ঢাকায় ১১ দফা দাবি জানিয়ে প্রবাসীদের সংবাদ সম্মেলন

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটানোর পর দেশে ফেরত এলে তাদের প্রবাসী অবসর ভাতা প্রদানসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে প্রবাসীরা।রোববার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানান প্রবাসীরা।

প্রাবাসীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রবাসী মাসুদ । তিনি বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থ-সামজিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দারিদ্র বিমোচন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের দুই কোটির অধিক লোক বর্তমানে প্রবাসে কর্মরত আছে। প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ রেমিট্যান্স হিসাবে বাংলাদেশে পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্রতা বিমোচন, মানুষের জীবন মান উন্নয়ন, আর্থ-সামাজিক অবস্থার টেকসই উন্নয়নে এবং বৈদশিক মুদ্রার রিজার্ভের সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে বিধায় তাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলা হয়। প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূরীকরনের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা এবং সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন। প্রবাসীদের যত বেশী সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হবে তত বেশী রেমিট্যান্স আসবে দেশে। আর রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল থাকলে দেশের অর্থনীতির দ্রুত উন্নতি ঘটবে।

এসময় তারা অবসর ভাতা প্রদানসহ ১১ দফা দাবিতে তুলে ধরেন তাদের দাবিগুলো হলো

১। ১৫ বছর রানিং প্রবাসী, এককালিন দেশে চলে আসলে তাহার যুক্তিসংগত প্রবাসী অবসর ভাতা দিতে হবে।

২। একজন রানিং প্রবাসী-প্রবাসে কিংবা ছুটিতে দেশে এসে কোন কারনে মৃত্যু বরণ করিলে বা কর্মক্ষেত্রে শারীরিক পঙ্গুত্ববরণ করলে এককালীন তার পরিবারকে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা প্রনোদনা বা ক্ষতিপূরন হিসেবে প্রদান করিতে হবে।

৩। কোন প্রবাসী প্রবাসে মৃত্যু বরণ করিলে ওই প্রবাসীর লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে এবং ব্যবস্থাপনায় দেশে ফেরত আনতে হবে এবং মৃতের স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দিতে হবে।

8। প্রত্যেক প্রবাসীকে প্রবাসী পরিবার নামে বিশেষ স্মার্ট কার্ড প্রদান করিতে হবে। ঐ স্মার্ট কার্ড দ্বারা বাংলাদেশের সরকারী, আধা-সরকারী, বেসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সহ প্রত্যেকটি সেক্টরে প্রতিটি কজে যেমনঃ মেডিকেল ট্রিটমেন্ট ইউনিয়ন অফিস, থানা, সিটি কর্পোরেশন, ভূমি অফিস, পরিবহন সেক্টর থেকে শুরু করে সকল নাগরিক সেবায় প্রবাসীর পরিবার যেন সুফল ভোগ করতে পারে।

৫। শুধুমাত্র পাসপোর্ট, ভিসা কপি অথবা আকামা কপি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবাসীকে সহজ শর্তে প্রবাসী কল্যান ব্যাংক এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বা মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংক সমূহ হইতে বিনাসুদে বা সহজ শর্তে হাউজ লোন, ব্যবসায়িক লোন সহ অন্যান্য লোন দিতে হবে এবং কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশ গমনে আগ্রহী ব্যক্তিকেও উক্ত ব্যাংক গুলো হইতে লোন প্রদান করিতে হবে।

৬। কোন কারনে বাংলাদেশে কোন রানিং প্রবাসির নামে কোন প্রকার মামলা মোকাদ্দমা হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির বিধি বিধান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। মামলা নিস্পত্তি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০-১২০ দিন হতে পারে।

৭। প্রবাসে কোন প্রবাসির কোন রকম সমস্যা হলে বাংলাদেশ দুতাবাস সকল প্রকার সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। প্রবাসীদের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করতে হবে। বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পালন বা পদক্ষেপ গ্রহনের প্রশাসনিক এবং আইনী কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে।

৮। অসুস্থ্যতার কারনে কোন প্রবাসী দেশে আসলে বাংলাদেশের সকল সরকারী মেডিকেলে উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে হবে।

৯। প্রতিটা প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা দিতে হবে। প্রবাসী পরিবারের সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসী পরিবারের সামাজিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে রাষ্ট্র বা সরকার উপযুক্ত নীতিমালা ও কর্মপন্থা তৈরী করিয়া তাহা যথাযথ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

১০। এয়ারপোর্টে কোন প্রকার লাগেজের ক্ষতি হলে প্রতিটা খালি লাগেজের জন্য ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা ৭ দিনের মধ্যে দিতে হবে এবং লাগেজের ভিতর কোন মালামাল চুরি হলে প্রতি কেজি ছামানোর মুল্য গড়ে ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা করে বিমান কর্তৃপক্ষ ৭ দিনের মধ্যে দিতে হবে। এয়ারপোর্টের ট্রলি এয়ারপোর্ট পার্কিং এরিয়ায় নেওয়ার সুবিধা করে দিতে হবে।

১১। অভিবাসনের ক্ষেত্রে এবং বিদেশ যাত্রায় হয়রানী প্রতিরোধ করতে হবে এবং বিমানবন্দরে জটিলতা ইত্যাদি নিরসনে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। প্রবাসীরা বাংলাদেশে আসতে এবং বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে যেসব অনাকাঙ্কিত জটিলতায় পরেন তার স্থায়ী নিরসন করতে হবে এবং প্রবাসীর বিদেশে গমনাগমন সহজ ও সুশৃঙ্খল করার কার্যকর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন বা তৈরী করতে হবে।

SHARE THIS ARTICLE