বাংলাদেশে সাপের খামার একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক খাত

কাজী মাহফুজুর রহমান শুভঃ সোনার থেকেও দামি সাপের বিষ কথাটা শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি। হ্যাঁ, সোনার চেয়েও সাপের বিষের দাম বেশি এখন বাজারে। সাপের বিষ দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরি হয়ে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। মানুষের জীবন রক্ষায় তৈরি ওষুধের অপরিহার্য একটি উপাদান সাপের বিষ। তাই বিশ্বের বহু দেশের বড় বড় কোম্পানি ওষুধ তৈরিতে সাপের বিষ ব্যবহার করে আসছে বহুকাল ধরে। কাজেই সাপের বিষ ওষুধ শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা মাল। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সাপের বিষ অবৈধভাবে পাচার হয়ে উন্নত বিশ্বে যাচ্ছে।

এছাড়া মাদকাসক্তি যাদের চরমে পৌঁছেছে, হেরোইন, মারিজুয়ানা বা কোকেনেও নেশাটা ঠিক জমছে না, তাদের মাদকে এখন মেশানো হচ্ছে সাপের বিষ। তাই দিনকে দিন চাহিদা বাড়ছে সাপের বিষের। ফেঁপে উঠছে এই বিষের অবৈধ ব্যবসাও। তাই দেশে সাপের বিষ কেনাবেচার বৈধতা না থাকলেও বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। এক যুগ আগে অতি দামি এ সাপের বিষকে বৈধ খাতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হলে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের রফতানি খাতে নতুন মাত্রা যোগ হতো।

বছরে অন্তত একশ কোটি টাকা মূল্যের বিষ পাচার হয় বাংলাদেশ থেকে। এ ধারণা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাপের বিষ পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি। ফেনী, বেনাপোল, সাতক্ষীরা, যশোর, কুমিল্লাসহ কয়েকটি এলাকায় একাধিক চক্র গড়ে ওঠেছে যারা সাপের বিষ সংগ্রহ ও চোরাচালানের সাথে জড়িত বলে পুলিশের ধারণা।

বাংলাদেশে বিষধর সাপের গোপন খামার: আইনে নিষিদ্ধ, কিন্তু তারপরও আছে কেমন করে?  - BBC News বাংলা

সাপের খামার নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেমে আছে : ২০০৮ সালের জুনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) দেশের এই নতুন সম্ভাবনাময় খাতকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়। বাণিজ্যিকভাবে সাপের বিষ রফতানি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তখন চীন, জাপান, কোরিয়া, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। যেসব দেশে সাপ খাদ্য তালিকায় রয়েছে সেসব দেশের খামার মালিকদের বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠিত হয়। আন্তঃমন্ত্রণালয়ে একাধিক বৈঠকও হয়। সাপের বিষ রফতানির এ উদ্যোগের খবর জেনে দেশের বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, পটুয়াখালী, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকার আগ্রহী উদ্যোক্তারা দেশি কোবরা (গোখরা) ও শঙ্খিনী জাতের সাপের খামারের নিবন্ধন পেতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করেন; কিন্তু পরে এ প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। ইতোমধ্যে ‘সাপের খামার ব্যবস্থাপনায় বিধিমালা ২০১৬’ চূড়ান্ত হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও মাদকাসক্ত লোকের অভাব নেই। এদের মধ্যে কিছু লোকের মাদকাসক্তি এমন স্তরে পৌঁছেছে যে কোকেন, হেরোইন, মারিজুয়ানা, আফিমেও নেশাটা ঠিক জমছে না। তাদের আরো কড়া নেশা দরকার। তাই তাদের মাদকে এখন মেশানো হচ্ছে সাপের বিষ। ফলে সাপের বিষের চাহিদা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ফুলে ফেঁপে উঠছে ড্রাগ সিন্ডিকেটের অবৈধ ব্যবসা। বলা বাহুল্য, সাপের বিষের ব্যবসা অসম্ভব লাভজনক। কোটি কোটি টাকার সাপের বিষ পাচার হচ্ছে দেশের বাইরেও। এ মুহূর্তে এক লিটার সাপের বিষের বাজার দাম প্রায় চার কোটি টাকা। ভারতে বিষ নিষ্কাশনের জন্য ধরা হয় প্রধানত চার প্রজাতির সাপু_ গোখরো, রাসেল ভাইপার, পিট ভাইপার এবং শাখামুটে। বিষ নিষ্কাশনের পর সেই বিষ চালান করা হয় দেশে এবং বিদেশে। দেশে চোরাচালানকারীদের নারকটিক সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক ব্যাপক। সরকারি নজরদার এজেন্সিও নাকের ডগায়। কিন্তু তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বেশ কয়েকটি চক্র গোখরো সাপের বিষ (কোবরা ভেনম) চোরাচালান ও কেনাবেচার সাথে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কোবরা ভেনম উদ্ধার করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সাপের বিষ বাংলাদেশের নয়, এটি ফ্রান্সের রেড ড্রাগন কোম্পানির তৈরি। এই বিষের বোতলের মুখ হাতে খোলা যায় না। বিশেষ এক ধরনের যন্ত্র বা গানের সাহায্যে খুলতে হয়। বোতলের মুখে যে ছিপি তাতে বিশেষ যন্ত্র ঠেকিয়ে ‘ফায়ার’ করলে বোতলের মুখ খুলে যায়। এই গানের সাহায্য ছাড়া কোনোভাবেই বোতলের মুখ খোলা যায় না।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ভেনম চোরাচালানের রুট হিসেবে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করা হয়। ইউরোপের দেশগুলোতে এই বিষ নেশা জাতীয় দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং বিষ থেকে ওষুধ তৈরি করা হয়।

গত বুধবার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধার করেছে সিআইডি। এসময় চক্রের মূলহোতা মো. মামুন তালুকদার ও তার সহযোগী মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে দুটি বড় লকার ও ৬টি কাঁচের কৌটায় ভরা সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলের গায়ে লেখা ছিল, COBRA Snake Poison of France, Red Dragon Compaû, Cobra Code No-80975, Made in France.

ফ্রান্সের বিষ কীভাবে বাংলাদেশে এলো- এ প্রশ্ন তাদের করা হলে কেউই সুষ্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি। তবে এ ধরনের পাচার কারিদের কাছ থেকে জানা যায়, তারা শুধু বিষের বোতলের ছবি নিয়ে বিক্রির জন্য ক্রেতা খোঁজেন। ক্রেতা পাওয়া গেলে ক্রেতার প্রতিনিধি এবং কোবরা ভেনম বিক্রেতার প্রতিনিধির মধ্যে প্রথমে ছবি দেখাদেখি হয়। এরপর হয় ভিডিও দেখাদেখি। পত্রিকার উপর বিষের বোতল রেখে ছবি তুলতে হয় বা ভিডিও করতে হয় যাতে ভিডিও করার বা ছবি তোলার তারিখ স্পষ্ট দেখা যায়। এ ছাড়া ক্রেতার প্রতিনিধি টাকার নোটের ওপর তারিখ লিখে দেন। সেই নোটটি বোতলের উপর রেখে ভিডিও করে বা ছবি তুলে দেয়া হয়। সেই ছবি বা ভিডিও দেখে ক্রেতার প্রতিনিধি নিশ্চিত হন যে, ওই ব্যক্তির কাছে কোবরা ভেনম আছে।

এরপর বিক্রেতার কাছে চাওয়া হয় ক্যাটালগ। দাম নির্ভর করে ক্যাটালগের উপর। ক্যাটালগে এই বিষ সম্পর্কে বিস্তারিত দেয়া থাকে। ক্যাটালগ না থাকলে বিষ বিক্রি হয় না। কোন ক্রেতা বা বায়ারকেই প্রথমে মূল ক্যাটালগ দেয়া হয় না। ক্যাটালগের রঙিন ফটোকপি দেয়া হয়। এটা দেখে পছন্দ হলে দাম নির্ধারণ হয়।

এরপরের ধাপে হয় স্যাম্পল পরীক্ষা। প্রতিসেট বোতলের সঙ্গে থাকে স্যাম্পল। বায়ার ল্যাবরেটরিতে স্যাম্পল পরীক্ষা করেন। অবশ্য চক্রের সদস্যরা জানান, আমাদের দেশে এই স্যাম্পল পরীক্ষা করার মতো কোন ল্যাবরেটরি নেই। স্যাম্পল থাকে শ্যাম্পূর প্যাকেটের মত ছোট প্যাকেটে। স্যাম্পলের কোড নাম্বার এবং মূল বোতলের কোড নাম্বার এক থাকে। মূল বোতলের সেট বুঝে নেয়ার সময় এই কোড নম্বর মিলিয়ে নেয়া হয়।

চক্রের সদস্যরা জানান, তাদের কাছে থাকা বোতলের দাম কোন বায়ারের প্রতিনিধি তিন কোটি, কেউ পাঁচ কোটি বলে। বিক্রি করে দেয়ার জন্য বায়ারের প্রতিনিধিকে কমিশন দিতে হবে অর্ধেক টাকা। তিনকোটি টাকার মধ্যে অর্ধেক দিলে তাদের জনপ্রতি থাকবে দুই লাখ থেকে তিন লাখ টাকা। অনেক সময় বায়ারের প্রতিনিধি বিভিন্ন তালবাহানা করেন। এ কারণেও তারা বায়ারের প্রতিনিধির প্রতি বিশ্বাস আনতে পারেন না। কারণ, টাকা হাতে পাবেন কি পাবেন না তা নিয়েও থাকে নিশ্চয়তা। এই বিষ দিয়ে কি হয়- এ প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, তারা শুনেছেন দূরারোগ্য ব্যাধির ওষুধ নাকি তৈরি করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক জানান, চীন ও তাইওয়ানে আগে নেশার দ্রব্য হিসেবে সাপের বিষ ব্যবহার হতো। সাধারণ মাদকদব্যে যাদের কাজ হতো না, তারা সাপের বিষের (তরল করতে করতে মাত্রা কমিয়ে ফেলা) মাত্রা একেবারে কমিয়ে ব্যবহার করতো। চীনে যখন মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে বিপ্লব হয় তখন মাদকদ্রব্যের সব কারখানা ও দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ওই সব এলাকায় কালো বাজারে বিষের এখনো চাহিদা আছে। এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে খবরাখবর পাই। ইউরোপে কোন কোন ওষুধ কোম্পানি সাপের বিষ কিনে থাকে। সাপের বিষ খুবই দামি এবং বহনে সুবিধা। বাংলাদেশে এর কোন ব্যবহার নেই। অতো হাই টোকনোলজির ওষুধ কোম্পানি বাংলাদেশে নেই। রেড ড্রাগন কোম্পানির যে কোবরা ভেনম আমাদের দেশে ধরা পড়ে তা এখানে ব্যবহারের জন্য আসে না। বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের দেশগুলোতে চোরাচালান হয়ে যায়।

এর আগেও কয়েক বছর ধরে সাপের বিষ উদ্ধারের খবর নিয়মিতই পাওয়া যাচ্ছে। ২০১৭ সালে ঢাকা থেকেই ১২ পাউন্ড সাপের বিষ উদ্ধার করেছিল পুলিশ তখন যার মূল্য ছিল প্রায় ৬৮ কোটি টাকা। তার আগের বছর চুয়াডাঙ্গা থেকে বারো কোটি টাকা মূল্যের বিষ উদ্ধার করা হয়েছিল। অন্যদিকে ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে জলপাইগুড়িতে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধারের ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এছাড়া ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাউতগ্রাম থেকে ১২ পাউন্ড গোখরোর বিষ উদ্ধার করে র‌্যাব-৯ এর একটি দল। এ সময় সাতজনকে আটক করা হয়। একটি ক্যাটালগও পাওয়া গিয়েছিলো। উদ্ধার করা বিষের মূল্য ছিলো ৪৬ কোটি টাকা।

২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটে একটি আবাসিক হোটেল থেকে ১২ পাউন্ড কোবরার বিষ উদ্ধার করেন র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের সদস্যরা। ঐ চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা বিষের মূল্য ৬৮ কোটি টাকা বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলো র‌্যাব। ২০১৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা থানা এলাকা থেকে ছয় বোতল সাপের বিষ উদ্ধার করে পুলিশ। এই বিষের আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি টাকা। ২০১০ সালে মতিঝিল থেকে র‌্যাব সদস্যরা দুই আউন্স সাপের বিষ উদ্ধার করে। ২০০৯ সালের আগস্টে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি আবাসিক হোটেল থেকে ১২ আউন্স সাপের বিষ উদ্ধার করে র‌্যাব। ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পাবনার ফরিদপুর উপজেলা থেকে ১২ পাউন্ড সাপের বিষ উদ্ধার করে র‌্যাব-১২ এর সদস্যরা। দেশে এরকম বিভিন্ন সময়ে গোখরো সাপের বিষ উদ্ধারের নজির রয়েছে।

কোথা থেকে আসে বিষ, যায়ই বা কোথায় : এ বিষয়ে র‌্যাবের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলছেন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। তবে আমরা যেগুলো উদ্ধার করেছি সেগুলোর প্যাকেটের ধরন দেখে মনে হচ্ছে বাইরে থেকে এসেছে। আর জারগুলোতে লেখা ছিল মেড ইন ফ্রান্স। এর আগে গাজীপুরে বিষ উদ্ধারের পর সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেছিলেন তারা যে বিষ উদ্ধার করেছিলেন তার জারগুলোতেও ‘মেড ইন ফ্রান্স’ লেখা ছিল। তিনি তখন বলেছিলেন পাচারকারীরা সাপের বিষ পাচারের রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আসছে।

শেখ মো. রেজাউল হায়দার অবশ্য বলেছিলেন যে বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিষ পাচার হয়। আবার কখনো সেসব দেশ থেকে এনেও অন্য দেশে নেয়া হয়। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের আইনে সাপের বিষের লেনদেন বা ক্রয়-বিক্রয় এবং পাচার দ-নীয় অপরাধ। তারপরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বিষ পাচার হয় বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে। ফেনী, বেনাপোল, সাতক্ষীরা, যশোর, কুমিল্লাসহ কয়েকটি এলাকায় একাধিক চক্র গড়ে ওঠেছে যারা সাপের বিষ সংগ্রহ ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের ধারণা।

তবে একমত নন সাপ গবেষক : সাপ ও সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক মো. আবু রেজা। তিনি বলেন, বিষ কোথা থেকে আসে আর কোথায় যায় এ প্রশ্ন তোলার আগে পরীক্ষা করে দেখতে হবে যা উদ্ধার করা হয়েছে তা আসলে সাপের বিষ কিনা। কয়েক বছর আগে এমন উদ্ধার করা সাপের বিষের নমুনা পরীক্ষার সুযোগ আমার হয়েছিল। সেগুলো বিষ ছিল না। তবে সেগুলো কি তা আমিও নিশ্চিত নই। মনে হয়েছিল মাদকজাতীয় কিছু হতে পারে। স্বল্পমাত্রায় সাপের বিষ দিয়ে মাদকের প্রচলন কোথাও কোথাও রয়েছে। তবে যা উদ্ধার হয়েছে তা নিয়ে যথাযথ পরীক্ষা হওয়া দরকার।

বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান ওষুধ তৈরিতে সাপের বিষ ব্যবহার করে না। তবে ২০১৭ সাল থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরির লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং জার্মানির গ্যেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। প্রকল্পের জরিপের কাজ অর্থাৎ দেশি সাপের প্রায় সব ধরনের প্রজাতির ওপর জরিপ চালানো শেষ হয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে বিষধর সাপের প্রজাতি সংগ্রহ এবং সেগুলোর লালনপালনের জন্য লোকজনকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজও চলছে। বিষধর সাপের জীবনযাপন ও দংশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুরোপুরি জানার পরই অ্যান্টিভেনম তৈরির কাজটি সফল হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

SHARE THIS ARTICLE