
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ জম্মু-কাশ্মীরের এবং লাদাখের ভবিষ্যত রাজনৈতিক অবস্থান কি হবে সেই লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লীতে সাড়ে তিন ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ অঞ্চলের ভারতপন্থী ১৪ দলের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ বর্তমান কেন্দ্র শাসিত ব্যাবস্থা রহিত করে রাজ্য সরকার ব্যাবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে দেবার দাবি উত্থাপন করেছেন।
২০১৯ সালের দিল্লী সরকার কর্তৃক আরোপিত কেন্দ্রীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে মধ্যমর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে বিভাজিত দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল (Union Territory) জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ফিরে আসার লক্ষ্যে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হয়।
প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (পি টি আই) জানায়, ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে প্রদানকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্য্যাদা প্রত্যাহার করে ২০১৯ সালে ৫ই আগস্ট এই অঞ্চলকে দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে রূপান্তরের পর এই প্রথম এধরনের একটি রাজনৈতিক আলোচনার আয়োজন করে নরেন্দ্র মোদী বলেছেন তিনি দিল্লি কি দুরী (দিল্লী থেকে দূরত্ব) আর দিল কি দুরী (হৃদয়ের দূরত্ব) অপসারণ করতে চান।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশ্য জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে এই অঞ্চলে একটি সীমা নির্ধারনী (Delimitation Exercise) প্রক্রিয়া অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, “একটি নির্বাচিত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়নের গতি জোরদার করবে। আমাদের অগ্রাধিকার জম্মু-কাশ্মীরে তৃণমূল পর্য্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। সীমা নির্ধারনী দ্রুত গতিতে হতে হবে যাতে নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, যার ফলশ্রুতিতে জম্মু-কাশ্মীর একটি রাজ্য সরকার পাবে এবং এই অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”
ন্যাশনাল কংগ্রেস দলের সভাপতি ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ এই বৈঠকের পর বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে রাজ্যটির পূর্নাংগ রাজ্যব্যাবস্থা দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে এই অঞ্চলে আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তোলার দিকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আবদুল্লাহ আরও জানান তিনি বলেছেন, “আস্থা হ্রাস পেয়েছে যা অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করা দরকার এবং এর জন্য কেন্দ্রের উচিত জম্মু ও কাশ্মীরে সম্পূর্ণ রাজ্যব্যাবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করা।”
ফারুক আবদুল্লাহর দাবির পুনরাবৃত্তি করে তার পুত্র এবং জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি যে ৫ই আগস্ট ২০১৯ তে যা করা হয়েছে তা আমরা মেনে নেইনি এবং মেনে নিতে প্রস্তুত নই, তবে আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিবোনা। আমরা আদালতে লড়বো। রাজ্যটির জনগণের সাথে বিশ্বাসে লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং এটি পুনরুদ্ধার করা কেন্দ্রের কর্তব্য।”
![Kashmiri political leaders during a news conference after their meeting on June 22 [Tauseef Mustafa/AFP]](https://www.aljazeera.com/wp-content/uploads/2021/06/000_9CU2VE.jpg?resize=770%2C513)
পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতী বলেন, “২০১৯ সালের ৫ই আগস্টের পর এই অঞ্চলের জনগণ মারাত্নক সমস্যায় পড়েছেন। তারা রাগান্বিত, বিচলিত এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা অপমানিত বোধ করছেন এবং অত্যন্ত বেদনাহত। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি যে জম্মু কাশ্মীরের জনগণ কোনভাবেই অবৈধ এবং অনৈতিক পন্থায় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের বাতিল গ্রহণ করেনি।
কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদ বলেছেন, বৈঠকে তাঁর দল পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেছে: শীঘ্র রাজ্যব্যাবস্থা পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠান, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসন, সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া এবং আবাসন বিধি পুনরুদ্ধার।
পিপলস কনফারেন্স নেতা মুজাফফর হুসেন বেগ বলেছেন যে, জম্মু-কাস্মীরের শান্তি পুনরুদ্ধারে সকলের ঐক্যমত্য আছে। উপস্থিত সকল নেতাই রাজ্য ব্যাবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তা হচ্ছে, প্রথমে সীমা নির্ধারণের প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে হবে এবং তারপরে অন্যান্য সমস্যাগুলি সমাধান করা হবে। হুসেইন বেগ বলেন, তিনি মনে করেন সভাটি সন্তোষজনক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ছিল।
বৈঠকে উপস্থিত ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন যে জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল পুনরুদ্ধার করার জন্য সীমান্তচর্চা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শাহ ট্যুইট করেছেন, “আমরা জে ও কাশ্মীরের সর্বাত্মক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ … পার্লামেন্টে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুসারে রাজ্য সরকার ব্যাবস্থা পুনরুদ্ধার করার জন্য সীমা নির্ধারন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”

তথ্যসূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এন ডি টি ভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া