
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দিতে এর রানওয়ে ১৭০০ ফুট বাড়ানো হচ্ছে। সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরুদ্ধার করে কক্সবাজার বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণের একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
এই কাজ সম্পন্ন হলে ১০ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়েতে অনেক বড় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে। এটি কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পথ সুগম করবে। এর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হবে সামুদ্রিক রানওয়ে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৯ আগস্ট প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন।
সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এ বিষয়ে চাংজিয়াং ইচাং ওয়াটারওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো (CYWEB) এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (CCECC) এর সাথে ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষর করে। প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ১৫৬৮.৮৬ কোটি টাকা।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা ১০মে, ২০২৪। ঠিকাদারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যদি তারা ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বরের আগে নির্মাণ শেষ করতে পারে তবে তাদেরকে অতিরিক্ত কমিশন দেওয়া হবে।
চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদার উপকূলীয় ভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মহেশখালী চ্যানেলের দিকে বিদ্যমান ৯ হাজার ফুট রানওয়েকে আরও ১৭০০ ফুট প্রসারিত করবে।
ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা জানান, সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি ক্যাবের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই কর্মী সংগ্রহ করেছিল। সাইট অফিস, রোড নেটওয়ার্ক, জেটি এবং কংক্রিট ব্যাচিং প্লান্টসহ অস্থায়ী সুবিধার বিস্তারিত নকশা এবং নির্মাণ এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ক্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
কর্মকর্তারা বলেন, ‘উপকূলীয় ভূমি পুনরুদ্ধার করে একটি দর্শনীয় রানওয়ে নির্মাণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে থাকবে একটি এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম স্থাপন, নিরাপত্তা দেয়াল এবং বাকখালী নদীর উপর একটি সেতু।’
২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প এই প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি এয়ারলাইন হাবে রূপান্তর করা। সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে দেশি-বিদেশি ভ্রমণকারীরা সরাসরি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজার পরিদর্শন করতে পারবেন।’