ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইব্রাহিম রাইসির বিজয়

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ ইরানের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ধর্মীয় নেতা ইব্রাহিম রাইসিকে গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। ইব্রাহিম রাইসির এই বিজয় পূর্ব থেকেই ধারনা করা গিয়েছিলো।

শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সঠিক কত শতাংশ ভোট প্রদান করেছেন জানা না গেলেও, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সূত্র থেকে জানা গিয়েছে ইতিমাধ্যে ৯০% ভোট গননা শেষ হয়েছে এবং এই গননায় ইব্রাহিম রাইসি ৬২% ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য তিনজন তাদের পরাজয় মেনে নেয়ার ঘোষণা প্রদান করেছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য তিনজন আগেভাগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানী বলেন, “আমি নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিদ্বন্দ্বীকে অভিনন্দন জানাই। আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন আমরা পরে জানাবো তবে আমরা ইতিমধ্যে জানি কোন প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ের জন্য যথেষ্ট ভোট পেয়েছেন।” অন্য দুজন কট্টরপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী মোহসিন রেজাই এবং আমির হোসেন কাজিজাদেহ হাশেমি খোলাখুলিভাবে ইব্রাহিম রাইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আর সংস্কারবাদি নেতা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুন নাসের হেমাতিও বিজয়ী প্রার্থিকে অভিনন্দন জানিয়ে ফলাফল মেনে নিয়েছেন।

ইরানের এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতার জন্য দীর্ঘ তালিকা থাকলেও সর্বোচ্চ গার্ডিয়ান কাউন্সিল থেকে মাত্র সাতজনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দিলে এবারের নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ অন্যবারের তুলনায় ছিল নগণ্য। গতবারের নির্বাচনে ৭০% ভোটার ভোট প্রদান করলেও এবারের নির্বাচনে ৫০% এর কম ভোটার ভোট কেন্দ্রে এসে প্রত্যক্ষ ভোট প্রদান করেন বলে জানা গিয়েছে।

৬০ বছর বয়স্ক ইব্রাহিম রাইসি এখনো ইরানের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান এবং তার পাগড়ির কালো রং জানিয়ে দেয় যে তিনি ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ আঃ) এর বংশধর। তিনি আগামী আগস্ট মাসে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানীর নিকট থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। ধারনা করা হয়ে থাকে যে নির্বাচিত নূতন প্রেসিডেন্ট ইরানের ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনীর কাছের মানুষ।

এদিকে দায়িত্ব পেলে ইব্রাহিম রাইসিকে ইরানের একটি ভঙ্গুর এবং অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থাকে মোকাবেলা করতে হবে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে ইরানের করা আন্তর্জাতিক একটি চুক্তি থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেরিয়ে এসে ইরানের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে ইরানের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমেরিকার নূতন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসার পর অনেকেই এই অবস্থার উত্তরণ আশা করেছিলেন কিন্তু তা এখনো হয়ে উঠেনি। এখন দেখতে হবে নূতন প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাইসি এই অবস্থাকে কিভাবে মোকাবেলা করেন।

ইব্রাহিম রাইসি জন্মস্থান হচ্ছে ইরানের দ্বিতীয় ধর্মীয় পীঠস্থান মাশাদ। বর্তমান ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিও এই শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে যখন ১৯৭৯ সালে ইরানে বিপ্লব সংগঠিত হয় তখন রায়েসিকে প্রসিকিউটার জেনেরেলের দায়িত্ব দিয়ে কারাজ শহরে এবং পরে তেহরানে পাঠানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান এবং ২০১৭ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়েছিলেন।

পশ্চিমা বিশ্ব ইব্রাহিম রাইসির এই বিজয়কে সুনজরে দেখছেনা যার আভাস প্রতিটি পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গার্ডীয়ান পত্রিকায় গতকালের শিরোনামে তাকে কট্টর এবং গণহত্যার সাথে সংযুক্ত বলে প্রকাশ করা হয়। এমনকি বি বি সির প্রতিবেদনেও তাকে গণহত্যার সাথে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইব্রাহিম রায়েসি হবেন ইরানের প্রথম প্রেসিডেন্ট যার উপর ২০১৯ সালে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা আরোপিত আছে।

SHARE THIS ARTICLE