সমুদ্রে ডুবে মারা গেছেন সেই ১৮০ রোহিঙ্গা, নিখোঁজ বহু

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ কক্সবাজার থেকে মালয়েশিয়াগামী নৌকায় চড়া ১৮০জন রোহিঙ্গার মৃত্যু আশঙ্কা করেছিল জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। তাদেরই সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। নষ্ট ইঞ্জিনের একটি নৌকা সমুদ্রে ভাসতে থাকা ১৮০জন রোহিঙ্গা মৃত্যুবরণ করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, গত ২ ডিসেম্বর নৌকায় করে ১৮০জনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী পাড়ি দেয়। কিন্তু ৮ ডিসেম্বরের পর থেকে সেই নৌকার যাত্রীদের সঙ্গে আর কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রায় কয়েক সপ্তাহ ধরেই নিখোঁজ ছিল নৌকাটি। জাতিসংঘও এই ধরনের কোনও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছিল। শেষ পর্যন্ত আশঙ্কাই সত্য হল। পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।

কমপক্ষে ১৮০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী মারা গিয়েছেন। এখনও বহুজন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। এ নিয়ে যথারীতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

জিনিউজের খবরে বলা হয়, নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়েও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা হয়েছিল। যার কারণে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছাকাছি গিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। শ্রীলঙ্কা উপকূলের মৎস্যজীবীরা নৌকাডুবির কথা জানতে পেরে উপকূলরক্ষীদের খবর দেন। তারা গিয়ে উদ্ধারকাজ চালান। ততক্ষণে অবশ্য সমুদ্রে ১৮০ জন শরণার্থী ডুবে গিয়েছেন। নৌকাটির আর কোনও যাত্রীই বেঁচে নেই বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া ১৮০ রোহিঙ্গার সাগরে মৃত্যুর আশঙ্কা

এর আগে গত সপ্তাহেও ভারতের উপকূলে রোহিঙ্গাদের একটি নৌকা উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নৌকায় ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। ওই নৌকাটিতে ১০০ জনের মতো রোহিঙ্গা ছিলেন।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কার উত্তর উপকূল থেকে ১০৪ জন রোহিঙ্গা-সহ একটি নৌকা উদ্ধার করেছিল শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে ১২ লাখেরও বেশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে জনাকীর্ণ শিবিরে বসবাস করছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে ২০১৭ সালে মারাত্মক দমনপীড়নের শিকার হওয়ার পর পালিয়ে আসেন। বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে বেশিরভাগ রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং দক্ষিণ এশিয়া থেকে অনুপ্রবেশকারী, অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখা হয়।

SHARE THIS ARTICLE