
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ গতকাল ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২১ আফগানিস্তানে তালেবানরা সর্বশেষ যুদ্ধে বিজয় অর্জন করে পাঞ্জশির প্রদেশ দখলে নিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। কাবুল দখলের ৩ সপ্তাহ পর এই পাঞ্জশির দখলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলো।

গতকাল সোমবার কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলন করে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, “পাঞ্জশির দখলের পর আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং তারা একটি স্থিতিশীল আফগানিস্তান আশা করছেন।” জাবিউল্লাহ বলেন, “এখন যে কেউ অস্ত্র হাতে নেবে, সে জনগণ ও দেশের শত্রু”। মুখপাত্র বলেন, “জনগণের জানা উচিত যে হানাদাররা আমাদের দেশকে কখনোই পুনর্গঠন করে দেবেনা, আমাদের জনগণের দায়িত্ব এটা নিজেদের করা।”

তালেবান সূত্র আরও জানিয়েছে যে, আফগানিস্তানে সরকার গঠন চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং তালেবানরা পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার, রাশিয়া, চীন এবং ইরানকে সরকার গঠনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তালেবান আরও জানিয়েছে যে কাতার, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কোম্পানি থেকে প্রযুক্তিগত দল “কাবুল বিমানবন্দরে পুনরায় কাজ শুরু করার জন্য কাজ করছে”।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে যে, হাজার হাজার তালেবান যোদ্ধারা রাতারাতি পঞ্জশিরের আটটি জেলা দখল করে নিয়েছে এবং জনমনে এখন আতংক বিরাজ করছে।”
তালেবান বিরোধী ন্যাশনাল রেজিসস্ট্যান্স ফ্রন্ট (এনআরএফ), পাঞ্জশির উপত্যকায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে যে, “এই মুহূর্তে তারা কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে” এবং “তালেবানদের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে”। প্রতিরোধ নেতা আহমদ মাসউদ এবং সাবেক উপরাষ্ট্রপতি আমরুল্লাহ সালেহ, যারা কাবুল পতনের পর প্রতিরোধে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন প্রত্যাহারের বিশৃঙ্খলার পর আলোচনার জন্য কাতার গেছেন।
পাকিস্তানের সামরিক প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বলেছেন, “এই মুহূর্তে আফগানিস্তান নেতৃত্বের উচিৎ হবে নিজেদের মধ্যে সকল ভুল বুঝাবুঝি ঝেড়ে ফেলে দিয়ে একটি স্থিতিশীল এবং প্রতিনিধিত্ত্বশীল সরকার গঠন করা।” তিনি আরও বলেন, “তারা আশা করেন বিশ্ব সম্প্রদায় এই অবস্থায় আফগান জনগণের পাশে থাকবে।”
এদিকে সরকার গঠন নিয়ে পরস্পরবিরোধী সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমত অনেকেরই ধারনা ছিল মোল্লা আব্দুল গনী বেরাদর দেশটির নেতৃত্বে আসবেন কিন্তু এখন অনেকেই মনে করছেন, মোল্লা বেরাদর না এসে মোল্লা মুহাম্মদ হাসান আখুন্দ সরকারের দায়িত্ব নেবেন। তালেবানের একটি সূত্র উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার আখুন্দের নেতৃত্ব নয়া সরকার দায়িত্ব নিতে পারে। কাতারের দোহায় শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া তালিবান নেতৃত্বের বড় অংশই সরকারে থাকছেন না বলে খবরে জানা গেছে।

এদিকে নয়া সরকারের উপ-প্রধান হিসেবে থাকছেন মুল্লা বরাদর এবং প্রথম সারির আরেক তালিবান নেতা মোল্লা আব্দুস সালাম। দু’দিন ধরে সরকার গঠনে টানাপড়েনের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতাতেই রফাসূত্র তৈরি হয়েছে বলে সূত্র জানায়। নয়া সরকারে পাক মদদ পুষ্ট হাক্কানি নেটওয়ার্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করে কিন্তু মুল্লা বেরাদর এবং মোল্লা ওমরের ছেলে মহম্মদ ইয়াকুব সরাসরি হক্কানি আধিপত্যের বিরোধিতায় সরব হন।
২০০১ সালে আমেরিকার আক্রমণে কাবুলে তালেবান সরকারের পতনের পরে পাকিস্তানের বালুচিস্তানে গঠিত “তালেবান কোয়েটা সুরা’র” নেতৃত্বে ছিলেন আখুন্দ। বেরাদরের মতো তাঁকেও ২০১০ সালে পাকিস্তান প্রশাসন গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তী কালে তিনি মুক্তি পান। প্রায় দু’দশক ধরে আখুন্দজাদার ঘনিষ্ঠতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত আখুন্দ তালেবানের শান্তি আলোচনা বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘রেহবারি সুরা’রও প্রধান ছিলেন।
তথ্যসূত্রঃ আলজাজিরা, সি এন এন, পলিটিকো, আনন্দবাজার