
আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ ইউরোপের সবচেয়ে বড় অভিবাসী কেন্দ্র গ্রিক দ্বীপ সামোসের একটি অভিবাসী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫৫০ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এবার গ্রিসে আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠানো হচ্ছে নতুন একটি ক্যাম্পে, যার কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর রয়েছে।
রাত ৮টায় বন্ধ হয়ে যাবে জেরভৌয়ের সদর দরজা ও এই সময়ের পরে কেউ ফিরলে তাদের জন্য রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থাও।
শুধু তাই নয় এজিয়ান সাগরের দ্বীপ সামোসে অবস্থিত জেরভৌ ক্যাম্পের চারদিক দিয়ে মোড়া দুই স্তরের কাঁটাতারে। সাথে রয়েছে সার্বক্ষণিক ক্যামেরার নজরসহ এক্সরে স্ক্যানার ও চৌম্বকীয় দরজা।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে চালু হওয়া নতুন শিবির জেরভৌ ক্যাম্পে সোমবার প্রথম ভাগের আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ক্যাম্পটি গ্রিসের অন্যান্য শিবিরের তুলনায় বেশি নিরাপদ হওয়ায় এখানে অপরাধপ্রবণতা কম হবে বলে মনে করছে গ্রিস কর্তৃপক্ষ।
এই ক্যাম্প আসলে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য একটি কারাগারের সমান বলে বলে অভিযোগ করেছে অভিবাসীরা।
একই অভিযোগ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারাও বলছেন, এই ধরনের বদ্ধ পরিবেশ বাসিন্দাদের জন্য কারাগারের সমান হয়ে উঠতে পারে।
জানা গেছে, ইউরোপের সবচেয়ে বড় অভিবাসী কেন্দ্র গ্রিসের মোরিয়া শিবির আগুনে পুড়ে গেলে এই জেরভৌ শিবির গড়ার কাজ চালু হয়। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে বাসস্থানচ্যুত হন ১২ হাজার মানুষ। গোটা বিশ্বের নজর পড়ে এই দ্বীপের ওপর যেখানে একদিকে দেখা যায় শরণার্থী সংকটের জ্বলন্ত চিত্র।
পূর্ব সামোসের মেয়র জর্জিও স্টানটজোস বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘অভিবাসনের সম্ভাব্য নতুন ঢেউ নিয়ে আমরা চিন্তিত, যা হয় আফগানিস্তান থেকে নতুন মানুষের ঢল বা তুরস্কে বসবাসকারীদের থেকে এখানে আসতে পারে।
যদিও বিশালাকারের এই ক্যাম্প দেখে মনে ভয় জাগতে পায়েরে অনেকের, মানেন মেয়রফ স্টানটজোস, কিন্তু এটা অন্য ক্যাম্পের তুলনায় ’কম ক্ষতিকর’ বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে অভিবাসীদের স্থানান্তর নিয়ে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার কর্মীরা বলছেন, এই ক্যাম্পে রাত্রিকালীন কার্ফু ও আটককেন্দ্র থাকা আসলে গ্রিস রাষ্ট্রের অভিবাসনের প্রতি মনোভাবকে ব্যক্ত করে। কীভাবে এই ব্যবস্থায় বিশ্বের অন্যতম দুর্বল ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ বাস করছেন, তারই উদাহরণ গ্রিসের এই ক্যাম্প বলে জানান তারা।
এক নজরে জেরভৌ ক্যাম্প
নতুন করে নির্মিত এই ক্যাম্পের প্রবেশের মুহূর্তে আশ্রয়প্রার্থীদের দেখা যায় চৌম্বকীয় দরজার সামনে দাঁড়াতে। সেই দরজার পাশ কাটিয়ে বেরলে ধরা পড়ে যায় যে কোনো অস্ত্র বা ধারালো ধাতব বস্তু।
প্রবেশের পর, বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ধোয়া বিছানার চাদর, চৌম্বকীয় কার্ড ও আঙুলের ছাপ পরীক্ষার যন্ত্র, যা ব্যবহার করে ক্যাম্পে যাওয়া আসা করতে পারবেন তারা। গ্রিসে এই শিবিরের আদলে আরো কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন
গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের আশ্রয়বিষয়ক সম্পাদক মানস লোগোথেটিস।
এএফপিকে তিনি জানান, যে সকল অভিবাসনপ্রত্যাশীর আশ্রয় আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন বা যাদের আবেদন খারিজ হয়েছে, তাদের রাখার জন্যেও এই শিবিরে রয়ছে একটি আটককেন্দ্র। গোটা শিবির থেকে আসা যাওয়া করতে ব্যবহৃত হবে আঙুলের ছাপযুক্ত চৌম্বকীয় কার্ড।