
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ কোভিডের সংক্রমণ আবার বাড়ছে বাংলাদেশে। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার নূতন করে সংক্রমিত হচ্ছেন আর মৃত্যুবরণ করছেন ৮০ জনের মত। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট ১৩ হাজার ৭৮৭ জনের মৃত্যু হলো। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আরও ৫ হাজার ৭২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হলো ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৭ জনের। বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৮ হাজার ২৫৬টি। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ।
পূর্বের তুলনায় ঢাকায় কোভিডের সংক্রমণ বেড়ে গেছে অনেক। করোনা রোগীর অতিরিক্ত চাপে কুর্মিটোলা সহ ঢাকার বেশ কয়েকটি সরকারি হাসপাতালে শয্যা পাচ্ছেন না রোগীরা। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে একটি শয্যার জন্য। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য শয্যা রয়েছে ২৭৫টি। তবে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা তিনশর বেশি। এ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা রয়েছে ১০টি। ফাঁকা নেই একটিও। ফাঁকা নেই ১৫টি হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচ ডি ইউ) শয্যাও। গত কয়েকদিনে বেড়েছে রোগীর চাপ। শয্যা কিংবা আইসিইউতে সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের জায়গা হচ্ছে মেঝেতে। গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রেও আইসিইউ শয্যা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানী ঢাকার করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। গত চার দিনে সংক্রমণের হার বেড়েছে দ্বিগুণ। গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ৩ শতাংশ। কয়েকদিন ধরেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ঢাকার সংক্রমণ। এই সংক্রমণ রোধে কঠোরভাবে বিধিনিষেধ প্রতিপালন ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অনেকে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে দেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে সংক্রমণ বাড়লেও এখন সারাদেশেই আশঙ্কাজনক হারে সংক্রমণ বাড়ছে। আইসিডিডিআরবির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বর্তমানে ঢাকা শহরে করোনা সংক্রমণের ৬৮ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে হচ্ছে। এই ভ্যারিয়েন্টের কারণেই সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমণের গতি উর্ধমুখী। রোগী শনাক্তের হার বাড়ার পাশাপাশি রাজধানীর কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড়ও বাড়ছে। প্রতিদিনই আগের দিনের তুলনায় ভর্তি হতে যাওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আইসিইউগুলোতে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে।
সারাদেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাজধানীর সঙ্গে সারাদেশকে বিচ্ছিন্ন করতে মঙ্গলবার থেকে আশপাশের সাত জেলায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সড়ক, রেল ও নৌপথ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে করে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে বিমান চলছে, মানুষ ভিন্ন পথে চলাচল করছে।

মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ অসীম কুমার নাথ বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন করে করোনা রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আমাদের সাধারণ ৩০০ বেডের মধ্যে মঙ্গলবার বেডে রোগী আছে ১২৯ জন। সোমবার ছিল ১২১ জন, রবিবার দিন ছিল ১১৫ জন। এছাড়া ২৪টি আইসিইউ (ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট) বেডে ২৩ জন রোগী ভর্তি আছেন।
রাজধানীর উত্তরায় কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারী হাসপাতালে। ২২ দিনের ব্যবধানে হাসপাতালটিতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বুধবার সকালের দিকে হাসপাতালটির জরুরী শাখা থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক জানিয়েছেন সপ্তাহের ব্যবধানে আইসিইউ বেডের ওপর চাপ বেড়েছে। চালু থাকা ১০টি আইসিইউ বেডেই রোগী ভর্তি রয়েছে। পরিস্থিতি অনেকটা আগের মতো ভয়াবহ হওয়ার পথে। এখনই আমাদের সবাইকে সাবধান হতে হবে। হাসপাতালের জরুরী শাখা সূত্র জানায়, চলতি মাসের ১ তারিখ ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২৮ জন। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৬৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। পাশাপাশি ১০ জন রয়েছেন আইসিইউ বেডে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, সারা দেশে দ্রুত লক ডাউনের সিদ্ধান্ত না নেয়া হলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং টিকা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে একবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ভারতের মত অবস্থা এড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ জনকণ্ঠ, সমকাল, ঢাকাপোস্ট, ডেইলি স্টার