গাজা ‘পুনর্নির্মাণে’ সহযোগিতা করবেন বাইডেন

আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাইন ডেস্কঃ ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা শহরে নতুন অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব মেটাতে দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধান ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তবে সমালোচনার পরও তিনি নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের আছে।’

চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকার কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়। মূলত এ ঘটনার পরেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় জেরুজালেমে। এর মধ্যে হামাসের রকেট হামলার জবাবে ১০ মে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। টানা ১১ দিনের হামলায় শিশুসহ নিহত হয় দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি। এরপর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় উভয় পক্ষ। হামলার শুরু থেকেই ইসরায়েলের পক্ষে সাফাই গান বাইডেন। এ নিয়ে নিজ দলের মধ্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

এ অবস্থায় গত শুক্রবার বাইডেন বলেন, ‘আমি নিজের অবস্থানে অটল আছি। ইসরায়েলের নিরাপত্তা অধিকারের ব্যাপারে আমার প্রতিশ্রুতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলের অস্তিত্ব দ্ব্যর্থহীনভাবে মেনে না নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেখানে শান্তি ফিরে আসবে না।’

হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও জেরুজালেমে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা অব্যাহত আছে। গত শুক্রবারও আল আকসা মসজিদে অভিযান চালায় ইসরায়েলি পুলিশ। সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে পূর্ব জেরুজালেমেও। এ ধরনের ‘অভ্যন্তরীণ সহিংসতা’ বন্ধে ইসরায়েলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাইডেন।

১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তিতে যে দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের কথা বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কার্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং অনেক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকই নিশ্চিত যে দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধান আর কখনোই সম্ভব নয়।

বাইডেনের পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পও  দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের কথা বলে আসছিলেন। ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জারেড কুশনার দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের একটি রূপরেখাও চূড়ান্ত করেছিলেন। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা তা প্রত্যাখ্যান করে। কারণ কুশনারের ওই রূপরেখায় যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছিল, তাতে ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসন ছিল খুবই সীমিত। আর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া ছিল শুধু ইসরায়েলের হাতে।

বাস্তবে অসম্ভব হয়ে পড়লেও বাইডেন সেই দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকারের ব্যাপারে আগের অবস্থানে থাকলেও একটি বিষয়ে আমার মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। সেটা হলো, দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধান। দ্বন্দ্ব মেটানোর প্রশ্নে এটাই একমাত্র উত্তর।’

এদিকে ইসরায়েল প্রশ্নে বাইডেনের ওপর দলের ভেতর থেকে চাপ বাড়ছে। কিন্তু তিনি মার্কিন কূটনীতির প্রচলিত পথেই হাঁটছেন। তিনি বারবার বলছেন, ‘আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের আছে’। কিন্তু এই অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরে বেশ বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাট শিবিরে এখন ফিলিস্তিনদের অবস্থা নিয়ে অনেক বেশি উদ্বেগের সুর শোনা যাচ্ছে। সেখানকার পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে।

SHARE THIS ARTICLE