
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ রাষ্ট্রের বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যক বিবেচনা করলে সরকার জনস্বার্থে কোনো সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলরকে অপসারণ করতে পারবে। একই সঙ্গে ওইসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে। একইভাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে। এমন বিধান রেখে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশনের আইন সংশোধনের আলাদা আলাদা অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
এর আগে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’, ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’, ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এবং ‘উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলররা অনুপস্থিত থাকায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইন সংশোধনের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন করা হয়।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি ও তার সঙ্গে থাকা দলগুলো বর্জনের কারণে স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে প্রায় সব জনপ্রতিনিধিই আওয়ামী লীগের বা দল সমর্থিত।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন থেকে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর হয়েছে, কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে, হামলাও হয়েছে অনেক জনপ্রতিনিধির ওপর। এ কার্যক্রম সচল রাখতে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা দিয়ে অফিস আদেশও জারি করা হয়েছে।
দেশে বর্তমানে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৬৪ জেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা ও পাঁচ শতাধিক উপজেলা পরিষদে মেয়র, কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছে কয়েক হাজার।