ঈদ মোবারক ২০২১ (ভিডিও)

 

ডাঃ জিন্নুরাইন জায়গীরদারঃ রমজান মাসজুড়ে আল্লাহর নির্দেশে দিনের বেলা বৈধ পানাহার নিষিদ্ধ করার পর আজ থেকে আবার খাওয়া ও পান করাকে বৈধ করেন। মুমিন মুসলমানের আনন্দ উদযাপনের জন্য এ দিনকে সাব্যস্ত করেন। সে কারণে আজ রোজাদার মুমিন মুসলমানের ঈদ। ঈদ মোবারক।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।

ঈদ আমাদের সকলের জন্য মহিমান্বিত হোক, আনন্দ আর সুখের বার্তাবাহক হোক। সকল সময়ের জন্য ঈদের আনন্দ অব্যাহত থাকুক। সারাটি বছর ধরে ঈদ শুভ বার্তা বয়ে নিয়ে আসুক। স্রষ্টার ঐশী নিয়ামত আমাদের সকলের জন্য আশা, বিশ্বাস এবং আনন্দ নিয়ে আসুক। আল্লাহ আমাদের সকলকে মহামারি মুক্ত করুন।

এক মাসের সিয়াম (উপবাসব্রত) পালনের পর এসেছে আনন্দের ঈদ। যদিও গত বছরের মত এবারের রমজান এবং ঈদ ভিন্ন মাত্রার এবং অভূতপূর্ব। মসুলিম উম্মাহর জন্য দুটি ঈদই গুরুত্ত্বপূর্ন, এর মধ্যে ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব এবং বৈশিষ্ট্য অনন্যসাধারণ। স্রষ্টার আদেশে একমাস ব্যাপী ত্যাগ এবং সংযমের প্রশিক্ষণ হিসাবে উপবাসব্রত (রোযা) পালনের পর আসে ঈদুল ফিতর। এই ঈদুল ফিতরে শুধুমাত্র সংযমের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তা না, এই সময়ে বিশেষ করে ধৈর্য্য, আচার, ব্যাবহার, দৃষ্টির সংযম এবং মনের সংযমেরও প্রশিক্ষণ হবার কথা। একই সাথে আছে ত্যাগের প্রশিক্ষণ। জাকাত, সাদাকাহ এবং ফিতরা এই তিন ধরনের দান করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে এই মাসেই। যদিও ফিতরা, ঈদের নামাজের আগেই প্রদান করা আবশ্যক। সর্বোপরি পূর্ন দিবসের উপবাস (রোযা), যার আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে জাপানি বৈজ্ঞানিক ইয়োশিনোরি অসুমি নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন ২০১৬ সালে। 

আমরা জানি অনাহারকালে, শরীরের কোষগুলি প্রোটিন, চর্বি এবং অন্যান্য উপাদান ভেঙে শক্তির জন্য ব্যবহার করে থাকে। বৈজ্ঞানিক অসুমি দেখিয়েছেন যে, উপবাসকালে শরীর তার কোষগুলি পুনর্ব্যবহার (রিসাইকেল) করে এবং কোষ নবায়ন করে, এই প্রক্রিয়াকে “অটোফ্যাজি” বলা হয়ে থাকে। উপবাস এই অটোফ্যাজি প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে, যার কারণে বার্ধক্য বিলম্বিত হয় অর্থাৎ মানুষ তারুন্য আর যৌবনকে ধরে রাখতে পারে দীর্ঘদিন। শরীরের কোষ নবায়নের ক্ষেত্রে এই অটোফ্যাজি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অটোফ্যাজির সময় শরীরের কোষগুলি ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং ক্ষতিগ্রস্থ কোষ থেকে শরীরকে মুক্ত করে। এই অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া মানুষের কোষের স্বাস্থ্য রক্ষা, কোষের পুনর্ব্যাবহার, কোষের নবায়ন এবং বিশেষ করে কোষ তথা শরীরের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। এই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সারা বিশ্ব সভ্যতার চিন্তার জগতে নূতন আবহ সৃষ্টি করেছে। এই আবিষ্কারের ফলে রমজানের গুরুত্ব আধুনিক বিশ্বে অনেকখানি বেড়ে গিয়েছে।

BENEFITS OF AUTOPHAGY - Siim Land
অটোফ্যাজি

এবারের ঈদের একটি বিশেষত্ব হচ্ছে, প্রথম বারের মত জ্যোতির্বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে এবারই প্রথম এ ধরনের ঘটনা ঘটলো। এতদিন ধরে চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করেই ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হতো সেখানে। এরপরও সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির নাগরিক ও কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য উপসাগরীয় মুসলিম দেশগুলোকে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার অনুরোধ করেছিল। সে অনুযায়ী যথারীতি নিয়মে মঙ্গলবার চাঁদ দেখা না দেখার উপর-ই ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটি। এবার জ্যোতির্বিদ্যা এবং চাঁদ দেখা দুটোই সমান্তরাল হওয়ায় জ্যোতির্বিদ্যার উপর আস্থা কিছুটা সৃষ্টি হওয়ার আশা। আমরা আশা করি আগামী দিনগুলোতে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব জ্যোতির্বিদ্যাকে ব্যাবহার করে অনিশ্চয়তার হাত থেকে সারা উম্মাকে সুরক্ষা করবেন। জ্যোতির্বিদ্যা নির্ভুল হয়ে থাকলে চাঁদ দেখার আনন্দ আমরা নিশ্চয়তার সাথে ভাগ করে নিতে পারি। 

চাঁদ নির্ণয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুসরণে বাধা কোথায় | 760238 | কালের কণ্ঠ |  kalerkantho
জ্যোতির্বিদ্যা

সম্প্রতি সোশাল মেডিয়া এবং টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্নাহ’র মেসেজ পাচ্ছি। মেসেজটি ভাইরাল হয়েছে। মেসেজে ইংরেজিতে যা লিখা হয়েছে সেটা অনুবাদ করা হলে এরকম দাড়ায়, “আসসালামু’আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ, এই পবিত্র রমজান মাসে প্রত্যেকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা একটি সুন্নত। আমাকে ক্ষমা করুন, যদি আমি আপনাকে জেনে বা অজান্তে কোন আঘাত করে থাকি, আমি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে আপনাকে উপেক্ষা করে থাকি। আমি যদি সরাসরি বা অন্য কারও মাধ্যমে আপনাকে খারাপ কিছু বলে থাকি। আমি আপনাকে যে সমস্ত ব্যথা দিয়েছি তার কারণে যদি আপনি কেঁদে থাকেন কিংবা অতিশয় খারাপ লেগে থাকে তাহলে আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আমাদের আত্মা পরিশুদ্ধ করা ভাল, যাতে আমাদের রোযা এবং দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। আমি আপনার জন্য একই কাজ করব, ইন শা আল্লাহ। রাব্বুল আলামিন, আমাদের সকলকে হিদায়াত, ইমান, তাকওয়া ও সবর দান করুন। আমীন।” 

এটা সত্যি, যে ক্ষমা প্রার্থনা গুরুত্ত্বপূর্ন এবং ক্ষমা করা দেওয়া তার চেয়ে অধিক গুরুত্ত্বপূর্ণ। তবে রমজানের সাথে সম্পৃক্ত করে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে সুন্নাহর কোন সূত্র আমি খুঁজে পাইনি। কেউ পেয়ে থাকলে অনুগ্রহ করে জানাতে কার্পন্য করবেন না। সুদৃঢ় ভিত্তি ব্যাতীত সুন্নাহ হিসেবে এই ঢালাও ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারটা খতিয়ে দেখা উচিৎ। ক্ষমার ব্যাপারটা নিশ্চিতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। ক্ষমার বিষয়ে ইসলাম কি বলে সেটা দীর্ঘ আলোচনার বিষয়। ঢালাওভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষমা করে দেবার নেতিবাচক দিক নিয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের বাহিরে চিন্তা ভাবনার জায়গা থেকে একটি বিরচিত গল্প আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।

The State of Public Apologies in 2019 | Grammarly

হবুচন্দ্র রাজার ব্যাপারে অনেক গল্প আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। পরিণত বয়সে হবুচন্দ্র রাজা তার দীর্ঘ রাজত্ত্বকালীন সময়ে প্রজাদের উপর অত্যাচার অবিচারের ব্যাপারে জনসাধারণের নিকট ক্ষমা প্রার্থনার উদ্যোগ নিলেন। তিনি তার সভাসদকে ডেকে বললেন, “সারা জীবন আমি জানতে এবং অজান্তে কোন অন্যায় করে থাকলে কিংবা আপনাদের মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।” সকল সভাসদ একবাক্যে রাজাকে ধন্য ধন্য করে ক্ষমা করে দিলেন। এর পরের সপ্তাহ থেকে তার রাজত্বে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার ঢল শুরু হয়ে গেল। সব অনুষ্ঠানে রাজাই ছিলেন প্রধান অতিথি। ব্যাবসায়ী, চাকুরীজীবী, কোষাগার, পুলিশ, মন্ত্রী সকলেই রাজার নিকট এবং দেশের মানুষের নিকট আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকলেন। রাজাও ক্ষমা করে দিয়ে মহানুভব হয়ে গেলেন । মানুষ চুরি, ডাকাতি, হত্যা, দুর্নীতির মত কাজ করে ঢালাও মাফ চাইতে থাকলো আর রাজা মাফ করতেই থাকলেন। বিচারালয়ে রাজার ক্ষমা প্রদানের অনুষ্ঠান প্রকাশিত হলে বিচারকার্য্যের আর কোন প্রয়োজনীয়তা থাকলোনা। সেই দেশে দুদকের কোন প্রয়োজন থাকলোনা। নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধ সকল কিছুই পরিবর্তিত হয়ে গেলো। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হতে থাকলো। হত্যা, রাহাজানি, ঘুষ সবই সমাজে একটি নিয়ম হয়ে গেলো। শুধু বছরের শেষে সবাই আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকলো আর রাজা ক্ষমা করতেই থাকলেন স্বর্গ প্রাপ্তির আশায়। ভেবে দেখুন ঢালাওভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষমা করে দেবার রীতি একটি সমাজকে কিভাবে পরিবর্তিত করে দিতে পারে। আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি, সকলেই ঢালাও ভাবে ক্ষমা প্রার্থনার এবং ক্ষমা করে দেবার বিষয়ে আরেকটু গভীরতা নিয়ে ভেবে দেখবেন। 

হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রীর Holi Celebration | Hobuchandra Raja  Hobuchandra Mantri | holi 2020 - YouTube
হবুচন্দ্র রাজা

সারা বিশ্বে কোভিড ভাইরাসের সংক্রমণে বৈশ্বিক মহামারি এখনো চলছে। ভাইরাসের আক্রমণে সরকারি হিসাবে ইতিমধ্যে বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ষোল কোটি মানুষ আর মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৩ লক্ষের উর্ধে। প্রকৃত হিসাব এই সংখ্যার অনেক বেশী হবে বলেই মনে করা হয়। আয়ারল্যান্ডে এ পর্য্যন্ত আড়াই লক্ষের অধিক মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন আর মৃত্যুবরণ করেছেন প্রায় ৫ হাজার। বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ আর মৃত্যুবরণ করেছেন ১২ হাজারের মত। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত আজ সম্পুর্ন বিপর্য্যস্ত, প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন ৪ লাখের অধিক মানুষ আর ৪ হাজারের বেশী মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন। হাসপাতালে শয্যা নেই, অক্সিজেন নেই, পথ্য নেই। পথের ধারে চিকিৎসা চলছে। শ্মশানে কিংবা গোরস্থানেও স্থান সংকুলান হচ্ছেনা। শত শত মৃতদেহ নদিতে ভাসছে।

কোভিডের টিকা আসলেও কিছু দেশ বেশীর ভাগ টিকা কিনে নিয়েছে আর কিছু দেশ এখনো কিছুই পায়নি কিংবা অল্প টিকা পেয়েছে। ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র এই ৩টি দেশ টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে অন্য সকল দেশকে পিছনে ফেলে দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে। ইসরায়েলের মানুষ এখন অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রও দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবার আশায় দিন গুনছে। এমতাবস্থায় আয়ারল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের শ্লথগতির শিকার হয়ে টিকা প্রদানে পিছিয়ে আছে। আশা করা যায় দ্রুতই দেশটি টিকা প্রদানে সফল হবে। বাংলাদেশ টিকা নিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় যথেষ্ট এগিয়ে থাকলেও ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের সময়মত টিকা প্রদানে ব্যর্থতার জন্য বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে চীন এবং রাশিয়ার সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। কবে নাগাদ টিকা পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে কোন ধারনা এখনো পাওয়া যায়নি।

এই প্রেক্ষাপটে গত বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে এবং সমগ্র বিশ্বে ঈদ উৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছে ভিন্ন আবহে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশে জনগণকে যার যার স্থানে থেকে ঈদ উদযাপন করতে বলা হলেও  পথে ঘাটে হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে, এর ফলে গ্রামে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়েছে। যারা শহর থেকে গ্রামে গেছেন তাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকাটা কাম্য, সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মেনে চলা আবশ্যক। এছাড়া দেশের সর্বত্র ঈদের জামাতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

Five die on overcrowded ferry as Bangladeshis defy coronavirus lockdown for  Eid holiday | South China Morning Post

আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অনেক সমস্যা আছে, আছে অনেক জটিলতা। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন জাতীয় উৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ যুক্ত হন, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রিয়জনকে নতুন পোশাক ও উপহার দিয়ে থাকেন। যারা সারা বছর জীর্ণ পোশাকে থাকেন, তারাও ঈদের দিনে সন্তানদের গায়ে নতুন পোশাক পরাতে চান। কিন্তু করোনার কারণে এসব থেকে বঞ্চিত থাকবেন অনেকেই অথচ ঈদের আনন্দ কেবল একা ভোগ করার নয়, গরিব-দুঃখী মানুষকে তাতে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক। করোনা মহামারির কারণে যারা বিপাকে পড়েছেন, সামর্থ্যবানদের দায়িত্ব তাদের পাশে থাকা। ঈদ উদযাপনের সময় আমাদের এ কথাটিও মনে রাখতে হবে। ঈদের ছুটিতে বিশেষভাবে হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ জরুরি সেবা কার্যক্রম যেন বিঘ্নিত না হয়। উৎসব-আনন্দে সংশ্লিষ্টরা যেন দায়িত্বের কথা ভুলে না যান।

ঈদ আসে সাম্যের বার্তা নিয়ে। আমাদের অনেকেই আনুষ্ঠানিকতাকে বড় করে দেখেন এর মর্ম অনুধাবন করেন না। ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে আনন্দ, সম্প্রীতির এবং সহিষ্ণুতার বড় অভাব। তা সত্ত্বেও ঈদুল ফিতরের আনন্দ আমরা সকলেই ভাগাভাগি করে নেবেন, এটাই প্রত্যাশা। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।


SHARE THIS ARTICLE