টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের চীনের প্রেসিডেন্ট হলেন শি জিনপিং

আইরিশ বাংলাপোষ্ট ডেস্কঃ টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের চীনের প্রেসিডেন্ট হলেন শি জিনপিং। শুক্রবার (১০ মে) দেশটির ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে (সংসদ) তার প্রেসিডেন্ট পদের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ১৯৪৯ সালের পর দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘ সময় শাসন করার রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন শি।

গত বছরের অক্টোবরে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শি। ওই সময়ই নিশ্চিত হয় তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন তিনি। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্ব পেলেন পারমাণবিক শক্তি সমৃদ্ধ দেশটির এ নেতা।

জানা গেছে, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে ২ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়েছেন শি জিনপিং। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আইনপ্রণেতারা উঠে দাঁড়ান এবং শির পক্ষে হাততালি দেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার অনুমতি দেয়। এর আগে সংসদে ২০১৮ সালেও সর্বসম্মতিক্রমে জিতেছিলেন তিনি।

গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, দ্রুতই লি কিয়াংকে চীনের প্রধানমন্ত্রী বানানো হবে। শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন লোক তিনি। চীনের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিসহ নানান বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে এসব পরিবর্তন করে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট শি, বর্তমানে প্রায় সব সিদ্ধান্তই তিনি নেন।

তৃতীয় মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন শি জিনপিং - CPLUSTV.NEWS

উল্লেখ্য, চীনের প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আলংকারিক। মূল ক্ষমতাবান হলেন পার্টি চেয়ারম্যান ও সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। আর এ দুটি পদেই রয়েছেন শি। এর আগে, গতবছর ২২ অক্টোবর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সম্মেলনে শি জিনকে দলের মূল নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে, যা মাধ্যমে ক্ষমতায় বসা পাকাপোক্ত হয় তার।

শি জিনপিং প্রথমবার যখন ক্ষমতায় আসেন তখনো চীনের সংবিধানে ছিল, কেউ দুই মেয়াদ অর্থাৎ ১০ বছরের বেশি সময় প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন না। কিন্তু সংবিধান পরিবর্তন করে এ বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়। মূলত নিজের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে এ উদ্যোগ নেন শি।

৬৯ বছর বয়স্ক শি ২০১২ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন। মাও সেতুংয়ের পর তিনিই চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি যেকোনো সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জারকে সরিয়ে দিয়ে তার সমর্থদকের দিয়ে দলভারী করেন বলে বলা হয়ে থাকে।

SHARE THIS ARTICLE