প্রস্তাবিত নামের তালিকা প্রকাশ করবে সার্চ কমিটি

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে প্রস্তাব করা নামের তালিকা প্রকাশ করবে সার্চ কমিটি। তবে প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ করা হবে না। এছাড়া যেসব রাজনৈতিক দল এখনো কোনো প্রস্তাব করেনি, তারা আজ বিকাল ৫টার মধ্যে নাম জমা দিতে পারবে।


গতকাল সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির সঙ্গে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের তৃতীয় ধাপের বৈঠক হয়। বৈঠক শুরুর আগ মুহূর্তে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান কমিটির প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
বৈঠক শেষে আলোচনার বিষয়বস্তু গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, নাম জমা দেয়ার সময় শেষ হওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটিতে আসা নামগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তবে প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ করা হবে না।


সচিব আরো বলেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যারা এখন নামের তালিকা জমা দেয়নি, তারা সোমবার বিকাল ৫টার মধ্যে ই-মেইলে ইসির জন্য প্রস্তাবিত নাম দিতে পারবে। শুধু রাজনৈতিক দলগুলো এ সুযোগ পাবে। আগামীকাল বিকালে সার্চ কমিটির পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সভাপতিত্বে গতকাল বিকাল সোয়া ৪টা নাগাদ শুরু হয় বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে সার্চ কমিটির তৃতীয় বৈঠক। এ ধাপের বৈঠকে ২৩ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অংশ নেন ১৮ জন। বৈঠক শেষে লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, যত নামই আসুক, সবার সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে। সময়সীমার বাধ্যবাধকতার জন্য অযোগ্য লোক যেন দায়িত্ব না পায় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। প্রধানত নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর জোর দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সার্চ কমিটিকে সব নাম প্রকাশ করার কথা বলেছি। আমাদের অবস্থান হলো যিনি নির্বাচিত হবেন তাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের হতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে, বাংলাদেশের সংবিধানে বিশ্বাস করতে হবে। দুর্নীতি থেকে শুরু করে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড থাকতে পারবে না।


স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রশ্নে রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব নেয়ার ক্ষেত্রে আপত্তির কথা জানিয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীন নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলের প্রস্তাব নিতে আমার আপত্তি আছে। আমি কোনো দলের প্রস্তাব নিতে চাই না। কোনো দল যদি কারো নাম প্রস্তাব করে তাহলে তিনি যত ভালোই হন না কেন তার ওপর ওই দলের একটা ছাপ পড়ে যায়। তাই দলগুলো থেকে নামের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন তিনি।


সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার জানান, তিনি বৈঠকে কোনো প্রস্তাব দেননি বরং কতগুলো মতামত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, এর ওপর মানুষের আস্থা নেই। এ বিশ্বাস ফেরাতে যে ধরনের মানুষ প্রয়োজন তাদের খুঁজে বের করতে হবে।


শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমরা প্রস্তাব করেছি, যিনি নির্বাচন কমিশনার হবেন, তাকে অন্যান্য গুণের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ হতে হবে। আজ যারা উপস্থিত ছিলেন সবাই একবাক্যে এটাই বলেছেন। নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি যে পরিশ্রম করছে, এটা দেখে আমরা খুশি। এই প্রথম দেশে এত সুন্দর একটি প্রক্রিয়ায় কাজটা হচ্ছে, সেটা দেখে ভালো লাগছে।


গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দেশে এখনো স্বাধীনতাবিরোধী লোক আছে। তারা একজন স্বাধীনতার পক্ষের মানুষকে গ্রহণ করবে না। কাজেই সর্বজনগ্রহণযোগ্য কথাটা একটু জটিল। আমরা সার্চ কমিটিকে বলেছি, আপনারা ভয় পাবেন না। আপনারা বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকেন। কে কী বলছে, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।


মুক্তিযুদ্ধের বিষয় নিয়ে কোনো আপস না করার কথা উল্লেখ করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদও। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বচ্ছতার জন্য তিন ধাপে নাম প্রকাশ করতে হবে। সার্চ কমিটিতেও স্বচ্ছতা আনতে হবে।


আজ শেষ হচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম আইন অনুযায়ী ইসি গঠিত হচ্ছে। গত ২৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল ২০২২ জাতীয় সংসদে পাস হয়। আর ইসি গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এই কমিটি ১০ জনের নাম প্রস্তাব করার পর সেখান থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি।

SHARE THIS ARTICLE