেকে গোলাও নিক্ষেপ করে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার এক সপ্তাহ পেরিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দেশ দুটির প্রতি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেও ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, গত এক সপ্তাহে তার দেশে অন্তত তিন হাজার রকেট হামলা হয়েছে।

অন্যদিকে, গাজা থেকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতভর বিমান হামলার কারণে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শতাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০, যার মধ্যে ৫৯ শিশু ও ৩৫ জন নারী। আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৩০৫ জন। ইসরায়েলের দাবি, তাদের হামলায় অন্তত ১৩০ জন হামাস যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। যদিও হামাস এর সত্যতা নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে হামাসের হামলায় গত সপ্তাহে দুটি শিশুসহ ১০ ইসরায়েলের নাগরিকের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে বিবিসি।

এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, পূর্ণ শক্তি নিয়ে হামলা চলবে। যদিও যুদ্ধবিরতির জন্য কিছুটা চাপ আছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। এ সময় ইসরায়েলের পাশে থাকার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত বাইডেনও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে এ আহ্বান জানান তিনি।

SHARE THIS ARTICLE