নিম্ম ও মাঝারি আয়ের দেশগুলোতে ভ্যাকসিন পৌছে দেবে ইউনিসেফ

সৈয়দ আতিকুর রব : করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২০২১ সালে প্রতি মাসে ৮৫০ টন পর্যন্ত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পরিবহন করতে পারে ইউনিসেফ। সংস্থাটির নতুন এক মূল্যায়নে একথা বলা হয়েছে। সাধারণত প্রতি মাসে ইউনিসেফ যে পরিমাণ ভ্যাকসিন পরিবহন করে, এটি হবে তার দ্বিগুণ। অবশ্য তার জন্য আগে এই পরিমান ভ্যাকসিন সহজলভ্য হতে হবে। ৯২টি নিম্ম ও মাঝারি আয়ের দেশের জন্য ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও সরবরাহ বিষয়ক ইউনিসেফের কর্মপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই মূল্যায়নটি করা হয়েছে। প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পিএইইচও) সহযোগিতায় কোভ্যাক্স প্রোগ্রামের আওতায় ভ্যাকসিন বিতরণের কাজটি করে থাকে ইউনিসেফ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগ এই কোভ্যাক্স। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিটা ফোর বলেন, এটি একটি বিশাল ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তিনি বলেন, কাজটি কঠিন, তবে আমরা প্রস্তুত।

Norwegian and UNICEF to fly aid to Syrian refugees | AIR CARGO WEEK

২০২১ সালে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পরিবহনের চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে ইউনিসেফের মূল্যায়নে বৈশ্বিক বিমান পরিবহণের ক্ষমতা ও রুটগুলোর বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে,বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো৯২টি নিম্ম ও মাঝারি দেশের প্রায় সবগুলোতেই ভ্যাকসিন পৌছে দিতে পারবে। কোভ্যাক্স প্রোগামে অংশগ্রহণকারী ১৯০টি দেশের মাঝে এই দেশগুলোও রয়েছে। এই প্রোগ্রামের আনুমানিক খরচ ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে ইউনিসেফের মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের পরিমাণ এবং বাণিজ্যিক ও কার্গোবিমানের বিশ^ব্যাপী রুটগুলোর মাঝে তুলনা করে দেখা গেছে এতে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা যাবে তাতে ৯২টি দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের চাহিদা পূরণ করা যাবে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটগুলোতেই কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পরিবহণের চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও কিছু ছোট কিংবা বিমান পরিবহনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এমন দেশের জন্য ভাড়া করা বিমান বা বিকল্প কোন পরিবহনের প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্বব‌্যাপী দ্রুত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পৌছে দেয়ার বিষয়ে এয়ারলাইন্স ও বিশ্বব‌্যাপী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করছে ইউনিসেফ। তবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা বলেছে ইউনিসেফ।

Bid to Fly as a Passenger Aboard the Norwegian Air Boeing 787 UNICEF Flight  - InsideFlyer

সেটি হলো নিম্ম ও মাঝারি আয়ের দেশে স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন মজুদ রাখার ব্যবস্থা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সহযোগিতার জন্য ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স (গাভি) যৌথভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ ও সংরক্ষণ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছে। এতে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণ, সংরক্ষণ, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য দেশগুলোর সরবরাহ কৌশল উন্নত করণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন মজুদের জন্য যে প্রোয়োজনীয় তাপমাত্রার কথা বলা হয়েছে সে অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, যাতে যথাযথ তাপমাত্রায় ভ্যাকসিনটি সংরক্ষণ করা যায়। তবে আশার কথা হচ্ছে, ২০১৭ সালেই ভ্যাকনিস অ্যালায়েন্সের (গাভি) সহযোগিতায় ইউনিসেফ নিম্ম আয়ের দেশগুলোতে ৭০ হাজার কোল্ড চেইন ফ্রিজ স্থাপনের একটি প্রকল্প শুরু করেছে, যেটি ২০২১ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। এসব ফ্রিজের বেশির ভাগই হবে সৌরশক্তি চালিত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই প্রকল্পটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংরক্ষণে উপকারী হবে। কারণ এই ভ্যাকসিন ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। এছাড়া ভ্যাকসিন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও দেশগুলোর সাথে কাজ করছে ইউনিসেফ, গাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ইতোমধ্যেই দেশগুলো বিশাল এই কর্মপ্রক্রিয়ার জন্য তাদের প্রস্তুতিগত বিষয়গুলো যাচাই করে দেখছে। যার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও ভ্যাকসিনের নিরাপত্তার বিষয়গুলো তদারকি। চলতি সপ্তাহে ইউনিসেফ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩০০ ভ্যাকসিন এক্সপার্টের সাথে বৈঠক করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন অনেক সরকারি কর্মকর্তাও। ভ্যাকসিন সংগ্রহ এবং নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে সংস্থাটির। এছাড়া ভ্যাকসিন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৪১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। ভ্যাকসিন সরবরাহ, সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সামগ্রীর জন্য প্রয়োজন হবে এই অর্থের ।

সূত্র : ইউনিসেফ অফি‌সিয়াল ও‌য়েবসাইট

SHARE THIS ARTICLE