
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ সম্মানিত পাঠক আজকে আলোচনা করবো একটি দোয়া সম্পর্কে, সেজদারত অবস্থায় আপনি যে দোয়া ১০ বার পাঠ করলে আল্লাহ মহান আপনার মনের সকল নেক আশা পূরণ করে দিবে। আপনি যা চাইবেন আল্লাহপাক আপনাকে তাই দান করবেন। পুরো আমলটি করার নিয়ম জানতে লেখাটি শেষপর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
আমাদের এই সমাজে কে না চায় তার চাওয়া-পাওয়াগুলি পূরণ হোক, সবাই চায়, আমি আল্লাহতা’আলার কাছে যা চাইবো তা যেন তিনি পূরণ করে দেন। সবাই চায় আল্লাহতা’আলার প্রিয় বান্দা/বান্দি হতে, এই জন্য সমাজে সকল মাখলুকাতের আশা-আকাঙ্খা আল্লাহতা’আলা পূরণ করে থাকেন। আপনি যদি এই দোয়াটি সেজদার মধ্যে ১০ বার পাঠ করতে পারেন, তাহলে আল্লাহতা’আলা আপনার সকল চাওয়াগুলি পূরণ করে দিবেন। আমরা এতদিন মোনাজাতে দোয়া করা শিখেছি, অথচ সেজদার মধ্যেও কিন্তু দোয়া করা সম্ভব। সেজদার মধ্যে রাব্বুল আলামিনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে যায় বান্দা।
হাদিস শরিফে আছে, যে বান্দা কখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সবচেয়ে কাছাকাছি চলে যায়, এর একমাত্র উত্তরঃ
রাসুল (সাঃ) বলেছেন- যে বান্দা সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়ে যখন সেজদায় যায় তখন বান্দা এবং রাব্বুল আলামিনের মধ্যে কোন গ্যাপ থাকে না। সুবহানাল্লাহ! আপনি যা চাইবেন আল্লাহতা’আলা তাই কবুল করবেন। সম্মানিত দর্শক এর জন্য আপনার মনের মধ্যে একিম এবং এখলাস থাকতে হবে।
আমি সবসময় এই কথাটি বলে আসছি, দোয় বা আমল রাব্বুল আলামিনের দরবারে কবুলের জন্য আপনার দিলের মধ্যে পরিপূর্ণ আস্থা রাখতে হবে, একশত ভাগ রাখতে হবে। এবং নিয়ম জেনে এবং তা জেনে আমলটি করতে হবে, ইনশাআল্লাহ আল্লাহতা’আলার রহমতে আপনি সফলতা পাবেন।
এই আমলটি করার নিয়ম হলো, এই আমলটি আপনাকে করতে হবে তাহাজ্জুদের নামাজের সময়। মনে রাখবেন এই আমলটি আপনি ফরজ নামাজের সেজদায় করতে পারবেন না। এটি করতে হবে নফল নামাজ তথা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সময় হল তাহাজ্জুদের নামাজের সময়। কেননা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া হয় শেষ রাতে। আর হাদিস শরিফে আছে শেষরাতে একটি বিশেষ সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিচের আসমানে নেমে এসে বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কার কি প্রয়োজন আমার কাছে চাও, আমি তা পূরণ করে দিবো, কে অভাবগ্রস্থ আমার কাছে চাও, আমি অভাব মিটিয়ে দিব, কে ঋণগ্রস্ত আমার কাছে চাও, আমি ঋণ পরিশোধ করার তৌফিক দান করবো।আল্লাহু আকবর! আপনি তখন যদি তাহাজ্জুদের বিছানায় নামাজে দাঁড়িয়ে সেজদারত হয়ে রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়াটি পাঠ করেন আল্লাহতা’আলা আপনার মনের সকল ইচ্ছেগুলি পূরণ করে দিবেন, ইনশাআল্লাহ!
দোয়াটি হচ্ছে, কোরআন শরিফের এই আয়াত আমরা সবসময় মোনাজাতে পড়ে থাকি,
“রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানা, ওয়াফিল আ’খিরাতি হাসানা, ওয়াকিনা আজাবান্নার”
—সূরা বাকারানঃ ২০১
অর্থঃ হে রব আপনি আমার দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, ইয়া আল্লাহ আপনি আখেরাতেও আমাকে কল্যাণ দান করুন, হে প্রভু আপনি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান।
আপনি তাহাজ্জুদের নামাজের ভিতরে সেজদারত অবস্থায় প্রথম সেজদা হোক, দ্বিতীয় সেজদা হোক, প্রতিরাকাতেই হোক সেজদার তজবি পাঠ করে সেজদারত অবস্থায় এই দোয়াটি দিল থেকে খাস নিয়তে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে ১০ বার পাঠ করবেন, ১০ বার পাঠ করে আপনি নামাজ শেষ করে কয়েকবার আস্তাগফিরুল্লাহ, কয়েকবার দুরুদ শরিফ পড়ে তারপর আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করবেন, ইনশাল্লাহ, ইনশাআল্লাহ আপনি যা চাইবেন আল্লাহ’পাক রব্বুল আলামিন আপনাকে তাই দান করবেন।
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া বলা হয়, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এই দোয়াটি সবচেয়ে বেশি করতেন।
সুপ্রিয় দর্শক, দুনিয়াতে আল্লাহতা’আলার যত ওলী, গাউছ, কুতুব রয়েছেন, এবং আল্লাহতা’আলার নিকটতম বান্দা রয়েছেন একমাত্র তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের ফলে অতি তারাতাড়ি আল্লাহতা’আলার নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব হয়েছে। এই জন্য বেশি বেশি তাহাজ্জুফের নামাজ পড়বেন এবং নামাজে সেজদার মধ্যে এই কোরআনের আয়াতটি ১০ বার পাঠ করার চেষ্টা করবেন, ইনশাআল্লাহ! আর আপনি যদি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে না পারেন তাহলে যেকোনো সময় দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবেন ও সেজদারত অবস্থায় এই দোয়াটি পাঠ করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করে নিবেন, এবং আপনার সকল চাওয়, সকল অপূর্ণতা আল্লাহতা’আলা পূরণ করে দিবেন।
এই আমলটি আপনি কতদিন করবেন, আপনি আল্লাহর কাছে যেই আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বলছেন, যে দোয়াগুলি করছেন, যতদিন পর্যন্ত না আপনার আশাগুলি পূরণ হয়, ততদিন আপনি এই আমলটি করতে থাকবেন। তাহাজ্জুদ পড়তে না পারলে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে হলেও আমলটি করতে থাকবেন। যখন দেখবেন আপনার আশাপূরণ হয়েছে, আপনি যা চেয়েছেন তা পেয়েছেন তখন সাথে সাথে আমলটি বন্ধ না করে আপনি বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ কৃতজ্ঞ ব্যাক্তিদের অনেক ভালবাসেন, পছন্দ করেন। এবং একাধিক দোয়ার জন্য আপনি এই আমলটি চালিয়ে যেতে পারেন। ইনশাআল্লাহ রাব্বুল আলামিনের খাজানা তথা তার ভান্ডারে অভাব বলতে কোন কথা নেই, কিছু চাইলে আল্লাহতা’আলা খুশিই হন।