পদ্মা সেতুর কাজ বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ আগামী জুনে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ করে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। পিচ ঢালাই, মিডিয়ান তৈরি, ল্যাম্প পোস্ট স্থাপন, মুভমেন্ট জয়েন্ট, ব্লিস্টার ভায়াডাক্টের মতো কাজগুলো শেষ হলেই গাড়ি চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী হয়ে উঠবে সেতুটি। তবে সেতুতে রেললাইন স্থাপনের কাজ এখনো শুরু হয়নি। বাকি আছে রেলওয়ে ভায়াডাক্টের প্রিকাস্ট প্যারাপেট ও গ্যাস পাইপলাইন তৈরির কাজ। সম্প্রতি সেতু বিভাগে জমা দেয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল পাইলিংয়ের মাধ্যমে। এরপর ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়েছে পিয়ার (খুঁটি), স্প্যান, রোডওয়ে স্ল্যাব, রেলওয়ে স্ল্যাব, সুপার টি গার্ডার, রেলওয়ে আই গার্ডার, রোডওয়ে স্ল্যাব ফিলিং, রেলওয়ে স্ট্রিঞ্জার, প্রিকাস্ট প্যারাপেট স্থাপনের কাজ। সেতুর অগ্রগতি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেতুর কাজের ২২টি অঙ্গের মধ্যে ১১টি পুরোপুরি শেষ হয়েছে।

বর্তমানে পদ্মা সেতুর যেসব কাজ বাকি আছে তার মধ্যে অন্যতম রেলওয়ে ভায়াডাক্টের জন্য প্রিকাস্ট প্যারাপেট স্থাপন। এ কাজের অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল সেতুতে সব মিলিয়ে আটটি মুভমেন্ট জয়েন্ট তৈরি করা হবে। এর মধ্যে ছয়টির কাজ আংশিকভাবে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের এ অঙ্গের কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। আর সেতুর ভায়াডাক্টে মুভমেন্ট জয়েন্ট দেয়া হচ্ছে ১২টি। এর তিনটির কাস্টিং শেষ হয়েছে। এ কাজের অগ্রগতি ২৫ শতাংশ।

পদ্মা সেতুর কাজ মাত্র পাঁচ শতাংশ বাকি

১ লাখ ২৩ হাজার বর্গফুট ওয়াটারপ্রুফ কাজ করা হবে। এর মধ্যে ওয়াটারপ্রুফের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার বর্গফুটের। অঙ্গটির কাজের অগ্রগতি প্রায় ১৬ শতাংশ। একইভাবে ১ লাখ ২৩ হাজার বর্গফুট পিচ ঢালাই করা হবে। ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত পিচ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে ৫ হাজার ১০০ বর্গফুটে। এ কাজের অগ্রগতি ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। সেতুর ভায়াডাক্টে পিচ ঢালাইয়ের কাজ করা হবে সাড়ে ২৯ হাজার বর্গফুট। শেষ হয়েছে সাড়ে আট হাজার বর্গফুট। অঙ্গটির অগ্রগতি ২৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সেতুর ভায়াডাক্টে সব মিলিয়ে ৪১৫টি ল্যাম্প পোস্ট স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে ২৮৭টি ল্যাম্প পোস্ট। আর স্থাপন করা হয়েছে ১৭টি। এ অঙ্গের অগ্রগতি প্রায় ২০ শতাংশ। একইভাবে সেতুর আরসিসি ব্লিস্টার ভায়াডাক্টের ৯৭ শতাংশ ও আরসিসি মিডিয়ানের ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

পদ্মা সেতুর স্প্যানের ভেতরে, রেললাইনের পাশ দিয়ে স্থাপন করা হচ্ছে ৭৬২ এমএম গ্যাস পাইপলাইন। মূল সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পাইপলাইনের মধ্যে ৪ দশমিক ২ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। এ অঙ্গের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে সাতটি ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্লাটফর্মের মধ্যে দুটি সম্পন্ন হয়েছে। এ দুটি প্লাটফর্ম পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশকে (পিজিসিবি) হস্তান্তরও করা হয়েছে। বাকি পাঁচটি প্লাটফর্মের আংশিক কাজ শেষ। সার্বিকভাবে এ অঙ্গের কাজের অগ্রগতি ৭২ শতাংশ।

অবশিষ্ট থাকা কাজগুলো আগামী জুনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, জুনের মধ্যেই সেতুটি আমরা যান চলাচলের জন্য উপযোগী করে তোলার কাজ করছি। যেসব অঙ্গের কাজ এখন চলমান আছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলো এর মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।

সেতু চালুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে যানবাহন চালানো হবে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এর কোনো দরকার হবে না। এখন তো সেতুর ওপর দিয়ে আমাদের নির্মাণসামগ্রী বহনকারী যানবাহন চলাচল করছে। তাই আলাদা করে আর পরীক্ষামূলকভাবে যান চলাচলের প্রয়োজন হবে না। আমরা সরাসরি সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেব।

প্রসঙ্গত, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে। প্রথমে পিয়ার নির্মাণের জন্য পাইলিং, এরপর একে একে তৈরি হয় ৪২টি পিয়ার (খুঁটি)। ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয় ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ স্প্যান বসানোর মাধ্যমে পদ্মা সেতুর পুরো কাঠামো দৃশ্যমান হয়। আর গত বছরের আগস্টে সম্পন্ন হয় সেতুর সড়কপথ তৈরির কাজ। এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পে খরচ হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত নতুন একটি রেলপথ নির্মাণ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলপথটি নির্মাণে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল যেদিন পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সেদিন থেকেই চলবে ট্রেন। কিন্তু সেতুর ওপর রেলপথ নির্মাণকাজ শুরুর জন্য এখনো বাংলাদেশ রেলওয়েকে ‘সাইট’ বুঝিয়ে দিতে পারেনি সেতু কর্তৃপক্ষ। ফলে জুনে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হলেও ট্রেন চলাচল আপাতত শুরু হচ্ছে না।

SHARE THIS ARTICLE