ঢাকার দোহারে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে চলছে প্রমিজ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ

আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাইন ডেস্কঃ ঢাকা জেলার দোহারে মেঘুলাবাজারে প্রমিজ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চলছে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে। সরেজমিনে ক্লিনিকটিতে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায় লুৎফর রহমান মিলন জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। কক্ষের ভেতরে গিয়ে পরিচয় জিজ্ঞেস করাতে তিনি নিজেকে ক্লিনিকটির আবাসিক ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তার বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর কত তা জানতে চাইলে তিনি সেখান থেকে দৌড়ে ক্লিনিকের বাহিরে চলে যান। এরপর তিনি আর ক্লিনিকে ফেরনেনি।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে অবশেষে ক্লিনিকটির রিসিপশন ডেস্কে কর্মরত কণিকা নামের নারীর কাছ থেকে ভুয়া এই ডাক্তার মিলনের ফোন নাম্বার নিয়ে মুঠোফোনে তার বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানতে চাইলে তিনি রেজিস্ট্র্রেশন নাম্বার দিচ্ছি বলে ফোন কেটে দেন। এরপর তার নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

মালিকপক্ষের কাউকে না পেয়ে ক্লিনিকটির রিসিপশন ডেস্কে কর্মরত কণিকা আক্তার নামের এক নারীকে জিজ্ঞেস করা হয় ভুয়া ডাক্তার মিলনের বিএমডিসি রেজিস্ট্র্রেশন নম্বর ডেক্সে আছে কিনা। উত্তরে কণিকা বলেন নেই, ভিজিটিং কার্ড চাইলে তাও নেই বলেন।

এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে হাসপাতালের মালিক আবুল কালাম হাওলাদার ওরফে যাত্রা আবুল নামের এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে এই প্রতিবেদকে হুমকি-ধামকি দিয়ে বলেন, ‘বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানতে চাওয়ার ক্ষমতা আপনার নেই। আপনি যা পারেন করেন।

ক্লিনিকটিতে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, সৃষ্টিকর্তার পরই আমরা ডাক্তারদের বিশ্বাস করে চিকিৎসা নিতে আসি। আর তারাই যদি ভুয়া হয়। তাহলে আমরা যাব কার কাছে?এদিকে ক্লিনিক মালিক যাত্রা আবুল সাংবাদিককে ফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা করেছেন অনেকেই। দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা সব সময়ই বদ্ধপরিকর। কোনো ক্লিনিক যদি ভুয়া ডাক্তার দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহায়তায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম বলেন, তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

SHARE THIS ARTICLE