সৌদির শ্রম বাজারের সংস্কার বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করেছে

আইয়ুব আলী, সৌদি আরব থেকেঃ সৌদি আরবের শ্রমবাজার কৌশল স্থানীয় ও বৈশ্বিক কর্মীদের সৌদি আরবে আকৃষ্ট করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক বিকাশের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন নাসের আবুথনাইন।

মন্ত্রী বলেন, ভিশন ২০৩০ এর অংশ হিসেবে এই শ্রম কৌশল গত বছর থেকে চালু হয়েছে। এটি সৌদির শ্রম বাজারে মৌলিক পরিবর্তন আনবে।

তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন (আইএলও) এর ১০৯ তম অধিবেশন চলাকালীন এই মন্তব্য করেন যা করোনাভাইরাস মহামারীর বিশ্বব্যাপী প্রকোপের কারণে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর সৌদি গেজেটের

সম্মেলনে সৌদির নেতৃত্বদানকারী আবুথনাইন বলেছেন, সৌদি আরব চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কের উন্নয়নের লক্ষ্যে, যেমন- কাজের চুক্তির জন্য ডকুমেন্টেশন এবং ডিজিটাইজেশন প্রোগ্রাম, মজুরিসহ কাজের পরিবেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি চালু করেছে। সুরক্ষা কর্মসূচী এবং শ্রমের বিবাদগুলি সমাধানের জন্য অনলাইন কার্যক্রম চালু করেছে।

তিনি আরও বলেন, কিংডমটির লক্ষ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়ন এবং শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।

গত বছরের শেষে সৌদি এই ঐতিহাসিক সংস্কার এনেছে। এই সংশোধনীর ফলে আরও বেশি স্বাধীনতা পাচ্ছেন হাজারও অভিবাসী ও প্রবাসী শ্রমিক।

কাফালা স্পন্সরশিপ সিস্টেমের আওতায় এই পরিবর্তনের ফলে প্রবাসী শ্রমিকদের চাকরির সক্রিয়তা বাড়বে এবং তারা মালিকের সম্মতি ছাড়াই চাকরি বদল করতে ও দেশ ছাড়তে পারবেন।

নিজ দেশে আকর্ষণীয় শ্রমবাজার তৈরির লক্ষ্যেই সৌদি সরকারের এই চমকপ্রদ পদক্ষেপ। এই আইনের ফলে প্রবাসী শ্রমিকরা এমনকি সরকারি চাকরি ক্ষেত্রগুলোতেও সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। সেইসঙ্গে তাদের নিয়োগের চুক্তিপত্রও ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে।

সৌদির এই লেবার রিফর্ম ইনিশিয়েটিভের (এলআরআই) ফলে প্রায় ১ কোটি শ্রমিক সুবিধা পাবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও সুষ্ঠু কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় বলে জানিয়েছে সৌদি আরব।

এছাড়াও নতুন আইনের ফলে বিদেশি শ্রমিকেরা সৌদিতে রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস বা থাকার অনুমতি পাবেন, যা কোনো নির্দিষ্ট মালিকের অধীনে হবে না। মালিক ও শ্রমিক- দু পক্ষেরই অধিকার বজায় রেখে ভিসা রি-অ্যান্ট্রি করা ও দেশ ছেড়ে যাওয়া দুটোই সম্ভব হবে।

সৌদি আরবের এই নতুন উদ্যোগকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। তাদের মতে, এই আইনের ফলে তাদের জন্য চাকরির নতুন নতুন সম্ভাবনা ও সহায়তা সৃষ্টি হবে।

SHARE THIS ARTICLE