ট্রাম্প প্রশাসনে পদত্যাগের হিড়িক

আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাইন ডেস্কঃ মার্কিন পার্লামেন্ট ক্যাপিটল ভবনে হামলা-তাণ্ডবে ট্রাম্পে উগ্র সমর্থকদের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কালো দিন। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের জন্য মর্মান্তিক ঘটনা। বিশ্বের অন্যান দেশের কাছে হাস্যকর। এই ঘটনার পর হোয়াইট হাউসের অন্তত তিনজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। আরও বেশ কয়েকজন পদত্যাগ করবেন বলে আভাস মিলছে।

পদত্যাগ করা কর্মকর্তারা হলেন- হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সারাহ ম্যাথিউস, সোশ্যাল সেক্রেটারি রিকি নিকেটা ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের চিফ অফ স্টাফ স্টেফাইন গ্রিশ্যাম। বুধবার (৬ ডিসেম্বর) রাতেই তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

মেলানিয়া ট্রাম্পের চিফ অফ স্টাফ গ্রিশ্যাম এক টুইটার পোস্টে বলেছেন, হোয়াইট হাউসে কাজ করে দেশকে সেবা দিতে পারাটা গর্বের। মেলানিয়া ট্রাম্পের মিশনে বিভিন্ন স্থানে শিশুদের সহযোগিতা করতে পেরে ও এই প্রশাসনের অনেক অর্জনের অংশ হতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি।

ম্যাথিউস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনে সেবা দিতে পেরে এবং যে নীতিগুলো আমরা গ্রহণ করেছি তাতে আমি গর্বিত। তবে আজ আমি যা দেখেছি তাতে আমি ভীষণভাবে বিরক্ত। আমি আমার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি যা এই মুহূর্ত থেকে কার্যকর হবে। আমাদের জাতির একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রয়োজন। স্টেফাইন গ্রিশ্যাম ও রিকি নিকেটা ট্রাম্প প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। গ্রিশ্যাম এর আগে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা বুধবার কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে বসেন। উভয় কক্ষের এই অধিবেশনে পপুলার ভোটের ভিত্তিতে ইলেকটোরাল কলেজের দেয়া ভোটগুলো গোনা হয় এবং তা চূড়ান্তভাবে প্রত্যয়ন করা হয়। অধিবেশনের কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই এর বিরোধিতা করে ওয়াশিংটনে জড়ো হতে থাকেন কয়েক হাজার ট্রাম্প সমর্থক। সমাবেশে বক্তব্য দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে তিনি নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সমাবেশের অল্প একটু দূরেই ক্যাপিটল ভবন। ট্রাম্পের কয়েকশ উগ্র সমর্থক সেখানে গিয়ে ভবনের নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। কংগ্রেসের অধিবেশন চলাকালেই পুলিশের বাধা ভেঙে ভবনে ঢুকে পড়েন তারা। ভবনে ভাঙচুরও চালান। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ। গোলাগুলি এবং প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটে।

ক্যাপিটল ভবন থেকে ট্রাম্প সমর্থকদের হটাতে তিনঘণ্টা সময় লাগে পুলিশের। শেষ পর্যন্ত বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ক্যাপিটল ভবনকে নিরাপদ ঘোষণা করে পুলিশ। পরে আইনপ্রণেতারা ফের অধিবেশনকক্ষে ফিরে আসেন। আবার শুরু হয় যৌথ অধিবেশন।

ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদত্যাগের বিষয় বিবেচনা করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক রবার্ট ওব্রেইন, উপ জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক ম্যাট পটিংগার ও ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ ক্রিস লিডেল রয়েছেন।

SHARE THIS ARTICLE