
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ আর্জেন্টিনা ২(৪) : নেদারল্যান্ডস ২(৩),লুসাইল স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ের শেষ দিকে মেজাজ হারিয়ে দু’দল যেভাবে পেশীশক্তির লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে আর্জেন্টাইন ভক্তরা পড়েছিল শঙ্কায়। তবে সে শঙ্কা কেটেছে।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডস বাধা পেরিয়েছে আর্জেন্টিনা গোলশুণ্য সমতার ম্যাচ টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে। কাকতালীয়ভাবে ৮ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে সেই নেদারল্যান্ডসের বাধা পেরিয়েছে আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে!
নির্ধারিত এবং অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ২-২ গোলে অমিমাংসিত থাকা ম্যাচ টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে মেসি’র আর্জেন্টিনা।
রাশিয়া বিশ্বকাপে নক আউট পর্বের শুরুতেই থেমেছে আর্জেন্টিনা। কাজানে ফ্রান্সের কাছে ৩-৪ গোলে হেরে রাউন্ড অব সিক্সটিনে থেমে গেছে আর্জেন্টিনা। সেই দুঃসহ অতীত মুছে ফেলার উপায় এবার পেয়েছে ২ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সৌদি আরবের কাছে হারটাই তাঁতিয়ে দিয়েছে মেসি’র দলকে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলতে উঠে ছন্দটা ফিরে পেয়েছে আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব সিক্সটিনে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে আট-ঘাট বেধেই নেমেছে আর্জেন্টিনা।

৫-৩-২ ফরমেশনে জোনে মেসি-আলভারেজের ক্ষীপ্র গতি এবং ডি পল, ফার্নান্দেজ,অ্যালিস্টারের মিড ফিল্ড থেকে যোগান দেয়া বলগুলো নেদারল্যান্ডস ডিফেন্সকে বেশ ক’বার ফেলেছে আতঙ্কে।লুসাইল স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে তুলনামূলক ভাল খেলেছে নেদারল্যান্ডস। ৫৮% বলেল নিয়ন্ত্রন নিয়ে অবশ্য পোষ্ট টার্গেট করে নিয়েছে তারা ২টি শট। সেখানে আর্জেন্টিনা নিয়েছে ৪টি শট।
গোল করবেন, অবিশ্বাস্য সব পাসে সতীর্থকে দিয়ে করাবেন-এটাই মেসি’র বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছে দিতে টেনে নিচ্ছেন দলকে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
খেলার ৩৫ মিনিটের মাথায় মেসি’র যাদুকরী পাস থেকে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ভ্যান ডিক,গাপকো,ডি রনকে ডজে পরাস্ত করে মোলিনাকে দিয়েছিলেন মেসি দারুণ একটি পাস। ডি-বক্সের মুখ থেকে দুই ডিফেন্ডার এবং আগুয়ান গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেন মোলিনা (১-০)।গোলপোষ্টে প্রথমার্ধে নেয়া ৫টি শটের মধ্যে সফল আর্জেন্টিনা ওই একটি শটে।
খেলার ৭৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করে আর্জেন্টিনা। মার্কোস অ্যাকুনা বল নিয়ে বিপজ্জনকভাবে ডি বক্সে ঢুকেছেন দেখে তাকে নেদারল্যান্ডস ডিফেন্ডার ডামফ্রিজ দিয়েছেন ফেলে। এই অবৈধ ট্যাকল চোখ এড়ায়নি রেফরির। দিয়েছেন তিনি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত। পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে (২-০) আর একটি রেকর্ডে নিজের নাম লেখালেন মেসি। বিশ্বকাপে এটি মেসি’র ১০ম গোল। আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের মধ্যে এতোদিন বিশ্বকাপে এককভাবে বাতিস্তুতার ১০টি গোল ছিল সর্বোচ্চ। শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পেনাল্টি গোলে মেসি স্পর্শ করেছেন বাতিস্তুতাকে।

৭৩মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জয় নিশ্চিত করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ৩-৪-১-২ ফরমেশনে খেলার শেষ দিকে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স ভেঙ্গে দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। ৭৮তম মিনিটে ডিপের জায়গায় ওয়েগর্হস্টকে মাঠে নামিয়ে খেলার চেহারাটাই বদলে দিয়েছেন ডাচ কোচ । অবধারিত হার থেকে দলকে উদ্ধার করেছেন এই ওয়েগর্হস্ট ২টি গোল করে।
খেলার ৮৩তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বারগুইসের ক্রস থেকে ওয়েগর্হস্ট দারুণ হেডে ব্যবধান কমান (১-২)। খেলার ৮৯ তম মিনিটে দু’দলের খেলোড়দের মধ্যে হাতাহাতির মতো ঘটনা ঘটেছে। নেদারল্যান্ডসের একে-কে ফাউল করার পর অকারনে নেদারল্যান্ডসের সাইড বেঞ্চের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য করে বলে শট মারেন আর্জেন্টিনার পেড্রেজ। এই ঘটনায় নেদারল্যান্ডসের ডাগ আউটের খেলোয়াড়রা মাঠে ঢুকে চড়াও হয়।
মাথা গরম করে আর্জেন্টিনা খেলার নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে নিজেরাই পড়েছে চাপে। তার মাশুল দিয়েছে মেসি’র দল। খেলার ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে (১০ম মিনিট) বদলি খেলোয়াড় পেজেলা ওয়েগর্হস্টকে অকারণে ফাউল করায় ডি বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফ্রি কিক পায় নেদারল্যান্ডস। মেজাজ গরম করে রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ড খেয়েছেন মেসি। ২২ গজ দূর থেকে সেই ফ্রি কিক সরাসরি না নিয়ে কপমিনার্স ছোট্ট পাস দেন ওয়েগর্হস্টকে। দারুণ শটে সমতা আনেন বদলি খেলোয়াড় ওয়েগর্হস্ট (২-২)। ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে নেদারল্যান্ডস সমতা আনায় ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
খেলার ৮২ মিনিটে মার্টিনেজ এবং ১১২ মিনিটে ডি মারিয়াকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামিয়ে আক্রমনের ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ ৭ মিনিটে অন্ততঃ ৪টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছে আর্জেন্টিনা। মার্টিনেজ এবং মেসি’র ৪টি শট কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করে নেদারল্যান্ডস। খেলার শেষ মিনিটে মার্টিনেজের শট সাইড পোষ্টে লেগে প্রতিহত হলে টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচটি। টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক ই মার্টিনেজ নেদারল্যান্ডসের প্রথম দুটি শট প্রতিহত করেন। ভ্যান ডিক এবং বারগুইসের শট ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করলে জয়ের আবহ পায়।টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার মেসি, পেড্রেস, মন্টিল এবং লা মার্টিনেজ গোল করেন।টাইব্রেকারে শট মিস করেন আর্জেন্টিনার ফার্নান্দেজ। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে টাইব্রেকারে গোল করেন ডি ভ্রিজ, ওয়েগর্হস্ট এবং ডি জং।