
আইরিশ বাংলাপোষ্ট অনলাইন ডেস্কঃ মেক্সিকো ও পোল্যান্ডে ফাইজারের নকল কোভিড টিকা বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এই ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিটি।
বিবিসি জানায়, দুই দেশের কর্তৃপক্ষই ফাইজারের ওই টিকার ডোজগুলো জব্দ করেছিল। পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এগুলো নকল টিকা।
মেক্সিকোয় টিকার শিশিগুলোতে নকল লেবেল লাগানো ছিল। আর পোল্যান্ডে পাওয়া নকল টিকাগুলো বলিরেখার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নকল টিকা বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। তাই নকল টিকা চিহ্নিত করে এর বিতরণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
তবে পোল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুধবার জোর দিয়েই বলেছেন, সরকারিভাবে বিতরণ করা টিকার মধ্যে নকল ডোজ থাকার ঝুঁকি কার্যত নেই।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, দুই দেশেই আলাদা আলাদাভাবে তদন্ত চালিয়ে কর্তৃপক্ষ নকল টিকার ডোজগুলো জব্দ করেছে। মেক্সিকোর একটি ক্লিনিকে এই নকল টিকা নিয়েছেন প্রায় ৮০ জন।
আপাতত এ নকল টিকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বলে মনে করা হলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এই টিকা কোনোরকম সুরক্ষাও দেবে না।
মেক্সিকো সরকারের করোনাভাইরাস বিষয়ক মুখপাত্র হুগো লোপেজ গ্যাটেল বলেছেন, সাইবার পুলিশ নকল টিকাগুলোর খোঁজ পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আড়াই হাজার ডলারে প্রতি ডোজ টিকার বিক্রির অফার দেখে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে।
অন্যদিক, পোল্যান্ডে নকল টিকার ডোজ পাওয়া গিয়েছিল এক ব্যক্তির অ্যাপার্টমেন্টে। তবে এই নকল টিকা কাউকে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।
এবিসি নিউজকে ফাইজারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “নকল টিকার বিষয়ে আমরা অবগত। ই-কমার্স এবং পরিচয়বিহীনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা এমন কাজ করছে। মহামারীর এই বিপর্যয়ের মধ্যে কোভিড-১৯ টিকা নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা, অবৈধ কার্যকলাপ বেড়ে যাচ্ছে এবং হয়ত আরও বাড়বে।”
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবিসি নিউজকে বলেছে, তারা মেক্সিকো এবং পোল্যান্ডে নকল কোভিড টিকা পাওয়া যাওয়ার ব্যাপারে অবগত এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ফাইজারকে তারা ‘প্রয়োজনমত’ সহযোগিতা করবে।