
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ ফ্রিল্যান্সিং বা অফিসের চাকরি, পড়াশোনা কিংবা ব্যক্তিগত যেকোনো কাজেই আজকাল ল্যাপটপ আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। অতি প্রয়োজনীয় এ ডিভাইস আমাদের সামনে প্রযুক্তি বিশ্বের নতুন দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে। এর দীর্ঘকালীন ব্যবহার নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ ডিভাইসটি কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায় সে বিষয়েই আজকের আলোকপাত—
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা
ল্যাপটপের সবচেয়ে বড় শত্রু ধরা হয় ধুলোবালিকে। এটি ল্যাপটপের পরিষেবা মেয়াদ কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ধুলা জমে ল্যাপটপ বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এজন্য এটি সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। বিশেষ করে ব্যাটারি কানেক্টর লাইন, কি-বোর্ড মাঝে মধ্যেই পরিষ্কার করুন।

ব্যাটারির সুরক্ষা
ল্যাপটপ নিয়মিত ব্যবহার করতে হয়। সপ্তাহ-মাস জুড়ে ফেলে রাখলে তখন ব্যাটারির স্থায়িত্ব কমে যায়। সপ্তাহে অন্তত দু-তিন বার ব্যাটারি দিয়ে ল্যাপটপ চালান। চার্জে লাগানো অবস্থায় ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। ব্যাটারির চার্জ শেষ হলে পরিপূর্ণ চার্জ দিয়ে আবার ব্যবহার করুন। ফুল চার্জ না দিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার করলে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে। ব্যাটারির পারফরম্যান্স কমে যায়। সারাক্ষণ চার্জে লাগিয়ে রাখলে ব্যাটারি গরম হয়ে ফুলে যেতে পারে। তখন নতুন ব্যাটারি রিপ্লেস করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
ল্যাপটপ কুলার
ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ল্যাপটপ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। রান্নাঘর, গরম আবহাওয়া বা সরাসরি রোদে ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না। এতে ডিভাইসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ল্যাপটপ শীতল রাখতে ল্যাপটপ কুলার ব্যবহার করুন। বাজারে সাশ্রয়ী দামে ল্যাপটপ কুলার পাওয়া যায়।
যত্রতত্র ব্যবহার
অনেকেই বিছানায় বা কোলে নিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকেন। যতটা সম্ভব এ অভ্যাস ত্যাগ করুন। এতে বিছানার ধুলাবালি ল্যাপটপের ভেতরে সহজেই প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া কোলে নিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার করলে বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ল্যাপটপ ব্যবহার করুন টেবিল কিংবা শক্ত কোনো স্থানে রেখে।
অতিরিক্ত কি-বোর্ড ও মাউস
ল্যাপটপ টেকসই রাখতে ল্যাপটপের কি-বোর্ড, মাউস ব্যবহার না করে অতিরিক্ত কি-বোর্ড ও মাউস ব্যবহার করুন। এতে ল্যাপটপের অভ্যন্তরীণ স্থায়িত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি সুরক্ষিতও থাকবে।
অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার
ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে খুব সহজেই ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। এজন্য ভালো মানের একটি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার সচেতনতার পরিচয়। অবশ্য উইন্ডোজ টেন সফটওয়্যারে মাইক্রোসফট ডিফেন্ডার অ্যাপ রয়েছে। এছাড়া বিশ্বস্ত সোর্স ছাড়া কোনো অ্যাপ ল্যাপটপে ইনস্টল করবেন না। ভাইরাস আক্রান্ত কোনো ডিভাইস ল্যাপটপে সংযুক্ত করা থেকেও বিরত থাকুন।
এসএসডি কার্ড ব্যবহার
বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করার কারণে ল্যাপটপ ধীরে ধীরে স্লো হয়ে যায়। তখন এর পারফরম্যান্স দুর্বল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে এসএসডি কার্ড আপনার ল্যাপটপের জন্য পরম বন্ধু হতে পারে। এটি ব্যবহার করলে ল্যাপটপ অনেক ফাস্ট কাজ করবে। সাধারণত এ কার্ডের দাম এইচডিডি ড্রাইভ থেকে অনেক বেশি হয়। তবে ল্যাপটপের পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ল্যাপটপ ব্যাগ ব্যবহার
ল্যাপটপের জন্য ভালো কোয়ালিটির একটি ব্যাগ ব্যবহার করুন। যাতায়াতের সময় যেকোনো আঘাত থেকে এটি আপনার ডিভাইসকে সুরক্ষিত রাখবে। ফোম দেয়া ল্যাপটপ কম্পার্টমেন্টে ল্যাপটপ বহন করুন। ল্যাপটপের ব্যাগে অন্য কোনো শক্ত বস্তু রাখা থেকে বিরত থাকুন।
নিরাপদ অবস্থান
পানি ও ভেজা স্থান থেকে ল্যাপটপ দূরে রাখুন। এর কাছে পানির গ্লাস বা বোতল রাখবেন না। দুর্ঘটনাবশত ল্যাপটপে পানি ঢুকে গেলে ডিভাইসের যন্ত্রাংশ নষ্ট হতে পারে। তখন সার্ভিসিংয়ের প্রয়োজন দেখা দেবে।
অপ্রোয়জনীয় সফটওয়্যার আনইনস্টল
যত বেশি সফটওয়্যার ইনস্টল করবেন ল্যাপটপের প্রসেসরের ওপর তত চাপ বাড়বে। প্রসেসর সুরক্ষিত ও টেকসই রাখতে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ডিজ্যাবল বা আনইনস্টল করুন। এতে ল্যাপটপের প্রসেসর ভালো কাজ করবে, পারফরম্যান্স ফাস্ট হবে।
সি ড্রাইভের সুরক্ষা
আপনার যাবতীয় কাজের জন্য সি ড্রাইভ ব্যতীত অন্য কোনো ড্রাইভ ব্যবহার করুন। উইন্ডোজ ও সিস্টেম সফটওয়্যারগুলো সি ড্রাইভে ইনস্টল থাকে। এর মাধ্যমে ল্যাপটপটি পরিচালিত হয়। দৈনন্দিন কাজের ফাইল, অডিও, ভিডিও, সফটওয়্যার জমা করার কাজে সি ড্রাইভ ব্যবহার করবেন না। ডেস্কটপ ফাইল, ডকুমেন্টস, পিকচার, ভিডিও, ডাউনলোড ইত্যাদি ডিফল্ট হিসেবে সি ড্রাইভে জমা হয়। যতটা সম্ভব সি ড্রাইভ ফাঁকা রাখুন।
হাইবারনেট চালু
সাময়িক সময়ের জন্য অযথা বার বার শাটডাউন আবার ওপেন করবেন না। এর পরিবর্তে স্লিপ মোড বা হাইবারনেট অপশনটি ব্যবহার করুন। এতে চার্জ সুরক্ষিত হবে। স্লিপ মোডের চেয়ে হাইবারনেট ব্যবহারে ব্যাটারির চার্জ বেশি সুরক্ষিত হয়। স্লিপ মোডে ল্যাপটপ চালু থাকায় বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়। অন্যদিকে হাইবারনেট একটি পাওয়ার ব্যবস্থাপনা মোড, যা ল্যাপটপ বন্ধের সময় সর্বশেষ চালু থাকা অ্যাপ্লিকেশন, ফাইল, ফোল্ডার সি ড্রাইভে জমা থাকে। ফলে আবার যখন ল্যাপটপ চালু হয়, তখন সবশেষ অ্যাপ্লিকেশনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্দায় দেখা যায়।
অপ্রয়োজনীয় সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ
প্রয়োজন ছাড়া কোনো নেটওয়ার্ক সংযোগ চালু রাখবেন না। ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই যখন দরকার, কেবল তখনই চালু করুন। কেননা এসব নেটওয়ার্ক সংযোগ ব্যবহারে চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যায়।

ডিসপ্লে সুরক্ষা
ডিসপ্লে সুরক্ষার জন্য স্ক্রিন কভার ব্যবহার করুন। ল্যাপটপের ডিসপ্লে ধরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরাবেন না। ডিসপ্লে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। কাজ শেষে ল্যাপটপ ফোল্ড করে রাখুন। এছাড়া রেখে দেয়ার সময় ব্যাটারির অংশ নিচে ও ডিসপ্লে উপরের দিকে রাখুন। এতে ডিসপ্লেতে চাপ কম পড়বে। ডিসপ্লে পরিষ্কার করতে নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করুন।
ডাটা ব্যাক সুরক্ষা
ল্যাপটপের ডকুমেন্টগুলোর ডাটা ব্যাকআপ রাখা জরুরি। দুর্ঘটনাবশত ল্যাপটপ হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে যাতে আপনার কাজগুলো হারিয়ে না যায়। ব্যক্তিগত স্মৃতি, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট আলাদা ড্রাইভে সংরক্ষণ করুন।
হার্ডডিস্ক সুরক্ষা
সিস্টেম ক্লিনার সফটওয়্যার ব্যবহার করে মাঝেমধ্যে ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক স্ক্যান করে নেবেন। সিস্টেমজনিত কোনো সমস্যা থাকলে সিস্টেম কেয়ার অ্যাপ্লিকেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটা ঠিক করে দেবে। ইন্টেল ড্রাইভার অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যাসিট্যান্ট, টিউন-আপ ইউটিলিটিস, অ্যাডভান্স সিস্টেম কেয়ার সফটওয়্যারগুলো এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। বড় কোনো সমস্যা হলে বিশ্বস্ত সার্ভিসিং সেন্টারে তাত্ক্ষণিক যোগাযোগ করুন।
পেন ড্রাইভ ও সিডি-ডিভিডি ডিস্ক সতর্কতা
পেন ড্রাইভ থেকে সরাসরি মিডিয়া ফাইল চালু না করাই ভালো। কেননা ডাটা আদান-প্রদান করতে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এজন্য ফাইলগুলো ল্যাপটপের হার্ডডিস্কে কপি করে তারপর ব্যবহার করুন। একই নিয়ম সিডি-ডিভিডি রমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ল্যাপটপের সিডি অথবা ডিভিডি ডিস্কও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রহণ করে।
অরিজিনাল অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার
ল্যাপটপ কেনার সময় যে অ্যাকসেসরিজগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো অধিকাংশ সময়ই অরিজিনাল থাকে। তবে এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে অরিজিনাল অ্যাকসেসরিজ খুঁজে পাওয়া দুরূহ। যতটা সম্ভব চার্জার, ব্যাটারি, ডিসপ্লে, কিবোর্ড এগুলো যত্নে ব্যবহার করুন। নষ্ট হয়ে গেলে অরিজিনাল অ্যাকসেসরিজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন। মানহীন অ্যাকসেসরিজ ল্যাপটপে ব্যবহার না করাই ভালো।