সু চির চার বছরের কারাদণ্ড দিলেন মিয়ানমারের আদালত

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃমিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সু চির চার  বছরের কারাদণ্ড  দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।গণঅসন্তোষে উসকানি সৃষ্টি ও প্রাকৃতিক  দুর্যোগ আইন  অনুযায়ী কভিডবিধি ভঙ্গ  করার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

একই অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে মিয়ানমারের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সু চির রাজনৈতিক সহযোগী উইন মিন্টকে।

গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থানের পর থেকেই অজ্ঞাত স্থানে বন্দি রয়েছেন অং সান সু চি। ফলে এ রায়ের পর তাকে অজ্ঞাত স্থান থেকে কারাগারে পাঠানো হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা  যায়নি। তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও তার সবই অস্বীকার করেছেন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) এ নেতা। খবর আল জাজিরা।

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির বিরুদ্ধে আরো যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ভঙ্গ ইত্যাদি। সব মামলার রায় হলে ৭৬ বছর বয়সী এ নেতার ১০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে।

সু চির বিরুদ্ধে পরবর্তী মামলার রায়ের দিন ১৪ ডিসেম্বর ধার্য রয়েছে। সেদিন তার বিরুদ্ধে অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগের বিষয়ে রায় দেয়া হবে।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জ মিন তুন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটির রায় হয়েছে। তিনি গণঅসন্তোষে উসকানি দিয়েছেন এবং দেশের প্রচলিত কভিড-১৯ বিধিমালা ভঙ্গ করেছেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচলেট এ বিচারের নিন্দা জানিয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সু চির বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছে। তারা বলছে, সেনা শাসকরা যে মিয়ানমারে ভিন্নমতের স্বাধীনতা খর্ব করছে, এ রায়ই তার প্রমাণ।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। গ্রেফতার করা হয় সু চিসহ তার দলের শীর্ষ নেতাদের। সেই থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন সু চি। দেশটির রাজধানী নেপিদোর বিশেষ সেনা আদালতে চলছে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার  বিচারকাজ। সু চির আইনজীবীদের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি নেই। পাশাপাশি আদালতের কার্যক্রম দেখারও সুযোগ দেয়া হচ্ছে না সাংবাদিকদের।

SHARE THIS ARTICLE