
এস,এ,রব, আয়ারল্যান্ড থেকে: গত অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকায় আমার একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।চলতি অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে লেখার থুব ইচ্ছে ছিল । কিন্তুু মহাকাশ ভ্রমণের ভাাড়া পকেটে নেই বিধায় ব্যথিত মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে বাজেটের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত লেখা সম্ভব নয় এই মুহর্তে। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে সীমিত পরিসরে শুধুমাত্র জাতির মেরুদন্ড হিসেবে খ্যাত শিক্ষা খাত নিয়ে দুটি কথা বলার অভিপ্রায়ে এই লেখা । চলতি অর্থ বছরের (২০২১-২০২২) বাজেটে শিক্ষা খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা।গত অর্থ বছরের (২০-২১) বাজেটে শিক্ষা খাতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৬৬ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় এবার শিক্ষা খাতে অর্থের সংখ্যা একটু বেশি দেখা গেলেও মুদ্রাস্ফীতি, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্হাপন সহ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করলে দেখা যাবে চলতি অর্থ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ মোঠেও বেশি নয় । বরং করোনার কারণে বাংলাদেশে শিক্ষার যে দুরবস্থা এবং সংকট সৃষ্টি হয়েছে সেটি মোকাবেলার জন্য সরকারের উচিত ছিল শিক্ষা খাতে গত বছরের তুলনায় এই বছর অন্তত দ্বিগুন বরাদ্দ দেওয়া। করোনাক্রান্ত শিক্ষা খাতকে নতুন করে সাঝানোর জন্য অর্থ খুবই জরুরী। ইউনেস্কোর পরামর্শ অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জিডিপির ছয় শতাংশ বরাদ্দ রাখা উচিত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্ছ জিডিপির ২ থেকে ২.২ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয় বাজেটে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে “গবেষণা ও উন্নয়ন” নামে বাজেটে একটি খাত থাকে এবং সেই খাতে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় গব্ণো ও উন্নয়নের জন্য। শিক্ষা ও গবেষণা খাতে যে দেশ যত বেশি বরাদ্দ দিচ্ছে সেই দেশ তত বেশি উন্নতি লাভ করছে। প্রতিযোগিতা মূলক বিশ্বে উন্নয়নের জন্য এটি একটি গোল্ডেন পলিসি। টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা অত্যাবশ্যক। এর কোনো বিবল্প নেই। সুনাগরিক যেমন অটো তৈরী হয় না, তেমনি একটি দেশ এমনি এমনি দাঁড়ায় না। এর জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষা। আর সুশিক্ষা খুবই ব্যয়বহুল প্রজেক্ট। বিল্ডিং দিয়ে উন্নয়ন হয় না। অবকাঠামোগত উন্নয়নকে যদি একমাত্র উন্নয়নের মানদন্ড বিবেচনা করা হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রকৃত অর্থে উন্নয়নের তালিকায় সবার উপরে থাকার কথা। বাস্তবে কী তাই? অর্থনীতির প্রথাগত পুথি মাথা পিছু আয়ের সূচক দিয়ে একটি দেশের উন্নয়নকে মুল্যায়ন করা সঠিক নয়। একটি দেশকে দাঁড় করাতে হলে শিক্ষা ও গবেষণা লাগে। টেকসই উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হচ্ছে শিক্ষা ও গবেষণা। মূলত একটি দেশের উন্নয়ন ও সফল ভাবে দাঁড়াবার পূবশর্ত হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ দেওয়া উচিত। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয় তাহলে শিক্ষাঙ্গন হওয়া উচিত সে মেরুদন্ডের কশেরুকা। শিক্ষা আর গবেষণায় জিডিপির ৪.৫ থেকে ৬% বরাদ্দ না দিয়ে কোনো দেশের উন্নিতি হয়েছে তার নজিড় নেই বিশ্বে। বাংলাদেশের সকল সমস্যার মুলে হলো সঠিক শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় গবেষণার চরম অভাব। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আন্তর্জাতিক মানের ৫০ জন গবেষক বাংলাদেশে তৈরী হয়নি। খুবই দুঃখজনক। বাংলাদেশের মেধাবীরা বিদেশে বসে গবেষণা করে সে দেশকে অসীম সম্মানে ভূষিত করেন। অথচ সেই মেধাবিদের জন্য বাংলাদেশে যদি গবেষণার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা হতো তাহলে এরাও বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানে ভূষিত করতে বেশি দিন সময় নিত না। কিন্তুু গবেষণা বলতে বাংলাদেশে জালিয়াতিকে বুঝায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এর প্রমাণ। আমেরিকা, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইসরাইল, জাপান দিন দিন কেন এত শক্তিশালী হচ্ছে ? কারণ গবেষণা। গবেষণাই হচ্ছে টেকসই উন্নয়নের মুল সূত্র। বিশ্বকে বুদ্ধিভিত্তিক নেতৃত্ব দেবার জন্য শিক্ষা ও গবেষণা হচ্ছে একমাত্র হাতিয়ার। যেখানে রক্তপাতহীন যুদ্ধে বিজয় অনিবার্য। বিশ্ব ব্যাংকের ডাটা অনুযায়ী গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে নেপালের বরাদ্দ হচ্ছে জিডিপির ০.৩০%, পাকিস্তানের বরাদ্দ হচ্ছে জিডিপির ০.২৪%, ভারতের বরাদ্দ হচ্ছে জিডিপির ০.৬৫%, চীনের বরাদ্দ হচ্ছে জিডিপির ২.১৯%, জাপানের বরাদ্দ হচ্ছে জিডিপির ৩.২৬%, কোরিয়ার বরাদ্দ হচ্ছে জিডিপির ৪.৮১%, ইসরাইলের বরাদ্দ হচ্ছে জিডিপির ৪.৯৫% । উপরের ডাটা দেখলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যারা “গবেষণা ও উন্নয়ন” খাতে বেশি ব্যায় করছে তাঁরাই তত বেশি উন্নতি করছে । কিন্তুু সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের জায়গাটা খালি পড়ে রয়েছে ইউনেস্কোর এই তালিকায়। কারণ এই দুটি দেশে “গবেষণা ও উন্নয়ন” খাত নামে বাজেটে কোন খাতই নেই। তাই বরাদ্দও নেই। অর্থাৎ মাথা নেই তাই মাথা ব্যথাও নেই ।