ফেনীতে বোনকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদে ভাইকে হত্যাঃ গ্রেপ্তার ১০জন

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ছোট বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করার জেরে ইউপি সদস্যের কার্যালয়ে ডাকা শালিসে ‘বখাটে’র ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন এক যুবক।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর এলাকায় স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান সজীবের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি সুদ্বীপ রায় পলাশ।

নিহত রবিউল হক শাহেদ উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে। ২২ বছর বয়সী শাহেদ পেশায় এস্কেভেটর চালক ছিলেন।

নিহতের বোন সাথী আক্তার বলেন, বড়ভাই শাহেদ শুক্রবার বিকালে ছোটবোনসহ কয়েকজন আত্মীয়কে নিয়ে পর্যটন স্পট চম্পকনগর শমসের গাজীর দিঘি ও সুড়ঙ্গ এলাকায় বেড়াতে যান।

এ সময় স্থানীয় কয়েক ‘বখাটে’ ছোটবোনকে উদ্দেশ্য করে নানা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে এবং শরীরের ওড়না ধরে টান দেয়। এর প্রতিবাদে বখাটেদের সাথে তর্কের এক পর্যায়ে এক বখাটেকে ‘চড়-থাপ্পড়’ দেয় শাহেদ। এতে শাহেদের ওপর ক্ষিপ্ত হয় বখাটেরা।

সাথী আক্তার আরও বলেন, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারের জন্য বখাটেরা স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান সজীবের কার্যালয়ে জড়ো হয়।

পরে ঘটনাটি জানতে পেরে উভয়পক্ষকে সন্ধ্যায় তার কার্যালয়ে আসতে বলেন সজীব মেম্বার। অভিযুক্ত ‘বখাটে’রা সেখানে আগে থেকে অবস্থান করছিল।

“ভাই শাহেদ কার্যালয়ে গেলে বিচারের আলোচনার এক পর্যায়ে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় হঠাৎ এক বখাটে ভাইকে ঝাপটে ধরে তার বুকে একাধিক ছুরিকাঘাত করে।”

এতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শাহেদ। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক (ইএমও) আতকিয়া মাহমুদা তাহা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শাহেদের মৃত্যু হয়। নিহতের বুকে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

ওসি সুদ্বীপ রায় জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

হত্যা মামলায় একজন আসামীর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ও বাকি ৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

শনিবার ১ জুলাই বিকেলে রবিউল হক সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ১০ জন আসামিকে ফেনী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অপরাজিতা দাশ-এর আদালতে তোলে এক নাম্বার আসামী রফিকুল ইসলামকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। বাকি ৯ জন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ভাইকে হত্যা, আসাম...

পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ঈদের পরদিন শুক্রবার ৩০ জুন বিকেলে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নে রবিউল হক সাঈদ তার বোনকে নিয়ে উপজেলার পর্যটন স্পট এককুইল্লা দিঘী নামক স্থানে বেড়াতে যায়। ওই সময় চম্পকনগর এলাকায় বখাটেরা তার বোনকে নিয়ে আজেবাজে কথা বললে তর্ক-বিতর্ক হয়। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য সজিবকে জানালে তিনি বাজারে এলে মীমাংসা করে দিবেন বলে জানান। রবিউল হক সাঈদ মীমাংসার জন্য বাজারে গেলে সিএনজি থেকে নামার সাথে সাথে বখাটেরা তাকে ঘেরাও করে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় লোকজন বখাটেদের আটক করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের অফিসে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন। রবিউল হক সাঈদ ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পূর্ব জয়পুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

Reneta June

এ ঘটনায় নিহতের মা বিবি মরিয়ম (৪৮) বাদি হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আটক আসামিরা হলো— নেত্রকোনা জেলার কাঠপুরা (বনগাঁও) গ্রামের (চম্পকনগর তার শ্বশুর বাড়ি) রফিকুল ইসলাম (২২), ছাগলনাইয়া উপজেলার চম্পকনগর গ্রামের বেলাল হোসেন শুভ (২২), রুবায়েত হোসেন রাফি (১৯), শেফাউল করিম রিহান (২২), গোফরান উদ্দিন (৩০), মেহেরাব হোসেন সায়েম (১৮), নাসির উদ্দিন (৪২), আশরাফুল ইসলাম রাকিব (২১), ইকবাল হোসেন সাব্বির (২৫) ও নোয়াখালী জেলার চরজব্বর এলাকার উত্তর বাঘা (সমিতি বাজার) মোঃ ইমাম হোসেন (২২)। এছাড়া চম্পকনগর গ্রামের (নানার বাড়ী) মোঃ নয়ন (২০) মোঃ শাকিল (২০) সহ আরো অজ্ঞাত ৫-৬ জন আসামি পলাতক রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাগলনাইয়া থানার এসআই শাখাওয়াত হোসেন বলেন,  এজাহার নামিয় ও অজ্ঞাত বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

SHARE THIS ARTICLE